আজকালের প্রতিবেদন- ডামাডোলের মোহনবাগানের নতুন মরশুমের অনুশীলনের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেল। শোনা যাচ্ছে, ২ জুলাই থেকে নতুন মরশুমের প্র্যাকটিস শুরু হওয়া নিয়ে আলোচনা হয় মঙ্গলবারের বৈঠকে।
মিটিংয়ে কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী কর্তাদের কাছে একজন ডিফেন্ডার ও দু’‌জন মিডফিল্ডার নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু দলবদলের ভাঙা বাজারে নতুন তিন ফুটবলারকে সই করানো কর্তাদের কাছে অবশ্যই চ্যালেঞ্জের। চুক্তিবদ্ধ ২৫ জন ফুটবলার ছাড়া এই তিনজন ফুটবলারকে নেওয়া হতে পারে।
মঙ্গলবার নতুন মরশুমের কোচ–ফুটবলারদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন ফুটবল সচিব স্বপন ব্যানার্জি। সেই সভায় হাজির ছিলেন অন্যান্য কার্যকরী কমিটির সদস্যরাও। কিন্তু সচিব অঞ্জন মিত্র উপস্থিত ছিলেন না। কোচ শঙ্করলালের পাশাপাশি হাজির ছিলেন গোলরক্ষক কোচ অর্পণ দে। সভায় আসন্ন কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শপথ নেন কোচ–ফুটবলাররা। বৈঠকে ফুটবলারদের সামনে বক্তব্য পেশ করেন ফুটবল সচিব। ফুটবলারদের তিনি বলেন মরশুম চলাকালীন কোনও সমস্যা হলে মন খুলে তঁাকে জানাতে। 
প্রায় এক মাস আগে বাগানের মরশুম শেষ হলেও কলকাতাতেই বসে ছিলেন বিদেশি কিংসলে, ডিপান্ডা ডিকারা। পেমেন্টের আশায়। এদিনের বৈঠকে ফুটবলারদের আশ্বস্ত করা হয়, দু–একদিনের মধ্যেই পেমেন্টের চেক ফুটবলারদের অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে। মিটিংয়ের শেষে মোহনবাগানের লিমিটেড কোম্পানির ম্যানেজার সুমন ঘোষের তরফে গত মরশুমের ফুটবলারদের মোট বকেয়ার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব তুলে দেওয়া হয় স্বপন ব্যানার্জির হাতে। সেই কাগজ দেখতে দেখতে স্বপন বলেন, ‘আশা করছি, বুধবার থেকেই প্লেয়ারদের পেমেন্ট শুরু হয়ে যাবে। গত মরশুমের ফুটবলারদের বকেয়ার পরিমাণ ৭৬ লাখ টাকা।’
মিটিং শেষে ফুটবলারদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনও রাখা হয়েছিল। সভায় বেতন পাওয়ার প্রতিশ্রুতি শুনে স্বস্তিতে তঁাবু ছাড়ছিলেন ফুটবলাররা। এদিন এসেছিলেন ১১ জন ফুটবলার। ডিপান্ডা ডিকা বলছিলেন, ‘এই মিটিংয়ের জন্যই কলকাতায় থেকে গিয়েছিলাম। খুব শিগগিরই দেশে ফিরব। আমার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা।’ কিংসলে বলছিলেন, ‘কর্তারা বলেছিলেন মাইনে পেয়ে যাব। ক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটু চিন্তায় ছিলাম। তবে ও সব কর্তাদের ব্যাপার। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি তা মিটে যাবে।’
সভায় হাজির ছিলেন প্রাক্তন ফুটবলার শিশির ঘোষ। এদিনের সভায় আলোচনা হয়, প্রাক্তনদের নিয়ে নতুন করে ফের টেকনিক্যাল কমিটি তৈরি করা হতে পারে। স্বপন ব্যানার্জি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সে কথা খোলসা করলেন না, শুধু বললেন, ‘টেকনিক্যাল কমিটি থাকা উচিত। সিনিয়র প্লেয়ারদের নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই।’ শিশির ঘোষ জানান, কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা হয়েছে। দরকার হলে পরামর্শ দিতে পারেন। শিশির ঘোষকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ক্লাবে আপনার ভূমিকাটা কী? উত্তরে শিশির বলেন, ‘প্রথম দিনই ভূমিকার কথা জানতে চাইলে কী করে হবে? কোনও গোষ্ঠীর কথা বলতে পারব না, মোহনবাগান ক্লাব আমাকে ডেকেছে, তাই আমি এসেছি। এর বাইরে কিছু জানি না।’ সাংবাদিকদের বেশির ভাগ প্রশ্নই এড়িয়ে গিয়ে শুধু বলেছেন, ‘আমন্ত্রণী সদস্য হিসেবে ক্লাবে এসেছি। যা বলার কর্তারা বলবেন।’‌‌‌‌‌

বাগানের বৈঠকে হাজির শঙ্করলাল, শিশির। ছবি:‌ অভিষেক চক্রবর্তী
 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top