মুনাল চট্টোপাধ্যায়‌: লাজং–গাঁট ছাড়লেও চেন্নাই সিটি এখন নতুন মোহনবাগানের নয়া কাঁটা। ঘরে–‌বাইরে দু’‌বারই আটকাল তারা। 
ঘরের মাঠে ১০ জন হয়ে পড়া চেন্নাই সিটির কাছে ১–‌২ হেরেছিল মোহনবাগান। তৎকালীন চিফ কোচ সঞ্জয় সেন পদত্যাগ করেছিলেন। তারপর গড়িয়েছে অনেক জল। সহকারী থেকে চিফ কোচের দায়িত্ব নিয়ে শঙ্করলাল ডার্বি জিতে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নটা নতুন ভাবে উসকে দিয়েছিলেন শিবিরে। লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা মিনার্ভার থেকে পয়েন্টের ব্যবধান যাতে না বাড়ে সেই লক্ষ্য নিয়েই চেন্নাইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন আক্রাম, ডিপান্ডারা কোয়েম্বাটুরের মাঠে। মোহনবাগান মাঠে হারের জ্বালা জুড়োতেও দরকার ছিল জয়। সেটা এল না। নির্ধারিত সময়ের ৪ ও সংযুক্তি সময়ের ১২ মিনিট ১০ জনে খেলা চেন্নাইকে হারাতে ব্যর্থ বাগান। ৮২ মিনিটে আক্রামের পেনাল্টি বাঁচিয়ে নায়ক বদলি গোলকিপার কবীর। গোলশূন্য অবস্থায় খেলা শেষ করায় খেতাবি দৌড়ে আবার অনেকটা পিছিয়ে পড়ল বাগান। ১৩ ম্যাচে মিনার্ভার পয়েন্ট ২৯। ইস্টবেঙ্গলের ১৩ ম্যাচে ২৩। মোগনবাগানের সেখানে ১৩ ম্যাচে ২১। কোচ শঙ্করলাল কোচের ভূমিকায় এসে কৌশলে বা ছকে কোনও বদলের পথে হাঁটেননি। ডিপান্ডা আর আক্রামকে সামনে রেখে গোল তুলে নেওয়ার চেষ্টা। লাজং ম্যাচে প্রতিকূল আবহাওয়াতেও জয় এসেছিল দ্রুত গোল পাওয়ায়। এদিন কোয়েম্বাটুরের মাঠে বাগানের খেলায় আক্রমণাত্মক ঝাঁজটা থাকলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর মতো মুনশিয়ানার অভাব নজরে এসেছে বারবার। ডিপান্ডা ও আক্রামের মাঝে বোঝাপড়া ঠিকঠাক হয়নি। তা ছাড়া চেন্নাই দলেও ভারসাম্য বেড়েছে দুই বিদেশি র‌্যাকিচ ও কিম যোগ দেওয়ায়। রক্ষণে সুমেকোর না–ছোড় বান্দা মনোভাব বাগানকে গোল পাওয়া থেকে বঞ্চিত রাখে। নইলে অনেক আগেই সবুজ–মেরুন ব্রিগেড এগিয়ে যেত। ৪ মিনিটের মাথায় ডিপান্ডার পা থেকে ছিটকে আসা বল বক্সের মধ্যে ফাঁকায় দাঁড়ানো অবস্থায় বাইরে মারেন আজহার। তিনি ছন্দে নেই বুঝে কোচ শঙ্করলাল তাঁকে তুলে নামান নেপালের বিমল মাগারকে। নিখিলের জায়গায় ফৈয়াজকে নামান বাগান কোচ আক্রমণের চাপ বাড়াতে। বিরতির আগে আক্রামের সামনে গোলের সুযোগ এসেও গিয়েছিল। গোলকিপার পোয়েনেকের গায়ে বল মারেন আক্রাম। সুযোগ নষ্টের খেসারত দিয়ে নিজেদের ওপর পাল্টা চাপ ডেকে আনে বাগান। চেন্নাইয়ের জোয়াকিম জুনিয়র চারবার গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। র‌্যাকিচের দুটি ফ্রিকিকও বিপজ্জনক ছিল। গোলকিপার শিলটনের তৎপরতায় গোল হজম করতে হয়নি বাগানকে। তবে আসল নাটক বাকি ছিল ম্যাচের শেষদিকে। ৭২ মিনিটে মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন চেন্নাই গোলকিপার পোয়েনেক। তাঁর পরিবর্তে নামেন নবীন কবীর। মোহনবাগান যখন মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে গোল পেতে, তখনই ৮১ মিনিটে বক্সের মাঝে ডিপান্ডাকে ফাউল করেন তারিফ। রেফারি পেনাল্টি দেন বাগানকে। প্রতিবাদ জানাতে রেফারির দিকে তেড়ে এসেছিলেন এডুইন। তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। অবশ্য এডুইন না তারিফকে কার্ড দেখানো হয়েছিল, সে–সময় তা নিয়ে একটা চরম বিভ্রান্তি ছিল। তার জের পড়ে খেলার অন্তিম লগ্নে। আক্রামের নেওয়া পেনাল্টি ডানদিকে ঝাঁপিয়ে রোখেন গোলকিপার কবীর। ৮৬ মিনিটে ফাউলকে কেন্দ্র করে আবার রেফারির দিকে বল ছুঁড়ে অখেলোয়াড়োচিত আচরণ, গালিগালাজ করেন এডুইন। তাঁকে দ্বিতীয় হলুদ ও লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু এডুইন যেতে অস্বীকার করেন। তর্ক জুড়ে দেন তাঁর ওটা প্রথম কার্ড। তাই যদি হয় পেনাল্টির ফাউলের ক্ষেত্রে হলুদ কার্ড কে দেখেছেন?‌ তারিফ?‌ তিনি কী করে মাঠে থাকলেন দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখে?‌ এই নিয়ে বাক্‌বিতণ্ডা চলে ৫ মিনিটেরও বেশি। বাগানের দুই কর্তা সৃঞ্জয় বসু ও দেবাশিস দত্ত–সহ দু’‌দলের ফুটবলার, কোচ–‌ম্যানেজারদের দেখা যায় উত্তেজিত হয়ে রেফারির সঙ্গে তর্ক জুড়তে। রেফারিকে সাহায্য নিতে হয় সহকারীদের। এডুইনকে শেষপর্যন্ত জোর করে মাঠ থেকে বের করলে খেলা শুরু হয়। আগেই পোয়েনেকের মাথার চোটের শুশ্রূষার জন্য অনেক সময় নষ্ট হয়েছিল। ১০ জন হয়ে গেলেও রেফারির দেওয়া ১২ মিনিট সংযুক্তি সময় দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে মূল্যবান একটা পয়েন্ট ঘরে তোলে চেন্নাই। 
মোহনবাগান:‌ শিলটন, অরিজিৎ, রানা, কিংসলে, রিখি, নিখিল (‌ফৈয়াজ)‌, ওয়াটসন, রেনিয়ার (‌শিলটন ডি সিলভা)‌, আজহার (‌বিমল)‌, ডিপান্ডা, আক্রাম‌‌।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top