অগ্নি পান্ডে: ঘড়িতে ঠিক বিকেল পাঁচটা। চণ্ডীগড়ের অদূরেই পাঁচকুলার তাও দেবীলাল ফুটবল স্টেডিয়াম যেন তুমুল ভাংরার আখড়া। হবে না–ই বা কেন? জেসিটি–‌র কথা মনে আছে? প্রথমবার জাতীয় লিগ জিতেছিল পাঞ্জাবের কোনও ক্লাব। তারপর ১১ বছরের অপেক্ষা। আবার ফুটবলে ভারতসেরা পাঞ্জাবেরই আরেক ক্লাব! হ্যাঁ, যোগ্য দল হিসেবেই এবারের আই লিগ জিতল মিনার্ভা পাঞ্জাব ফুটবল ক্লাব। সেজন্যই ভাংরার লাগামছাড়া উপস্থিতি পাঁচকুলার সর্বত্র।
চিত্রনাট্য েযন তৈরি করাই ছিল। দরকার ছিল শুধু একটা জয়। সেটা নিজেদের মাঠে পাঁচকুলাতেই। তাহলেই কেল্লাফতে। তখন আর আই লিগ খেতাবের জন্য আর ক্যালকুলেটর খুলে বসতে হবে না। হ্যাঁ, সেটা মাত্র ১৫ মিনিটেই নিশ্চিত করে দিলেন এবারের আই লিগে নজরকাড়া ফুটবলার সেই চেঞ্চো। বিপক্ষ চার্চিল ব্রাদার্সের রক্ষণকে নাড়িয়ে দিলেন। ডানদিক দিয়ে যেভাবে ঢুকলেন তাতেই নড়েচড়ে শেষ হয়ে গেল আলেমাও চার্চিলের দল। জড়ামড়ি করে চেঞ্চোর শট বাঁচানোর চেষ্টা চার্চিল রক্ষণে। বল ছিটকে গিয়ে সোজা ওপোকুর সামনে। সামনে ফাঁকা নেট দেখে যে শটে গোলটি করলেন তা দেখে মনে হবে এক শটেই যেন দু’বার আই লিগ জেতার প্রবল ইচ্ছে!‌
কোনও সন্দেহ নেই যোগ্য দল হিসেবেই এবারের আই লিগ জিতল মিনার্ভা। খোগেন সিংয়ের দলকে পড়তে হল না অঙ্কের জটিলতায়। ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে। ফিরে তাকিয়ে দেখতেও হল না কলকাতার দুই প্রধানের দিকে। মিনার্ভা শুরু থেকেই ঘরের মাঠে আক্রমণে চলে গিয়েছিল চার্চিলের বিরুদ্ধে। ১৫ মিনিটের প্রথম গোলের পর জয়ের ব্যবধান আরও বাড়াতেই পারত। নেপথ্যে সেই চেঞ্চোর অসাধারণ পাসিং ফুটবল। যা চার্চিলের মাঝমাঠ ছিন্নভিন্ন করে দিল। যে দল অবনমনের লড়াই করে সেই দলের এত গা–ছাড়া মনোভাব কেন? যেখানে বেঞ্চে স্বয়ং আলেমাও বসে থাকেন।
দ্বিতীয়ার্ধে চার্চি‍লকে খানিকটা খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। বারবার আক্রমণের চেষ্টাও করলেন প্লাজারা। কিন্তু প্লাজাকে নিয়ে যে ভয় পেয়েছিলেন মিনার্ভা কোচ খোগেন সিং, সেই ভয়ের কোনও কারণ অবশ্য প্লাজার খেলায় দেখা যায়নি। ৫৬ মিনিটে  সিসের বাঁকানো শট একটুর জন্য তিনকাঠির বাইরে যায়। তৎপরতা দেখালেন কার্ডোজো। আসলে যে দল পনেরো মিনিটের মধ্যেই ‘সিল দ্য ডিল’ করে ফেলে, সেই দলকে আর পেছনে তাকাতে হয় না। তাই তো আই লিগ জেতার পর কোচ খোগেন সিং এবং প্রধান কর্তা রঞ্জিত বাজাজকে নিয়ে পাগলের মতো উচ্ছ্বাসে মেতে উঠলেন মিনার্ভার ফুটবলাররা। ম্যাচের েসরার পুরস্কার তুলে দিলেন অতীতের তারকা সুখবিন্দার, মিনার্ভার গোলকিপার কার্ডোজোর হাতে। কেন?‌ তিনি যে কয়েকটি অব্যর্থ আক্রমণ বাঁচিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করলেন।‌‌‌

আই লিগের নতুন চ্যাম্পিয়ন মিনার্ভার উচ্ছ্বাস। 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top