নজরুল ইসলাম: ৭ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। যে ইডেন একসময় ছিল তাঁর ঘর–বাড়ি, সেই ইডেনেই সোমবার মাঠে নামতে হবে। তাও আবার পুরনো দলের বিরুদ্ধে, যে দলকে দু–দুবার চ্যাম্পিয়ন করেছেন। একটুও কি আবেগে ভাসবেন না গৌতম গম্ভীর? পেশাদারদের কাছে আবেগের কোনও জায়গা নেই। তবু গম্ভীরের কাছে আবেগ সরিয়ে রাখা বেশ কষ্টকর। নাইটদের কাছে পুরনো নেতাকে নিয়ে যেমন আবেগ রয়েছে, তেমনি রয়েছে  ভয়, শ্রদ্ধা। নিজেদের ফর্মের পাশাপাশি গৌতম গম্ভীরই নাইটদের কাছে মাথাব্যথার কারণ।প্রথম ম্যাচে জয়, পরপর দুটি ম্যাচে হার। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে বড় রান করেও জয় আসেনি। ঘরের মাঠে সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে আবার হার। সোমবার দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের মুখোমুখি কলকাতা নাইট রাইডার্স। যারা আবার কিনা মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের মতো দলের বিরুদ্ধে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে। একদিকে ছন্দে ফেরা দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, সঙ্গে আবার নিজেদেরই পুরনো নেতার মোকাবিলা করতে হবে নাইটদের। দীনেশ কার্তিকের দল কি আবেগ সরিয়ে রেখে মাঠে নামতে পারবে? নাইটদের কাছে হয়তো কাজটা কঠিন হবে না। কিন্তু গৌতম গম্ভীর? যে ইডেনে দীর্ঘদিন সংসার গেড়ে বসেছিলেন, এবার সেই ইডেনেই পুরনো দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হবে।পুরনো অধিনায়ককে নিয়ে অবশ্য আবেগের জায়গা নেই নাইট–শিবিরে। ছন্দে ফেরাটাই মূল লক্ষ্য। যে কথাটাই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে হারের পর শোনা গিয়েছিল নাইট নেতা দীনেশ কার্তিকের মুখে। যে কথাটা হারের পর সব অধিনায়কের মুখেই শোনা যায়, কার্তিকের কথাতেও তার ব্যতিক্রম নেই, ‘আমরা খুব তাড়াতাড়িই ঘুরে দাঁড়াব।’ সেই ম্যাচটা যে সোমবার ইডেনে হবে না কে বলতে পারে? তবে মিডল অর্ডার নিয়ে নাইটদের দুশ্চিন্তায় থাকতেই হবে। প্রথম ম্যাচে শুরুতে সুনীল নারাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছিলেন। মিডল অর্ডারকে সেভাবে চাপ নিতে হয়নি। চেন্নাই সুপারকিংসের বিরুদ্ধে মিডল অর্ডার সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেনি। আন্দ্রে রাসেলের মারকাটারি ব্যাটিং ব্যতিক্রম। ইডেনে সানরাইজার্সের বিরুদ্ধেও ছবিটা বদলায়নি। যদিও নাইটদের ব্যাটিং কোচ কোনও দুশ্চিন্তা দেখছেন না।যতই ঘরের মাঠে খেলা হোক, দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে নাইট–শিবির। একদিকে যেমন দিল্লির ছন্দে ফেরার বিষয়টা রয়েছে, তেমনি আবার বিপক্ষে আর্ম ব্যান্ড হাতে মাঠে নামবেন গৌতম গম্ভীর। যিনি হাতের তালুর মতো চেনেন ইডেনের বাইশ গজ, নাইটদের নাড়ি নক্ষত্র। যে কথা স্বীকার করে নিয়েছেন নাইটদের ব্যাটিং কোচ সাইমন কাটিচ। তিনি বলেন, ‘গম্ভীর দুর্দান্ত ক্রিকেটার। দীর্ঘদিন নাইট রাইডার্সকে নেতৃত্ব দিয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে দারুণ সফল। ইডেনের পরিবেশ ওর চেনা। আমাদের দল সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল। দলের অধিকাংশ ক্রিকেটার সম্পর্কে জানে। ভাল ফর্মে রয়েছে। আগের ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে দারুণ জয় পেয়েছে। সোমবার কঠিন লড়াই হবে।’ পুরনো অধিনায়ক সম্পর্কে আবেগ অবশ্য রয়েছে নাইট–শিবিরে। দলের সহকারী কোচ কাটিচের মুখেই শোনা গেল, ‘বলের কথা না ভেবে কোনও ক্রিকেটারকে নিয়ে ভাবতে গেলে সমস্যায় পড়তে হবে। তবে হ্যাঁ, গম্ভীরকে নিয়ে আবেগ অবশ্যই রয়েছে। সাফল্যের সঙ্গে দীর্ঘদিন নাইট রাইডার্সকে নেতৃত্ব দিয়েছে। ও আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।’ কথাটা ভুল বলেননি নাইট সহকারী কোচ। কারণ নাইটদের হয়ে আইপিএলে সর্বোচ্চ রান যে গম্ভীরেরই। দিল্লির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে অবশ্য কার্তিক, উথাপ্পা, রাসেল, নারাইনরা মাঠমুখো হলেন না। অপশনাল প্র্যাকটিসে হাজির আগের দিন ম্যাচ খেলা কুলদীপ যাদব, শুভমান গিল, শুভম মাভিরা। মির ফাউন্ডেশন, স্মাইল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বানতলায় এক স্বাস্থ্যপরীক্ষা–শিবিরে হাজির ছিলেন বেশ কয়েকজন নাইট ক্রিকেটার। রবিবার বিকেলে গম্ভীররা কলকাতায় পৌঁছে সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ ইডেনে। অপশনাল প্র্যাকটিস থাকলেও গম্ভীর–সহ অনেকেই হাজির অনুশীলনে। আগের ম্যাচে চোটের জন্য খেলতে পারেননি ক্রিস মরিস। এদিন কলকাতায় পৌঁছেই ছুটলেন হাসপাতালে। সোমবার খেলার সম্ভাবনাও কম।‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top