মুনাল চট্টোপাধ্যায়: শেষ দুম্যাচে জিতলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ ছিল ইস্টবেঙ্গলের। সেখানে লাজংয়ের পর ঘরের মাঠে যুবভারতীতে নেরোকার সঙ্গে ১–‌‌১ ড্র করে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দূরে থাক, লিগ টেবিলের প্রথম তিনেই থাকল না লাল–‌হলুদ ব্রিগেড। ৩১ পয়েন্ট নিয়ে মোহনবাগানের সঙ্গে সমান পয়েন্টে খেলা শেষ করলেও হেড টু হেডে তারা থাকল মোহনবাগানের পিছনে। সেখানে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে রানার্স নেরোকা। অথচ প্রথমার্ধে ডুডু, আমনা, জবিরা হাফ ডজন গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। বাউণ্ডুলের মতো সেগুলি নষ্ট না করলে নেরোকার ম্যাচে থাকার কথাই নয়। একইসঙ্গে প্রশংসা করতে হবে নেরোকা গোলকিপার ললিত থাপার। বর্ষীয়ান এই গোলকিপারের অভিজ্ঞতার সামনে বারবার আটকে গেল লাল–‌হলুদ ব্রিগেড প্রথম ৪৫ মিনিট। প্রশংসা করতে হবে নেরোকার লাইবেরিয়ান স্টপার কালনেরও। বারবার গোল খাওয়ার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া নেরোকাকে অক্সিজেন জোগাল ইস্টবেঙ্গল, প্রথমার্ধের শেষদিকে নিজেরাই গোল হজম করে। লাল–‌হলুদ রক্ষণের দৈন্যদশা আবার প্রকট হল এদিন লাজং ম্যাচের পর। ৪২ মিনিটে নিকোলাসের বাড়ানো বল বক্সের ভেতর ডানদিকে চিডির কাছে আসে। সেই বল ধরে চিডি সামনে দাঁড়ানো অর্ণব শরীরের ঝটকায় মাটিতে ফেলে দিয়ে ডান পায়ের আলতো পুশে হার মানান ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার উবেদকে। কোচ খালিদ এটা দেখে বলতেই পারেন, এই কারণেই অর্ণবকে মাঠে নামানোর ভরসা পাই না। সত্যি, ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ আর ছেঁড়া মশারির মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। ইস্টবেঙ্গলে আসার আগে কোচ খালিদের পরিচিতি ছিল রক্ষণ সংগঠনে মুনশিয়ানা দেখানোর জন্য। কিন্তু লাল–‌হলুদের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খালিদের সেই গুণটা উধাও। আই লিগের ১৮ ম্যাচে ১৯ গোল খেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। এতে বলে বোঝানোর দরকার পড়ে না গোটা আই লিগে নিজের রক্ষণকে কখনও জমাট করতে পারেননি কোচ খালিদ। পরপর দুটো ম্যাচে এক ডিফেন্সে ইস্টবেঙ্গল খেলছে খুব কম। ফলে বোঝাপড়াটাই তৈরি হয়নি রক্ষণে। অনেক কোচই বিশ্বাস করেন, গোল না খেলে শেষ মিনিটেও গোল করে জেতা যায়। ইস্টবেঙ্গলের সে ক্ষমতাই নেই। গোল খাওয়াটা রোগ। না–‌হলে শেষ দুম্যাচ জিতে আই লিগ জেতাটা যখন নিজেদের হাতের মধ্যে ছিল, তখন লাজং ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও গোল খাবে কেন?‌ এদিনও তো নেরোকা ম্যাচে বাজে গোল খেল। অবশ্য ডিফেন্ডাররা বলতেই পারেন, ওপরে যাঁরা খেলছেন, তাঁদের দলে ভূমিকা কী?‌ এত গোল মিস করলে রক্ষণে চাপ তো পড়বেই। সমতা ফেরানোর গোল শেষপর্যন্ত এল ৭৩ মিনিটে। চুলোভার সেন্টারে মাথা ছুঁইয়ে আই লিগে নিজের অষ্টম গোল করে ফেললেন ডুডু। ম্যাচের শেষদিকে বক্সের মধ্যে শরণ সিংয়ের হাতে বল লাগলেও রেফারি কেন পেনাল্টি দিলেন না সেটা দুর্বোধ্য।‌ হয়তো পেনাল্টি পেলে গোল করে জিতলে তিন ম্যাচের ফলের ভিত্তিতে আই লিগে চতুর্থ হতে হত না। 
ইস্টবেঙ্গল:‌ উবেদ, সামাদ, অর্ণব, এডু, চুলোভা, কাৎসুমি, রফিক (‌লোবো)‌, আমনা, জবি (‌ক্রোমা)‌, ইয়ামি (‌রালতে)‌, ডুডু‌‌

আশাভঙ্গ। হতাশ ডুডু, আমনা, অর্ণব, এডু, খালিদ। ছবি:‌ রনি রায়, রাজকুমার মণ্ডল

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top