আজকালের প্রতিবেদন: একের পর এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আর শুভেচ্ছার ঢল। যদিও এত ব্যস্ততার মাঝেও প্রত্যাবর্তনের লড়াই শুরু করে দিয়েছে এই বঙ্গ পেসার। চোট সারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে তার অনুপ্রেরণা যুবরাজ সিং ও রাফায়েল নাদাল। যুবির ‘দ্য টেস্ট অফ মাই লাইফ’, আর রাফার ‘মাই স্টোরি’ বই দুটোই এখন উল্টেপাল্টে দেখছে ঈশান। নিজেই সে কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেছে, ‘দুজনেরই ফিরে আসার লড়াই খুব ইন্টারেস্টিং। তাই ওঁদের লড়াই কাহিনী থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার চেষ্টা করছি। যুবরাজের বইটা অনেকটাই পড়ে ফেলেছি। অন্তত এক মাস জাতীয় ক্রিকেট আকাদেিমতে রি–হ্যাব চলবে। ওই সময়েই বই দুটো শেষ করে ফেলার ইচ্ছে রয়েছে।’ এখনও দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছে না। বুধবার চন্দননগরের বাড়িতে পা রাখার পরেও ছবিটা একইরকম। নাগরিক সংবর্ধনার পাশাপাশি আরও দুটো অনুষ্ঠান সেরে বাড়ি ফিরতে অনেকটাই রাত হয়ে গিয়েছিল। তার ওপর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ঢল। যার জেরে রাতে বন্ধুদের সঙ্গে চুটিয়ে খাওয়া–দাওয়া, আড্ডা এবং পরিবারের সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর পরিকল্পনাও জলে গেছে। মায়ের হােতর রান্না খাওয়া তো দূরের ব্যাপার, বৃহস্পতিবার সকালেও এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য কলকাতা আসতে হয়েছিল। বিকেলে চন্দননগরে েফর এক রাজনৈতিক দলের তরফে সংবর্ধনা। প্রসঙ্গ উঠতেই ঈশান বলে দিল, ‘শুভেচ্ছা জানাতে আগের দিন রাত পর্যন্ত লোকজন বাড়িতে আসছিলেন। কাউকে তো বারণ করা সম্ভব নয়। এখনও ঠিকভাবে বিশ্রামটাই নিতে পারিনি। আশা করি দু’একদিনের মধ্যেই সব কিছু নর্মাল হয়ে যাবে।’  এদিন একমঞ্চে বিশ্বের দরবারে নাম উজ্জ্বল করা তিন বঙ্গসন্তানকে হাজির করেছিল আদিত্য স্কুল অফ স্পোর্টস। ঈশান পোড়েল, মেহুলি ঘোষ, শুভজিৎ ঘড়া। ঈশান যেমন অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য, তেমনই সবচেয়ে কমবয়সি বাঙালি হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসের নাম তুলে ফেলেছে মেহুলি। আর দৃষ্টিহীনদের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ঈশানের মতোই চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য শুভজিৎ। এদিন দুপুরে জমকালো অনুষ্ঠানে তাদের হাতে স্মারক, মানপত্র, রুপোর কয়েন তুলে দেওয়া হয়েছে আয়োজকদের তরফে। সংবর্ধিত করা হয় মেহুলির গুরু অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকারকেও। ঈশান যেখানে চোট সারিয়ে ফিরে আসার লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে। মেহুলি ব্যস্ত কমলওয়েলথেও দেশের নাম উজ্জ্বল করার প্রস্তুতিতে। প্রসঙ্গ উঠতেই বলে দিল, ‘পদকের কথা মাথায় নিয়ে নিজের ওপর চাপ বাড়াতে চাই না। পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই। কমনওয়েলথে ভাল করার লক্ষ্যে জয়দীপ স্যরের তত্ত্বাবধানে এখন প্রত্যেকদিন অনুশীলন চলছে। প্রস্তুতিটা ঠিকঠাক চালিয়ে যেতে পারলেই কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।’‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top