আজকালের প্রতিবেদন: প্রায় বছরখানেক লেগেই গেল চার্জশিট পেশ করতে! যা সাধারণত ৯০ দিনের মধ্যেই পেশ করার রীতি। ভারতীয় দলের ক্রিকেটার মহম্মদ সামির বিরুদ্ধে তাঁরই স্ত্রী হাসিন জাহানের করা অভিযোগের ভিত্তিতে যাদবপুর থানা চার্জশিট পেশ করল আলিপুরের অতিরিক্ত বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে। বৃহস্পতিবার মহম্মদ সামি এবং তাঁর দাদা আসিফ আমেদকে বধূ নির্যাতন এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে চার্জশিটে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮(এ) এবং ৩৫৪ (এ) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। সামির স্ত্রী হাসিন জাহান গত বছর যাদবপুর থানায় অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগের কেস নম্বর হল:‌ কেস ৮২/১৮।
গত বছর হাসিন মূলত সামি–‌সহ পরিবারের পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। চার্জশিটে সেই অভিযোগ থেকে বাদ গেছেন সামির বাবা, মা এবং ভাই। মূল অভিযুক্ত সামি এবং দাদা আসিফ। বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে মহম্মদ সামির সঙ্গে মোবাইলে বারবার  চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা যায়নি। পাওয়া যায়নি তাঁর প্রতিক্রিয়া। উল্লেখ, বৃহস্পতিবার চার্জশিটের ভিত্তিতে চলতি বছরের ২২ জুন সামিকে আদালতে সশরীরে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই দিন ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। তাহলে কী করবেন বধূ নির্যাতন এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত সামি?
সামির আইনজীবী যিনি বৃহস্পতিবার আদালতে ছিলেন, সেই রাজু গাঙ্গুলি জানিয়েছেন, চার্জশিটের কপি হাতে পেলে সব দিক আলোচনা করে এগোনো হবে। তবে, জানা গেছে চার্জশিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করার পথেই হাঁটবেন সামি এবং তাঁর আইনজীবীরা। উল্টোদিকে, হাসিন জাহানের আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতা জানিয়েছেন, ‘আমরাও চার্জশিটের কপি হাতে পাওয়ার অপেক্ষায়। অনেকগুলো ধারায় অভিযোগ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগগুলো বাদ গেছে চার্জশিটে। আমরা খতিয়ে দেখব। যদি বেআইনিভাবে সেগুলো বাদ দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে আমরাও হাইকোর্টে যাব চার্জশিটের বিরুদ্ধে।’ আদালত সামিকে ২২ জুন হাজিরা িদতে বলেছে। ওইদিন তো বিশ্বকাপে ভারতের ম্যাচ রয়েছে। তাহলে? অনির্বাণ জানান, ‘আদালত তো হাজির হতেই বলেছে। এবার দেখা যাক ওরা কী করে? হ্যাঁ, তেমন হলে আগাম জামিন নিতেই পারে। সেক্ষেত্রে ট্রায়ােল সময় লাগবে আরও বেশি।’
কী বলছেন হাসিন জাহান? তাঁর বক্তব্য, ‘তাহলে প্রমাণিত হল আমি মিথ্যে অভিযোগ করিনি। বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। এবার মানুষ বুঝবেন সামি আমার সঙ্গে কী চরম অসভ্যতা করেছে। আমাকে দিনের পর দিন কীভাবে নির্যাতন করেছে। দেরি হলেও যে চার্জশিট জমা পড়েছে, সেটা ভাল বলতে হবে। এর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সেটা আমার আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতার সঙ্গে কথা বলেই চূড়ান্ত করব। হ্যাঁ, বলতে পারেন আমার নৈতিক জয়।’ তবে হাসিন যে সামির দাদার প্রতি ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন? তা তো ঠাঁই পায়নি চার্জশিটে? হাসিেনর জবাব, ‘এ ব্যাপারে যা বলার আমার আইনজীবী বলতে পারবেন।’ তবে, এদিনও সামির বিরুদ্ধে আবারও অভিযোগ করেছেন হাসিন। সামি–হাসিনের ছোট্ট মেয়ে আইরাকে প্রতি মাসে খরচ বাবদ টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। সেইমতো সামি প্রত্যেক মাসেই টাকা পাঠাতেন। কিন্তু হাসিন বলছেন, ‘গত দু’মাস থেকে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি ব্যাঙ্কের স্টেটমেন্ট দেখিয়ে দিতে পারি। জানি না কেন সেটা বন্ধ করা হল? আমার আইনজীবী গোটা বিষয়টি দেখছেন।’ সব মিলিয়ে এখনও যে সামি–হাসিন ‘এপিসোড’–এ চোরাস্রোত অব্যাহত।

তখন সুসময়

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top