IPL 2021: রুদ্ধশ্বাস শেষ ওভারে দিল্লিকে হারিয়ে আইপিএল ফাইনালে নাইটরা

আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাত বছর পর শাপমোচন। সাত বছর পর আইপিএলের ফাইনালে কলকাতা নাইট রাইডার্স। অষ্টমীর রাতে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে ধোনির চেন্নাই সুপার কিংসের মুখোমুখি নাইটরা। এক বল বাকি থাকতেই ছয় মেরে দলকে জিতিয়ে দেন রাহুল ত্রিপাঠী। মাত্র ৮ রানে সাত উইকেট পতন। ১ উইকেটে ৯৬ থেকে রাতারাতি ১৩০ রানে ৭ উইকেট। দলের ১২৩ রানে রানা আউট হওয়ার পর উইকেটে টিকতে পারেনি কেউই। শূন্য রানে আউট চারজন ব্যাটার। সেখান থেকে দলকে জয়ে পৌঁছে দিলেন ত্রিপাঠী। একেই বলে ক্রিকেট। পুরো ম্যাচ একপেশে হলেও দুর্ধর্ষ শেষ ওভার দেখল শারজা। সহজ ম্যাচ কিভাবে কঠিন করে জিততে হয় আরও একবার দেখাল কেকেআর। শেষবার ২০১৪ সালে আইপিএলের ফাইনালে উঠেছিল কেকেআর। সেবার চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল। তারপর থেকে বেশ কয়েকবার প্লে অফে গেলেও ফাইনালে ওঠেনি। এবার অবিশ্বাস্য কামব্যাকে ফাইনালের ছাড়পত্র সংগ্রহ করে নিল মর্গ্যানবাহিনী।

 

 

 রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ম্যাচের পুনরাবৃত্তি। প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৩৫ রানের টার্গেট সেট করে দিল্লি ক্যাপিটালস। শিখর ধাওয়ান–পৃথ্বী শ শুরুটা ভালই করেছিল। কিন্তু ৪.১ ওভারে ৩২ রানে প্রথম উইকেট হারায় দিল্লি। ১৮ রানে বরুণের বলে এলবিডব্লু হন পৃথ্বী। দীর্ঘদিন পর চোট সারিয়ে মাঠে ফিরেছিলেন মার্কাস স্টোইনিস। কিন্তু বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি। ১৮ রানে শিবম মাভির বলে বোল্ড হন অজি অলরাউন্ডার। মন্থর উইকেটে রান তোলা সহজ ছিল না। প্রায় ১৫ ওভার পর্যন্ত টিকে থাকলেও চেনা ছন্দে পাওয়া যায়নি ধাওয়ানকে। ৩৯ বলে ৩৬ করে আউট হন গব্বর। আগের ম্যাচে রান পেলেও এদিন ব্যর্থ পন্থ (৬) এবং হেটমেয়ার (১৭)। বাকিটা টেনে নিয়ে যান শ্রেয়স আইয়ার। ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। দুটো উইকেট নেন বরুণ। বাকি দুটো উইকেট নেন লকি ফার্গুসন এবং শিবম মাভি। 

জবাবে ব্যাট করতে নেমে আবার সফল নাইটদের ওপেনিং জুটি। শুভমান গিল এবং ভেঙ্কটেশ আইয়ারের ব্যাটে ভর করে জয়ের মঞ্চ তৈরি করে নেয় নাইটরা। রান তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু করে নাইটদের দুই তরুণ ওপেনার। তাঁদের দেখে মনে হয়নি উইকেটে কোনও সমস্যা আছে। অনায়াসে নিজেদের শট খেলে ভেঙ্কটেশ, শুভমনরা। আইপিএলে নিজের তৃতীয় অর্ধশতরান তুলে নেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। ৩৮ বলে ৫০ রানে পৌঁছে যান কেকেআরের বাঁ হাতি ওপেনার। শেষপর্যন্ত ৪১ বলে ৫৫ রান করে রাবাডার বলে আউট হন আইয়ার। কিন্তু ততক্ষণে সব কাজ সারা। 

১২.২ ওভারে ৯৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় নাইটরা। তাঁকে বিশ্বকাপের টি–২০ রিজার্ভ দলে রাখা যে সঠিক সিদ্ধান্ত সেটা আরও একবার প্রমাণ করেন আইয়ার। তিনি আউট হওয়ার পর দলকে এগিয়ে নিয়ে যান শুভমান। তবে ব্যক্তিগত ৪৬ রানে আবেশ খানের বলে শুভমন গিল আউট হওয়ার পরে কিছুটা চাপে পরে যায় নাইটরা। পরপর আউট হয় নীতিশ রানা (১৩) এবং দীনেশ কার্তিক (০)। শেষ দু’‌ওভারে ১০ রান প্রয়োজন ছিল। এদিনও ডাহা ব্যর্থ মর্গ্যান। নর্টজের বলে শূন্য রানে বোল্ড হন নাইট অধিনায়ক। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৭ রান। এবার ঋষভ শেষ ওভারে বল দেন সবচেয়ে অভিজ্ঞ অশ্বিনকে। এখানেই শেষ নয়। আরও নাটক বাকি ছিল। ১৯.৩ বলে অশ্বিনের বলে এলবিডব্লু হন সাকিব। ঠিক পরের বলেই আউট সুনীল নারিন। বাউন্ডারি মারতে গিয়ে অক্ষরের হাতে ধরা পড়েন নাইট স্পিনার। কিন্তু নাইটদের জয়ে পৌঁছে দেন রাহুল ত্রিপাঠী।