সংবাদ সংস্থা, মুম্বই, ৫ ফেব্রুয়ারি- চুপচাপ বরাবরই। কিন্তু কিছু দিন ধরে যেন আরও বেশি!‌ চোখে–মুখে অস্বস্তি। নার্ভাস ভীষণভাবেই। হল কী?‌ ভাকোলায় এয়ার ইন্ডিয়ার মাঠে পৃথ্বী শ–কে প্রথম দিন দেখে এরকমই লেগেছিল তাঁর। কেন?‌
আসলে চেরাপুঞ্জির বৃষ্টিতে যে অভ্যস্ত, তাকে যদি সাহারা মরুভূমির জীবনে অভ্যস্ত হতে বলা হয়, যেমন অবস্থা হবে, পৃথ্বীরও তা–ই হয়েছিল। রান বৃষ্টির পর, হঠাৎ করেই রানের খরা এসেছিল তাঁর ব্যাটে। ফলে টেনশন বাড়ছিল পৃথ্বীর। বছর চোদ্দোর ছেলেকে এই টেনশনের চক্রব্যূহ থেকে বের করে আনেন তিনি। জ্বালা সিং। ভারত অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, অধিনায়ক পৃথ্বী আর তার সতীর্থদের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে দেখেছেন। আর সেটা দেখতে দেখতেই পুরনো কথা মনে পড়ছে এই কোচের। জ্বালা সিং বলেন, ‘‌এয়ার ইন্ডিয়ার মাঠে পৃথ্বী ওর বাবার সঙ্গে আসত। তাই ওর খেলা অনেকবারই দেখেছি। একদিন ওর বাবা এসে আমার সঙ্গে দেখা করলেন। জিজ্ঞেস করলাম, পৃথ্বীর খবর কী?‌ উনি বললেন, ‘‌ছেলে রান পাচ্ছে না।’‌ সমস্যাটা খুঁজে বের করার জন্য, পৃথ্বীকে একবার দেখার অনুরোধ করেন ওর বাবা। বললাম নিয়ে আসতে। তার আগে অবশ্য খুঁটিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম, পৃথ্বী কেমন খেলছে। দেখলাম, ও শুরুটা ভাল করলেও টিকে থাকতে পারছে না। আউট হয়ে যাচ্ছে ২০–৪০ রানের মধ্যে!‌ একশো পর্যন্ত এগোচ্ছেই না।’‌ তার পর কী হল? সমাধানসূত্র বেরোল কী করে?‌ জ্বালা বললেন, ‘‌নেটে ওকে ব্যাট করতে দেখেই বুঝেছিলাম, ও রান করার জন্য বড্ড বেশি ছটফট করছে। অর্থাৎ ইনিংসের শুরুতেই সব শট খেলার চেষ্টা করছে। ওকে ডেকে বলেছিলাম, বল বুঝে খেলো। সব বলে চালিয়ে খেলো না। ওর টেকনিকেও টুকটাক পরিবর্তন করেছিলাম। কিন্তু সেটা ওকে বুঝতে না দিয়ে। একজন বাচ্চা ছেলের মনস্তত্ত্ব বোঝাটা সবার আগে দরকার। পৃথ্বীকে তাই বুঝিয়েছিলাম, জীবনে আগে সাফল্য পেলে নাকি পরে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আসল হল, সাফল্য ধরে রাখা। জীবনে ধারাবাহিক থাকা। ওই দু–একটা সেশনের পরই ওর বাবাকে বলেছিলাম, পৃথ্বী আবার বড় রান পাবে। সত্যি সত্যিই পেয়েছিল।’‌ সব শেষে জ্বালা সিং বলেন, ‘‌২০১৬–তে পৃথ্বীর জন্য আমি একটি নিয়ম তৈরি করেছিলাম। বর্ষাকালে ইনডোর সেশনে প্রথম ২০ বল ও খেলার পর, বাকি ১৪০ বলে ১২০ হতেই হবে বলেছিলাম। শর্ত ছিল, এর মধ্যে আউট হলে, ও আর সেদিনের মতো ব্যাট করতে পারবে না। পৃথ্বী বেশির ভাগ দিনই সফল হত। ওই বছরই একদিন নেটে ওকে জিজ্ঞেস করি, তোমার এবারের লক্ষ্য কী?‌ পৃথ্বী বলেছিল, ও রনজি দলে ডাক পেতে চায়। লক্ষ্যপূরণ করেছিল পৃথ্বী। সত্যিই ডাক পেয়েছিল।’

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top