অগ্নি পান্ডে- গণ হিস্টিরিয়া। লাল–হলুদে বিষ্ফোরণ বাদশাকে ঘিরে। ‘মজিদ–মজিদ–মজিদ’ উল্লাসে গমগম করছে গোটা ময়দান। হঠাৎ বৃষ্টি সব ধুয়ে দিলেও বাদশার স্পর্শের উষ্ণতা বৃষ্টিকে দূরে পাঠিয়ে দিল। তাঁকে নিয়ে আন্দোলিত সোমবারের বিকেল। যা গড়াল সন্ধে পর্যন্ত। মজিদ বাসকারও আবেগাপ্লুত।
যখন ইস্টবেঙ্গলে খেলেছিলেন, তখন ক্লাবের পরিকাঠামোর সঙ্গে এখনকার পরিবেশ, পরিকাঠামোর জমিন–আসমান ফারাক। ক্লাবে বসেই মজিদ বলে দিলেন, ‘সবকিছুই বদলে গেছে দেখছি। ক্লাব–গ্যালারি। শুধু বদলায়নি লাল–হলুদ রঙ। এটাই আসল।’
ড্রেসিংরুমে মজিদকে নিয়ে গেলেন শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। সঙ্গী জামশিদ নাসিরি। ঢুকে চমকে গেলেন মজিদ। জামশিদকে বলে উঠলেন, ‘এ কী দেখছি! এত বদল!‌ এ তো অত্যাধুনিক ড্রেসিংরুম।’ জামশিদ বলছিলেন, ‘আমাদের সময়ে শুধু বেঞ্চ ছিল। সেখানেই সব থাকত। এয়ারকন্ডিশনার তো ভাবতেই পারতাম না।’ 
মজিদ খোঁজার চেষ্টা করলেন ঠিক কোন জায়গায় তিনি বসতেন। মনে করতে পারলেন না। কাছাকাছি জায়গা দেখিয়ে বলেন, ‘এরকম একটা জায়গাতেই বসতাম। পাশে জামশিদ বসত। সত্যিই নস্ট্যালজিক। ক্লাবের সব বদলে গেছে। সমর্থকরা বদলায়নি। সেই একইরকমের আবেগ।’ এরপর মাঠে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল মজিদকে। কর্তারা প্রথম দফায় পারলেনই না। তখন মজিদকে একবার ছঁুয়ে দেখার প্রবল আকুতি। মহিলা–পুরুষ নির্বিশেষে। 
নিরাপত্তারক্ষী দিয়েও মাঠের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া গেল না মজিদকে। ময়দান থানায় ফোন করে পুলিস চাইতে হল। শেষে মজিদ গেলেন মাঠে। সন্ধে নেমে আসার মুখে জ্বলজ্বল করে উঠল গ্যালারি। মজিদ একটা বেঞ্চে উঠে হাত নাড়তেই যেন সব আশ মিটে গেল। তাঁকে একবার দেখার জন্যই ছুটির দিনেও দুপুর থেকে ঠায় দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল জনতা। তার মধ্যেই আলোকচিত্রীদের জোরালো আবেদন, একবার যেন বল পায়ে নেন। সবুজ গালিচায় একটা ছোট স্ট্রোক। ব্যস্‌, তাতেই উদ্বেলিত ইস্টবেঙ্গল।
স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে মজিদ জানােলন প্রিয় গোলের কথা— ‘রোভার্স ফাইনালে মহমেডানের বিরুদ্ধে। ওদের গোলকিপার ছিল ভাস্কর।’ মজার ছলে জানালেন, সতীর্থ খাবাজি কীভাবে তাঁর জার্সি নম্বর বেছেছিলেন— ‘আমার ১২ নম্বর জার্সি। জামশিদের ৯। খাবাজি ১২ আর ৯ যোগ করে ২১ নম্বর বেছে নিল।’ একবার ফিরলেন সেই অভিশপ্ত ১৬ আগস্টেও। ইডেনে ম্যাচ চলাকালীন কিছু বুঝতে পারেননি। পরে জানতে পারেন ১৬টি প্রাণ ঝরে গেছে। তখন মজিদরা থাকতেন লর্ড সিন্‌হা রোডে। কাছেই পিজি হাসপাতাল। খানিকটা অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন মজিদ।
ইস্টবেঙ্গল সচিব কল্যাণ মজুমদার, দেবব্রতর কাছ থেকে সংবর্ধনার খুঁটিনাটি জেনে নিলেন। আজ, মঙ্গলবার সকালে ক্লাব তাঁবুতে প্রদীপ জ্বালানো, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে রক্তদান শিবির। বিকেলে নেতাজি ইন্ডোরে তরুণ মজুমদার, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত এবং শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সংবর্ধনা। তবে লাল–হলুদ জনতা যে আবার উদ্বেলিত হবে বাদশাকে নিয়েই, তা বোধহয় বলার অপেক্ষা রাখে না।  

জনতার হাতেহাতে আশির বাদশার। ইস্টবেঙ্গল মাঠে। সোমবার।  ‌‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top