আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ২০১৯–২০ আই লিগ ট্রফি উঠল মোহনবাগান কর্তাদের হাতে। বাইপাসের ধারে একটি পাঁচতারা হোটেলে আই লিগ সিইও সুনন্দ ধরের উপস্থিতিতে মোহনবাগানের হাতে ট্রফি তুলে দিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইএফএ সচিব জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এবং মোহনবাগানের শীর্ষকর্তারা। ছিলেন ক্লাব সভাপতি টুটু বসু। 
ট্রফি উন্মোচনের অনুষ্ঠানে সবুজ–মেরুনকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন আই লিগ সিইও সুনন্দ ধর। বললেন, ‘‌এত বছর ভারতীয় ফুটবল দেখছি। ২০১৯–২০ মরশুমে মোহনবাগান যে ফুটবলটা খেলেছে, তার থেকে ভাল ফুটবল ভারতে এর আগে দেখা যায়নি। এক নম্বর দল হিসেবে ভারতসেরা হয়েছে সবুজ–মেরুন। এবছর মোহনবাগান ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছে। আমরা চাইব, ওঁরা যেভাবে ভারতসেরা হয়েছে, সেভাবেই এশিয়ার সেরা হোক।’‌ রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বললেন, ‘‌মোহনবাগান শুধু আই লিগ জেতেনি। বাংলাকে তাঁরা দেশের সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ভারতে ফুটবলের পথিকৃৎ যদি কেউ থেকে থাকে, সেটা হল মোহনবাগান।’‌ ক্রীড়ামন্ত্রী মারফৎ সবুজ–মেরুনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মোহনবাগান সভাপতি স্বপনসাধন বসু এই আনন্দের দিনে নিজের প্রিয় বন্ধু অঞ্জন মিত্রকে স্মরণ করলেন। সেই সঙ্গে সমর্থকদের কাছে অনুরোধ রাখলেন, দয়া করে এই ঐতিহাসিক ক্লাবকে কালিমালিপ্ত করবেন না। চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু। শুভেচ্ছাবার্তায় মমতা লেখেন, ‘‌মোহনবাগানকে আই লিগ জয়ের জন্য অসংখ্য অভিনন্দন। সবুজ–মেরুন ব্রিগেড অসাধারণ মাইলস্টোন স্পর্শ করেছে। আইএসএল অভিযানের জন্য তাঁদের অনেক শুভেচ্ছা।’‌ এরপর এদিন সন্ধেয় টুইট করে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। লেখেন, ‘‌‌আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য মোহনবাগান খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ, সভ্য–সমর্থকদের অসংখ্য অভিনন্দন। এটা খুবই আনন্দের দিন।’‌ এরপর টুইট করেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী ‌কিরেন রিজিজুও।


গত ১০ মার্চ আই লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ নিশ্চিত করে ফেলেছিল মোহনবাগান। ৪ এপ্রিল ক্লাবের শেষ হোম ম্যাচে যুবভারতী থেকে ট্রফি নিয়ে শোভাযাত্রা করে চ্যাম্পিয়নশিপ সেলিব্রেশন করার কথা ছিল কর্তাদের। কিন্তু করোনার জেরে ভেস্তে যায় সমস্ত পরিকল্পনা। তারপর ৭ মাসের প্রতীক্ষা। অবশেষে কলকাতার রাজপথকে সবুজ–মেরুনে রাঙিয়ে দেওয়ার দিন। আজ অর্থাৎ রবিবার ভারতসেরা ট্রফি হাতে পেল মোহনবাগান। হাজারো সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটিয়ে সেই ট্রফি নিয়ে শুরু হয়ে গেল সমর্থকদের ভিকট্রি সেলিব্রেশন। আগামী দু’‌দিন এই সেলিব্রেশন চলবে শহরজুড়ে। 
রবিবার হায়াত রিজেন্সি থেকে ট্রফি নিয়ে শোভাযাত্রা করে উল্টোডাঙ্গা, খান্না, এপিসি রোড ধরে ফড়িয়াপুকুর, শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়  থেকে হাতিবাগান, হেদুয়া, বিবেকানন্দ রোড, গিরীশ পার্ক, সিআর অ্যাভিনিউ, ধর্মতলা হয়ে পৌঁছবে মোহনবাগান ক্লাবে। ছুটির দিনে হাজারো হাজারো বাগান সমর্থক বাড়ির যাবতীয় কাজ ফেলে শোভাযাত্রায় সামিল। 
বাইপাস সংলগ্ন পাঁচতারা হোটেল থেকে ময়দানের ক্লাব তাঁবু, যাত্রাপথ ধরে বাতাসে উড়ল আবির, দুলল পতাকা। চলল গান। সমর্থকদের ঠাসাঠাসি ভিড় উড়িয়ে দিল কোভিড সতর্কতা। হল যানজটও। অনেক সময়েই থমকে গেল শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তবে এই দিনটাই তো আলাদা, একেবারে অন্যরকম। এ হল শহরের ফুটবলপুজোর দিন। পুজোর দিনে তো সব কিছু মেনে নেওয়াই যায়।
হোটেলের গেট থেকে সুসজ্জিত গাড়িতে আই লিগ যখন বেরিয়ে এল রাজপথে, দু’পাশে তখন শুধুই সবুজ–মেরুন জার্সি। গেটের ওপাশে সমর্থকদের ভিড়। বারবার উঠল জয়ধ্বনি। রাস্তার কোথাও দেখা গেল মস্ত বড় পতাকা। কোথাও হল ছোট্ট অনুষ্ঠান। সারাক্ষণই বাজল গান। উল্টোডাঙ্গার এক ফ্যান ক্লাব যেমন নতুন এক গানই তৈরি করেছে মোহনবাগানের আই লিগ জেতাকে নিয়ে। এই করোনার সময়েও মোহনবাগান জনতা দেখিয়ে দিলেন সবুজ–মেরুন আবেগের সামনে তুচ্ছ বাকি সব কিছু। সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধকে অগ্রাহ্য করে আবেগে মাতল ফুটবলনগরী।
সবুজ মেরুনের যিনি হেডস্যার ছিলেন, সেই কিবু ভিকুনা গোয়ায় রয়েছেন কেরালা ব্লাস্টার্সের কোচ হয়ে। তিনি সমর্থকদের কাছে অনুরোধ করেছেন, উৎসবের ছবি যেন তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top