মহম্মদ হাবিব- চোদ্দো বছর পর একটা সুযোগ। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেই!‌ মরিয়া ব্যাপারটাই নেই!‌ এ কেমন ইস্টবেঙ্গল!‌ ভেবেছিলাম, এবার আই লিগটা বাংলায় আসবে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল–লাজং ম্যাচে এটা কী হল!‌ এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। সেই ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও ২–‌‌১ ব্যবধানে পিছিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল!‌ তারপর ২–‌‌২ ড্র। পয়েন্ট ভাগাভাগি করে কোনও রকমে মুখরক্ষা। কী লাভ?‌ এই পরিস্থিতিতে এটা একটা খেলা হল?‌ ইস্টবেঙ্গলের কাছে আরও বেশি মরিয়া লড়াই আশা করেছিলাম। অঙ্কের হিসেব মতো এখনও পুরো আশা ফুরোয়নি। নেরোকাকে হারাতেই হবে। তবে এই অঙ্কটাও নির্ভর করবে অন্য দলগুলোর ওপর। মোহনবাগানকে একটা ম্যাচ ড্র করতেই হবে। ওরা ও নেরোকা ৩১–এর বেশি পৌঁছতে পারবে না। মিনার্ভারও শেষ ম্যাচ জেতা যাবে না। কিন্তু এই অঙ্কের তো দরকারই পড়ত না, যদি আত্মবিশ্বাস আর মরিয়া ব্যাপারটার মেলবন্ধন ঘটত। 
শরীর সব সময় সঙ্গ দেয় না। নিয়ম করে তাই খেলা দেখতে পারি না। কিন্তু যেটুকু খোঁজখবর রাখি, তাতেই জেনেছিলাম কীভাবে দুটো বড় ম্যাচে হেরেও ইস্টবেঙ্গল ফিরে এসেছিল!‌ তার জন্য শাবাশি তো দেবই। কিন্তু ফিরে এসে যদি কাজের কাজটাই না করতে পারল, তা হলে ফিরে আসার মানে কী?‌ 
এবারের আই লিগে মোহনবাগানেরও কিন্তু অনেক আগেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ার কথা। বড় ম্যাচে যে দাপট দেখিয়েছিল, সেটা হঠাৎ করে হারিয়ে গেল!‌ নিজেদের ধরে রাখতে পারল না!‌ এখনও একটা আশা আছে। তবে আবার সেই অঙ্ক–‌নির্ভর। বাংলার দলগুলোর কী হল?‌ কেন বাংলার দুই প্রধানকে আই লিগ জিততে একেবারে শেষ পর্যন্ত অঙ্ক–‌নির্ভর, অন্য দলের ওপর নির্ভর করে থাকতে হবে?‌ বাংলা তো ফুটবলের মক্কা। সেখানে দিন দিন দাপট কমছে!‌ ২০১৪–১৫–তে মোহনবাগান আই লিগ জিতেছিল।  তবে বিক্ষিপ্ত একটা জয় তো বাংলার ফুটবলের পরিচয় হতে পারে না?‌ ধারাবাহিক কেন নয়?‌ তা হলে কি ডেম্পো, চার্চিল, সালগাঁওকার, বেঙ্গালুরু, আইজল— এই দলগুলো বাংলার দুই প্রধানের থেকেও ভাল ফুটবল খেলছে?‌ নতুন ফুটবলের সাপ্লাই লাইনটা কি তবে কমে গেল বাংলায়?‌ ফুটবল উৎসাহে ভাটা পড়েছে, এমন খবর তো শুনিনি। তা হলে কেন?‌
এই তো ক’‌দিন আগে চেন্নাই সিটির বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গল ৭–‌‌১ ব্যবধানে জিতেছিল। ম্যাচে ডুডুর একারই ৪ গোল। লাজং ম্যাচেও দুটো গোল সেই ডুডুরই!‌ দলের বাকিরা কোথায়?‌ দায়িত্ব নিতে, গোল করতে ভুলে গেল?‌ কেন বারবার বিদেশি–‌নির্ভর হয়ে পড়ছে বাংলার দলগুলো?‌ কেন দেশীয় ফুটবলার উঠে আসছে না?‌ তবে কি ধরে নেব বিদেশিদের মধ্যে মরিয়া ব্যাপারটা বেশি?‌ জার্সির প্রতি ভালবাসাও?‌ 
অনেক হাই ভোল্টেজ ম্যাচ আমরা খেলেছি। ম্যাচের আগে থেকেই ভাবতে শুরু করতাম। সিরিয়াস হয়ে যেতাম। সেই সময় কম্পিটিশনও টাফ ছিল অনেক বেশি। খুদাকে যেমন ভুলতে পারি না, তেমনই ভুলতে পারি না পুরনো দিনগুলো। যদি বলি এখন সেই সিরিয়াস ব্যাপারটা কমে গেছে, তা হলে কেউ কেউ হয়তো বলতে পারেন, নিজের সময়ের ফেভারে কথা বলছি। কিন্তু আমি কোনও দিন ফেভার নিইনি। এখনও নিজের কথা ভেবে একটা শব্দ বলছি না। তবে সত্যিটা অস্বীকার করতে পারব না যে বাংলার ফুটবল আর দুই প্রধানের মান কমছে। যা চিন্তার, ভাবার। এবারও যদি রকমারি অঙ্কের ফাঁসে বাংলায় আই লিগ না আসে, তা হলে দুঃখ তো হবেই। আপশোসও বাড়বে। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান মানেই তো দাপট। সেই দাপটটা হারিয়ে গেলে, একটুও ভাল লাগবে না। বাংলার ফুটবলের জন্য মোটেও সুখের খবর হবে না।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top