আজকালের প্রতিবেদন: লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। কিন্তু মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তনী আনসুমানা ক্রোমার জীবনের স্রোত প্রতিকূলে বয়েছে বারবার। দুই প্রধানে খেলার পর আইজল। সেখান থেকে ফিরে পিয়ারলেসকে কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন করানোর পর আশা করেছিলেন, আই লিগের কোনও ক্লাব থেকে মনের মতো আর্থিক প্রস্তাব পেয়ে সই করবেন। পিয়ারলেসেও থাকতে পারলেন না। কারণ, তারা দ্বিতীয় ডিভিশন আই লিগ খেলল না।
বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করার পর মালয়েশিয়ার কেলান্তান এফএ ক্লাবের প্রস্তাব পেয়ে কলকাতা ছাড়েন ক্রোমা। তখনও বুঝতে পারেননি, ওই সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি। মালয়েশিয়ায় গিয়ে ক্লাবের দেওয়া অ্যাপার্টমেন্ট, জিম, জাকুজি, সুইমিং পুলে সুখেই দিন কাটছিল। তারই মাঝে জানতে পারেন বাঙালি স্ত্রী পূজা অন্তঃসত্ত্বা। তারপরই ধাক্কা।
চুক্তির জটে জড়িয়ে মালয়েশিয়া থেকে কলকাতা ফিরে এলেন ক্রোমা। ক্রোমার কথায়, ‘মালয়েশিয়ার ক্লাবটা গত বছরে বিদেশি ফুটবলারদের ঠিকঠাক পেমেন্ট দেয়নি। ফুটবলাররা ফিফায় নালিশ করেছে। ফিফা নির্দেশ দিয়েছে, কোনও নতুন বিদেশির সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না ক্লাব। এটা আগে জানতাম না। মালয়েশিয়া আসার পর চুক্তিপত্রে সই করিয়ে জমা দেওয়ার পর ওখানকার ফুটবল সংস্থা বাতিল করে দেয়।’ ক্রোমার সংযোজন, ‘কিছুদিন থাকার পর ঘটনাটা বিস্তারিত জানতে পারি। আর দেরি না করে কলকাতার ভবানীপুর ক্লাবের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাই। স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। মালয়েশিয়ায় থেকে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করতে চাইনি। তাই কলকাতায় ফিরে এলাম।’
মালয়েশিয়ার ক্লাবের হয়ে কয়েকটা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছেন। সুযোগ–সুবিধায় খুশি হয়েছিলেন। ক্রোমা বলেন, ‘অ্যাপার্টমেন্ট, গাড়ি সব দিয়েছিল। পরিকাঠামো দারুণ উন্নত। প্র্যাকটিস ম্যাচে নিজের সেরাটা দিয়েছিলাম। কিন্তু চুক্তি নিয়ে সমস্যা হওয়ায় কলকাতায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিই। ওরা বলেছিল অপেক্ষা করতে। সমস্যা মিটে যাবে। কিন্তু ঝুঁকি নিইনি। কলকাতায় সংসারের পাশাপাশি লাইবেরিয়াতে মা–কে টাকা পাঠাতে হয়। নিজের হাতখরচ রয়েছে।’‌ মঙ্গলবার রাতের খবর, ইস্টবেঙ্গল তাঁকে প্রস্তাব দিয়েছে খেলার। প্রস্তাব রয়েছে ভবানীপুরেরও। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেবেন ক্রোমা।ছবি: সংগৃহীত

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top