আজকালের প্রতিবেদন: ‘মার্জিত’‌ শব্দটা, তাঁর ব্যাটিংয়ের আগে জুড়ে দেওয়া যেত অনায়াসেই। যখন খেলতেন মনে হত, দেখেই যাই। চোখের পলক না ফেলে। আলভিন কালীচরণ। যাঁর ব্যাটিংয়ে সবাই মজে থাকত, সেই তিনি মজে বিরাট কোহলিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন অধিনায়ক তুলনায় বিশ্বাসী নন। তবু বলে দিলেন, ‘ভিভ রিচার্ডসের মতোই নির্মম বিরাট’‌। কেন?‌ কালীচরণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘‌দু’‌‌জনের মনোভাবই দৃঢ়। কিন্তু তাও বলছি, মানসিকতার দিক দিয়ে বিরাট ঠিক ততটাই নির্মম, যতটা ভিভ ছিল। সত্যিই বিরাটের মধ্যে ভিভের কিছু কিছু গুণ দেখতে পাই। ও সফল ক্যাপ্টেন। দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান। সব সময় ক্ষুধার্ত। অসম্ভব ধারাবাহিকও।’‌ ক্যাপ্টেন বিরাটকে নিয়ে আরও কিছু কথা বলেছেন কালীচরণ, ‘‌ওকে দেখলেই মনে হয়, আত্মবিশ্বাসী। মানে, ও নিজে সিদ্ধান্ত নিতে জানে।

মনে হয় না, ভারত এর আগে এমন ক্যাপ্টেন পেয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু কপিলদেব। কপিল এমন ভাবে ভাবত, যা ক্রিকেটে ঘটতে পারে বলেই আগে কেউ ভাবেনি!‌ বিরাট এখন যেমন ক্যাপ্টেন্সির নতুন ব্র‌্যান্ড নিয়ে এসেছে। পাঁচ ব্যাটসম্যানে নাকি পাঁচ বোলারে খেলব, বিরাট নিজেই সিদ্ধান্ত নেয়। বিরাট কোনও ব্যাপারেই গোঁড়া নয়।’‌ কালীচরণ যখন ভারত অধিনায়ককে নিয়ে এত কথা বলছেন, তখন সৌরভ গাঙ্গুলি ও ড্যানিয়েল ভেট্টরিও প্রশংসা করলেন বিরাটের। সৌরভ মনে করেন, ‘‌ভারতের ফ্যাব ফোরের তালিকায় যুক্ত হতে পারে বিরাটের নাম।’‌ শচীন, দ্রাবিড়, লক্ষ্মণ, শেহবাগের পাশে এখনই বিরাট!‌ কেন মনে করছেন?‌ সৌরভ বলেন, ‘‌আমি লাকি। তাই শচীন, দ্রাবিড়, লক্ষ্মণ, বীরুদের সঙ্গে খেলেছি। আবার পন্টিং, লারার বিপক্ষেও খেলেছি। বিরাটের সত্যিই যোগ্যতা আছে, এদের পাশে দাঁড়ানোর। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা, স্ফুর্তি এবং একাগ্রতা— সব কিছু ওর প্রতিটি ইনিংসে ধরা পড়ে।

এত তাড়াতাড়ি ৩৪টা সেঞ্চুরি!‌ সত্যিই ভাবা যায় না।’‌ 
এদিকে ভেট্টরি মনে করেন, চাহালকে সাহসী বোলার বানিয়েছেন বিরাটই। তাঁর যুক্তি, ‘‌চাহাল সাহসী বোলার। চিন্নাস্বামীর মতো ছোট মাঠে আইপিএলের একাধিক ম্যাচ খেলার পর, সাহসী হওয়াটা কঠিন। কারণ, ওখানকার পিচ ব্যাটসম্যানদের সহায়ক। কিন্তু তাও চাহাল ব্যাটসম্যানদের আক্রমণ করে। ওর মধ্যে এই আগ্রাসী মেজাজটা ঢুকিয়েছে বিরাটই। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর আর দেশের অধিনায়ক হিসেবে বিরাটকে পেয়ে চাহাল উপকৃতই হয়েছে।’ 
ক্যাপ্টেন বিরাটের স্টাইল নিয়েও কথা বলেছেন ভেট্টরি, ‘আরসিবি–তে বিরাটের সঙ্গে খেলেছি। বিরাটের সবচেয়ে বড় গুণ হল, ও অন্যের কথা শুনতে চায়। শিখতেও চায়। তাই মাঠে বিরাটের আগ্রাসন যেমন আমার ভাল লাগে। তেমনই ভাল লাগে মাঠের বাইরে ওর শেখার ইচ্ছেটা। শুধু নিজের সম্পর্কে নয়, দলের সম্পর্কেও ও জানতে চায়।’ ‌‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top