আজকালের প্রতিবেদন: অল্পের জন্য ফার্স্ট হতে না পারা! তার যে কী যন্ত্রণা স্কুলের সেকেন্ড বয়–ই অনুভব করতে পারে। রেজাল্ট হাতে পাওয়ার পর সেই মুহূর্তে একবার হলেও সে মনে মনে বলে, ফার্স্ট যখন হলাম না, সেকেন্ড কেন হলাম। কিছু না হতে পারলেও এই আপশোসটা তো আর থাকত না! ক্লাসের সেকেন্ড হয়েও সেই মুহূর্তে একরাশ হতাশা তার দিকে তেড়ে আসে।
আই লিগের শেষ ম্যাচে নামার আগে লাল–হলুদ তঁাবুতে যেন মেশানো রয়েছে ‘সেকেন্ড বয়ের’ দুঃখ–আপসোসের সুর। এক বার নয়, দু বার নয়, আই লিগের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গল সেকেন্ড কিংবা থার্ড বয় হয়েছে ন’–ন’বার। 
অল্পের জন্য ফসকে গেছে হাতের নাগালে চলে আসা আই লিগ জেতার সোনার সুযোগ। এবারও কি তাই হবে? না, এই লাইনটা যেন কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারছে না তারা। ‘ফার্স্ট বয়’ হওয়ার স্বপ্নটা চলতি মরশুমের শুরু থেকে ফের দেখেছিল লাল–হলুদ বিশ্ব। আই লিগের শেষ রাউন্ডের ম্যাচের আগে সেকেন্ড বয়ের হতাশা, আক্ষেপ ইতিমধ্যেই গ্রাস করে নিয়েছে তাদের। 
নেরোকা ম্যাচের আগেও তাই প্রিয় দলকে তাতানোর জন্য দূরবীন লাগে সমর্থকদের খোঁজার জন্য। হাতে গোনা দশজন সমর্থককে এ দিন সল্টলেকে প্র্যাকটিসের সময় দেখা গেল হ্যান্ড মাইকে গান গাইতে। কিছুক্ষণ গাওয়ার পর থেমে গেল গান। তারাও ক্লান্ত।
মাঠের বাইরে এই ছবি হলে, প্র্যাকটিস মাঠেও একই ছবি। প্র্যাকটিস শেষে ডুডু ওমাগবেমী তো বলেই দিলেন, লাজংয়ের বিরুদ্ধে ড্র করে প্লেয়াররা মানসিক দিক থেকে ভেঙে পড়েছে।’ হাতেনাতে মিলল তার প্রমাণ। মাঠের সাইড লাইনে মন খারাপ করে বসেছিলেন কেভিন লোবো। সতীর্থরা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পিঠে চাপড় মেরে উজ্জীবীত করার চেষ্টা করছিলেন। তাও লোবো মন মরা।
ফুটবলারদের মোটিভেট করতে নিজের ঘরে ঢেকে খালিদ জামিল লম্বা মিটিং করলেন। বোঝানোর চেষ্টা করলেন, অন্য ম্যাচে কী হচ্ছে, তা নিয়ে ভাববে না। নিজেদের জেতার কাজটা সেরে রাখো। সন্ধেয় সরকারি প্রেস কনফারেন্সে খালিদ স্বীকার করলেন অ্যাডভান্টেজে মিনার্ভা। ‘ওরা পয়েন্টে এগিয়ে। খোলমনে খেলবে।’ গত বছর আই লিগের শেষ ম্যাচে এই খালিদ জামিলের টিম আইজল ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন—এরকম পরিস্থিতি ছিল। এবার ছবিটা কত আলাদা। মরশুমের শুরুতে সেই চ্যাম্পিয়ন কোচকেই এনেছিলেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। অনেক স্বপ্ন নিয়ে। খালিদ বলছেন, ‘সমর্থকদের চাপের সঙ্গে এখন অভ্যস্থ হয়ে গেছি। এটুকু বলব, ওরা ভাল ফাইট দেবে ম্যাচে। প্রথম একাদশে ২–৩টে বদল হতে পারে।’
নেরোকার এবার অ্যাওয়ে ম্যাচে চোখ–ধাঁধানো পারফরমেন্স। ৬ ম্যাচ অপরাজিত। বৃহস্পতিবারের ম্যাচেও ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর ব্যাপারে আশাবাদী নেরোকা কোচ গিফট রাইখান থেকে ফুটবলাররা। আই লিগে অভিষেকেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি—এটাই ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ জিততে তঁাদের উদ্বুব্ধ করছে। রাইখানের কথায়, ‘আই লিগের চ্যাম্পিয়নশিপের বাকি তিনটে দরজা বন্ধ করে আমাদের দরজাটাই মনে হচ্ছে খোলা থাকবে।’ মুচকি হেসে শান্ত গলায় বললেন। সকালে অনুশীলনের নামার পরই রেগে লাল হয়ে গিয়েছিল নেরোকা শিবির। সল্টলেকের প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডের ড্রেসিংরুম না খোলায়। তালা বন্ধ। ফলে মাঠের ধারে দঁাড়িয়ে পোশাক বদলে মাঠে নামতে হল তঁাদের। নেরোকার ম্যানেজার ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করার পর ফেডারেশনের এক কর্তাকে ফোন করে গোটা ঘটনাটা জানাতেও ভুললেন না। বিদেশি আরিয়ান উইলিয়ামসের কার্ড সমস্যা বাদে বাকি বিদেশিদের পাওয়া যাবে। সনি নর্ডির বন্ধু ফ্যাবিয়ান আবার বলেন, ‘লিগ জিতলে সনিকে উৎসর্গ করবেন। কারণ, ম্যাচের আগে সনি দারুণভাবে মোটিভেট করছে।’ গোলগেটার ফেলিক্স চিড্ডির হুঙ্কার, ‘মন বলছে, কাল ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে আমিই গোল করব।’
নেরোকা শিবির যখন এরকম তেতে রয়েছে, লাল–হলুদ কেমন যেন থমথমে। আল আমনা তো বলেই দিলেন, ‘আমাদের হাতে এখন আর কিছু নেই, কপালের উপর ভরসা করা ছাড়া। অন্য দিকে মন না দিয়ে কাল নিজেদের ১০০ শতাংশ দিতে হবে।’‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top