আজকালের প্রতিবেদন‌: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে কোনও দলে বাঁহাতি জোরে বোলারের যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। আর যদি ইংল্যান্ডের মতো সুইংয়ের আদর্শ পরিবেশ থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। এবার ইংল্যান্ডে বসছে বিশ্বকাপের আসর। বিশ্বকাপের জন্য আজ ভারতীয় দল নির্বাচন করা হবে। যদিও সম্ভাবনা কম, তবু খলিল আহমেদ আশা করছেন, বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে তিনি সুযোগ পাবেন। ভারতের এই বাঁহাতি জোরে বোলারের অভিষেক হয়েছিল গতবছর সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপে, হংকংয়ের বিরুদ্ধে। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চার ম্যাচে খেলার সুযোগ হয়েছিল, তুলে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে একটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছিল। বুমরা, সামি, ভুবনেশ্বর কুমাররা যেরকম ফর্মে রয়েছেন, তাতে খলিল আহমেদের সম্ভাবনা কম। অলরাউন্ডার হিসেবে হার্দিক পান্ডিয়া নিশ্চিত, বিজয় শঙ্করও লড়াইয়ে রয়েছেন। তবু আশা দেখছেন খলিল আহমেদ। বলেছেন, ‌‘বিশ্বকাপে দলে একজন বাঁঁহাতি জোরে বোলার প্রয়োজন। আমাদের দলে বুমরা, ভুবি ভাই (‌ভুবনেশ্বর)‌, সামি ভাইয়ের (‌মহম্মদ সামি)‌‌ মতো প্রতিভাসম্পন্ন ডানহাতি জোরে বোলার রয়েছে। কিন্তু বাঁহাতি জোরে বোলার বাড়তি সুবিধা এনে দেবে। ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বাঁহাতি বোলারদের মোকাবিলা করা কঠিন, বিশেষ করে ডেথ ওভারে। ‌বিশ্বকাপে কিন্তু এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। যদিও দল নির্বাচন আমার হাতে নেই। সুযোগ পেলে সেরাটা দেওয়ার জন্য আমি তৈরি।’ বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দল গুছিয়ে নিতে চেয়েছিল ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু ওই দুটি সিরিজে তেমনভাবে সুযোগই পাননি খলিল। মাত্র দুটি ম্যাচে সুযোগ পেলেও নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। নিজের ব্যর্থতার কথা মেনেও নিয়েছেন এই বাঁহাতি জোরে বোলার। খলিল আহমেদ বলেছেন, ‘‌নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে যদি আমি ভাল পারফরমেন্স করতে পারতাম, আরও কয়েকটা ম্যাচে সুযোগ পেতাম। সেটাই আমার কাছে ভাল সুযোগ হত। নিউজিল্যান্ড সিরিজ আমরা সামনে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের সুযোগ এনে দিত। কিন্তু সেটা হয়নি।’‌ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে প্রথম ম্যাচে সিডনিতে ৫৫ রান দিলেও কোনও উইকেট পাননি। ৩৪ রানে হারতে হয়েছিল ভারতকে। সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচে আর সুযোগই পাননি খলিল। তিনটি টি–২০ ম্যাচে তিনটি উইকেট পেলেও ১১৬ রান দিয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও একটি একদিনের ম্যাচে ও তিনটি টি–২০ ম্যাচে তেমন সুবিধা করতে পারেননি খলিল। দেশের হয়ে খুব বেশি খেলার সুযোগ না পেলেও কোহলি, ধোনি, রোহিতদের কাছ থেকে যেভাবে সাহায্য পেয়েছেন, মুগ্ধ তিনি। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে ব্যর্থতার পর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে সুযোগ পাননি খলিল। নিউজিল্যান্ড থেকে ফেরার পর জাহির খানের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন এই তরুণ বাঁহাতি জোরে বোলার। জাহিরের পরামর্শ পেয়ে দারুণ উপকৃত তিনি। এই ব্যাপারে খলিল বলেছেন, ‘আমি জানি, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে আমি ভাল পারফরমেন্স করতে পারিনি। জাহিরভাই আমাকে ডেকে বোলিংয়ের ব্যাপারে কথা বলেছিল, প্রচুর পরামর্শও দিয়েছিল। কোন লেংথে বোলিং করতে হবে, সেটা শুধরে দিয়েছিল। কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে বোলিং করতে হবে, কীভাবে চাপ সামলাতে হবে, এইসব ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছিল। জাহিরভাইয়ের পরামর্শ মাথায় রেখে এগিয়ে চলেছি। আমার ক্রিকেটজীবনে জাহিরভাই প্রচুর সাহায্য করেছে।’‌ জাহির খানের পরামর্শ মেনে নিজেকে অনেকটাই শুধরে নিয়েছেন খলিল। ফলও পেয়েছেন সৈয়দ মুস্তাক আলি প্রতিযোগিতায়। চার ম্যাচে তুলে নিয়েছিলেন ১২ উইকেট। নিজের সাম্প্রতিক ফর্মের ব্যাপারে খলিল আমেদ বলেছেন, ‌‘‌সৈয়দ মুস্তাক আলি প্রতিযোগিতায় রাজস্থানের হয়ে যখন প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলাম, আগ্রাসী মানসিকতা নিয়ে পারফরমেন্স করতে চেয়েছিলাম। ওই আগ্রাসী মানসিকতাই এক ম্যাচে আমাকে ৫ উইকেট তুলে নিতে সাহায্য করেছিল। বেশ কয়েকটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর রাজ্য দলের হয়ে খেলতে নেমেছিলাম। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলাম, তা কাজে লেগেছে। বিশ্বকাপ দলে আমি সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারে আমি সত্যিই আশাবাদী।’‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top