আজকালের প্রতিবেদন- বধূ নির্যাতন‌ মামলায় স্বস্তি মহম্মদ সামির। তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আপাতত স্থগিতাদেশ দিল আলিপুর ডিস্ট্রিক্ট জাজেস কোর্ট। আগামী ২ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন বিচারপতি। ততদিন পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ জারি থাকবে।
ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮ ধারায় (‌বধূ নির্যাতন)‌ সামির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তাঁর স্ত্রী হাসিন জাহান। তদন্তের পর পুলিশ চার্জশিটও জমা দিয়েছিল সামির বিরুদ্ধে। তারপরেও সামি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে খেলছেন, এই অভিযোগ তুলে গত ২৯ আগস্ট আদালতের কাছে দ্রুত মামলাটি নিষ্পত্তির আবেদন জানান হাসিনের আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতা। গত সোমবার (‌২ সেপ্টেম্বর)‌ আদালতে মামলাটি উঠতে সামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন বিচারপতি। নির্দেশ অনুযায়ী, দেশে ফেরার ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির না হলে সামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা কার্যকর করা হত।
সমন না পাঠিয়ে সামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যথাযথ নয় বলে পরোয়ানার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে সোমবার সামির দুই আইনজীবী সেলিম রহমান ও নাজমুল আলম সরকার আদালতে হাজির হন। পুরো বিষয়টি শুনে বিচারপতি তাঁদের আবেদন মেনে নেন। পরে নাজমুল বলেন, ‘‌পুলিশ যাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয়, তাঁকে আগে সমন পাঠাতে হয়, তারপর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এক্ষেত্রে সেটা হয়নি। তাই আমরা স্থগিতাদেশের আবেদন করেছিলাম। বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায় আবেদন মেনে নিয়েছেন।’‌
হাসিনের আইনজীবী অনির্বাণের কথায়, ‘‌আমাদের না জানিয়েই সামির আইনজীবীরা আদালতে গিয়ে স্থগিতাদেশের আবেদন করেন। খবর পেয়ে আমরাও কোর্টে যাই এবং ওই মামলায় আমাদের অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করি। বিচারপতি সেই আবেদন মেনে নিয়েছেন। ফলে ২ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন আমরাও সওয়াল করতে পারব।’‌ 
গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় স্থগিতাদেশের নির্দেশে কিছুটা হতাশ হাসিন। বলেন, ‘‌কেন এই নির্দেশ বুঝতে পারছি না। তবে শেষদিন পর্যন্ত লড়াই চলবে। আমার বিশ্বাস, ন্যায়বিচার পাবই।’‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top