আজকালের প্রতিবেদন- সকাল থেকেই মোহনবাগান তাঁবু জুড়ে সদস্য–‌‌সমর্থকদের ভিড়। সব স্তরের কর্তারাও সেজেগুজে হাজির ক্লাবে নববর্ষে বারপুজোয় অংশ নিতে। সচিব টুটু বসু দেশের বাইরে। তবে ছিলেন সভাপতি গীতানাথ গাঙ্গুলি। প্রতি বছরের মতোই জাঁকজমকের কোনও অভাব ছিল না। ক্লাব আগামী মরশুমে কোন লিগে খেলবে এখনও ঠিক নেই। নতুন মরশুমের কোচ কে হবেন, কোন কোন ফুটবলার নেওয়া হবে, সেটা নিয়েও রীতিমতো ধোঁয়াশা। যাঁরা এতদিন খেলেছেন তাঁদের অনেকেরই চার মাসের মাইনে বাকি। তাতে অবশ্য সদস্য–‌‌সমর্থকদের বারপুজো ঘিরে উৎসাহে কোনওরকম ঘাটতি পড়েনি। সকালে বারপুজোয় দলের বিদেশি স্টপার কিংসলে হাজির ছিলেন। ফুটবল সচিব স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, হিসেবরক্ষক সত্যজিৎ চ্যাটার্জি, সহ সচিব সৃঞ্জয় বসু ও অর্থ সচিব দেবাশিস দত্ত নতুন মরশুমের জন্য সঙ্কল্প গ্রহণের সময়। পরে তাঁবুতে আসেন সনি নর্ডি ছাড়া গত মরশুমে থাকা দলের দেশি ও বিদেশি সব ফুটবলার। ছিলেন গোলকিপার কোচ অর্পণ দে। প্রাক্তনদের মধ্যে নজর টানেন সুব্রত ভট্টাচার্য, কৃষ্ণেন্দু রায়, কম্পটন দত্ত, বলাই দে, অলোক মুখার্জি, স্নেহাশিস চক্রবর্তী। পরে বাগান ওয়েবসাইট www.themohunbaganac.com ‌ছাড়াও মোহনবাগান টিভি ইউটিউব চ্যানেলের উদ্বোধন করা হয়। তার মাঝেই সৃঞ্জয় বসুর কাছে প্রচারমাধ্যমের প্রশ্ন ছিল, আগামী মরশুমে দলগঠন ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে?‌ কোন লিগ খেলবে বাগান?‌ সহ সচিবের প্রতিক্রিয়া, ‘‌ক্লাবের টেকনিকাল কমিটি কোচ ও দলগঠনের প্রক্রিয়া দেখছে। কোচ নিজের পছন্দের দল গড়বেন। সবই সময়মতো জানতে পারবেন। এটা ঠিক আগামী মরশুমে কোথায় খেলব আমরা সেটা পরিষ্কার নয়। এটা প্রবলেম। এটার জন্যই সাতটা ক্লাব একজোট হয়ে লড়ছে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে। এই জোটে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান থাকায় সেটা আরও শক্তিশালী হয়েছে। না–‌হলে ফেডারেশনের তরফে যেভাবে জোট ভাঙার চেষ্টা হয়েছে, সেটা সফল হতেও পারত। আশা করি সাতটা ক্লাব একজোট হয়ে যেটা বলতে চাইছে, যৌথ লিগের দাবি করছে, সেটা মানার সুবুদ্ধি হবে ফেডারেশনের। কারণ তাদের হাতে তো শুধু আই লিগটাই রয়েছে। ভাল করে সেটা করার চেষ্টা করুক। আইএসএল–‌ও সঠিক পদ্ধতি মেনে হচ্ছে না। এটা একটা প্রাইভেট লিগ। যার কোনও রেলিগেশন নেই। এই লিগ যে লাভবান নয়, সেটা তো বারবার বলছে অনেক আইএসএল ফ্র‌্যাঞ্চাইজি। দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের এই লড়াই বৃথা যাবে না।’‌ ফুটবলারদের বেতন বাকি নিয়ে সৃঞ্জয়ের বক্তব্য, ‘‌আইএসএলের অনেক ফ্র‌্যাঞ্চাইজি দলের ফুটবলারদের চার পাঁচ মাসের মাইনে বাকি আছে। তাদের কাছে এই প্রশ্নটা কেন করছেন না?‌ আসলে সর্বত্রই এমন ক্রাইসিস হয়। আবার সেটা কেটেও যায়। পাঁচ বছর ধরে ক্লাবে কোনও স্পনসর নেই। তবু ফুটবলাররা বেতন পেয়েছে। কারও টাকা ক্লাব কখনও মারেনি। তাই সব ফুটবলারের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল রয়েছে। এবারও সমস্যা মিটিয়ে ফেলা হবে।’‌ এটিকে–‌র সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে আইএসএল খেলার বিষয়টি এদিন উড়িয়ে দিয়েছেন সৃঞ্জয়। একইসঙ্গে এটাও বলেন, যারা ইনভেস্টর বা স্পনসর হয়ে টাকা ঢালবে, তাদের সঙ্গে সঙ্ঘাতে না গিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব নিয়ে সবরকম সহযোগিতা করে চললে ক্লাবেরই লাভ। দলের অভিজ্ঞ গোলকিপার শিলটন বলেন, মরশুমে কলকাতা লিগ জয় ছাড়া আর কোনও বড় সাফল্য নেই। চেষ্টা করব যাতে পরের মরশুমে সাফল্য আসে। কর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। মাইনে সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী তাঁরা। সবমিলিয়ে নতুন বছরে একটাই শপথ কর্তাদের, ভাল দল গড়ে সাফল্য ফেরানো।

বারপুজো। মোহনবাগান মাঠে গীতানাথ গাঙ্গুলি, সৃঞ্জয় বসু। ছবি:‌ রনি রায়
 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top