আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ভারতের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার তিনি। সেই কপিল দেব বেছে নিলেন ভারতের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে একাদশ। তবে সেই দল নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সেরা একাদশে তিনি নিজেকে তো রাখেনইনি, রাখেননি রোহিত শর্মা বা সৌরভ গাঙ্গুলিকেও। 
কপিলের বাছাই করা সেরা একাদশে ওপেন করবেন বীরেন্দ্র শেহবাগ। ২৫১ ম্যাচে ৮২৭৩ রান করা শেহবাগকে বিশ্বের অন্যতম বিধ্বংসী ওপেনার বলা হয়। মারকুটে এই ওপেনার পার্টটাইম স্পিনারও বটে। সঙ্গে থাকবেন অবশ্যই শচীন তেন্ডুলকার। ভারতের তো বটেই, বিশ্বের যে কোনও সেরা একাদশে অনায়াসে জায়গা পেতে পারেন শচীন। ৪৬৩টি ওয়ানডে ম্যাচে ১৮,৪২৬ রান। তাতে রয়েছে ৪৯ টি সেঞ্চুরি এবং ৯৬ টি হাফ–সেঞ্চুরি। শচীনের ব্যাটের জোরে বহু ম্যাচেই উতরে গিয়েছে টিম ইন্ডিয়া।
টেস্ট দলে টিম ইন্ডিয়ার ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ জায়গা পেয়েছেন কপিলের বাছাই করা সেরা একদিনের একাদশেও। দ্রাবিড়ের নির্বাচনে অনেকে হতবাক হলেও তাঁর একদিনের আন্তর্জাতিক রেকর্ড যথেষ্ট সমীহ জাগানোর মতো। ৩৪৪টি ওয়ানডে ম্যাচে ১০ হাজার রানের গণ্ডি পার করা দ্রাবিড়ের ব্যাট থেকে বেরিয়েছে ১২ টি সেঞ্চুরি এবং ৮৩ টি হাফ–সেঞ্চুরি। কপিলের দলে চার নম্বরে নামবেন বর্তমান ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। শচীনের মতোই দেশের হয়ে একাই বহু ম্যাচ বার করেছেন বিরাট কোহলি। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই সমান সাবলীল বিরাটের ওয়ানডে রেকর্ড রীতিমতো আকর্ষণীয়। ২৪৮টি একদিনের ম্যাচে ১১৮৬৭ রান। ইতিমধ্যেই ৪৩ টি সেঞ্চুরি করা হয়ে গিয়েছে বিরাটের। একদিনের ম্যাচে শচীনের সেঞ্চুরির রেকর্ডের দিকেই দৌড়চ্ছেন তিনি। ৫৯.৩৩ গড়ে ৫৮টি হাফ–সেঞ্চুরিও রয়েছে বিরাটের। তিরাশির বিশ্বকাপ জয়ী কপিল নিজেকে এই একাদশে না রাখলেও পাঁচ নম্বরে জায়গা দিয়েছেন যুবরাজকে। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য ওই টুর্নামেন্টের ৯টি ম্যাচে ৩৬২ রান করেছিলেন। সঙ্গে ১ টি সেঞ্চুরি এবং ৪ টে হাফ–সেঞ্চুরি। সেবারের বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার ৩০৪ টি ম্যাচে ৮৭০১ রানের মালিক। কেরিয়ারে রয়েছে ১৪ টি সেঞ্চুরি এবং ৫২ টি হাফ সেঞ্চুরি। বাঁ–হাতি স্পিনেও ভেল্কি দেখাতে পারেন তিনি। সঙ্গে অসাধারণ ফিল্ডার। সেরা একাদশে ধোনিকেই দলের অধিনায়ক বেছে নিয়েছেন কপিল। ২০১১ সালের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়কের উপর অগাধ আস্থা দেখিয়েছেন তিনি। ৩৫০ টি ওয়ানডে খেলে ১০ টি সেঞ্চুরি রয়েছে মাহির। সঙ্গে করেছেন ৭৩ টি হাফ সেঞ্চুরি। ওয়ান ডে কেরিয়ারের সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৮৩। উইকেটের পিছনেও ‘ক্যাপ্টেন কুল’–এর স্টাম্পিংয়ে মুগ্ধ ক্রিকেটবিশ্ব। স্পিনারদের মধ্যে কপিল বেছে নিয়েছেন হরভজন সিংকে। ২৩৬ টি ম্যাচে ২৬৯ উইকেটের মালিক ব্যাট হাতেও মাঝেমধ্যে চমকে দিয়েছেন অনেককেই। কপিলের সেরা ভারতীয় একাদশে পেস অ্যাটাকের দায়িত্ব পেয়েছেন জাহির খান। বাঁ–হাতি পেসারের মাপা সুইংয়ে একসময় বহু ব্যাটসম্যানই কাবু হয়েছেন। কেরিয়ারের ২০০ ওয়ানডে ম্যাচে জাহির নিয়েছেন ২৮২ উইকেট। সেরা ৪২ রানে ৫ উইকেট। জাহির খানের জুটি হিসেবে কপিল বেছে নিয়েছেন জাভাগাল শ্রীনাথকে। ২২৯ টি ম্যাচে ৩১৫ উইকেটের মালিক শ্রীনাথ এককালে গতিতেই বহু ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করেছেন। হরভজনের সঙ্গে কপিলের বাছাই একাদশে স্পিন বিভাগ সামলানোর দায়িত্বে রয়েছেন কুম্বলে। টেস্টে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়া কুম্বলে ওয়ানডে ক্রিকেটেও একসময় ভারতের অন্যতম ভরসা ছিলেন। ২৭১ টি ওয়ানডে ম্যাচে ৩৩৭ টি উইকেট নিয়েছেন কুম্বলে। সেরা ১২ রানে ৬ উইকেট। শ্রীনাথ এবং জাহিরের সঙ্গে এই একাদশের পেস অ্যাটাকে বাড়তি ঝাঁঝ এনে দিতে পারেন বুমরা। এই মুহূর্তে আইসিসি ওয়ানডে ক্রিকেট র‌্যাঙ্কিংয়ে ২ নম্বরে রয়েছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত ৬৪ টি ম্যাচে ১০৪ উইকেট তুলে নিয়েছেন বুমরা। তাঁর সেরা বোলিং ২৭ রানে ৫ উইকেট।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top