আজকালের প্রতিবেদন: টেস্ট সিরিজে নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে না পারলেও একদিনের সিরিজে দুর্দান্ত ছন্দে ভারত। ব্যাটসম্যান থেকে বোলার, সকলেই নিজেদের মেলে ধরেছেন যথাযথভাবে। বোলারদের মধ্যে বিশেষ করে যুজবেন্দ্র চাহাল ও কুলদীপ যাদবের কথা বলতেই হবে। অসাধারণ ফর্মে ভারতের এই দুই স্পিনার। দু’‌ম্যাচে চাহাল তুলে নিয়েছেন ৭ উইকেট, আর কুলদীপের ঝুলিতে ৬। প্রশংসার বন্যায় ভেসে যাচ্ছেন চাহাল ও কুলদীপ। কেপটাউনে তৃতীয় একদিনের ম্যাচেও এই দুই স্পিনারের কাঁধে ভর করে সিরিজ জয়ের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে যেতে চাইছে ভারত। শুধু দেশের সমর্থরকাই নন, টিম ম্যানেজমেন্টও স্বপ্ন দেখছেন চাহাল ও কুলদীপকে ঘিরে। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের পতনের মূলে দলের এই দুই স্পিনার, সেকথা একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন শিখর ধাওয়ানও। তৃতীয় একদিনের ম্যাচ খেলতে নামার আগে তিনি বলেন, ‘‌রিস্ট স্পিনারদের মোকাবিলা করা খুবই কঠিন। কারণ ফ্ল্যাট উইকেটেও ওরা বল ঘোরাতে পারে। বল যখন ঘুরতে শুরু করে, বিদেশি ক্রিকেটারদের কাছে কাজ আরও কঠিন হয়ে যায়। কারণ ওরা এই ধরণের স্পিনের বিরুদ্ধে খেলতে অভ্যস্ত নয়। ব্যাটসম্যানদের মনে ভীতি তৈরি হয়। আর এই ভীতিই ওদের খেলার ওপর প্রভাব ফেলছে।’‌ চাহালের থেকে কুলদীপ যাদবের বোলিংয়ের মোকাবিলা করা বেশি কঠিন বলে মনে করেন শিখর। তাঁর কথায়, ‘‌চায়নাম্যান বোলার হওয়ায় চাহালের তুলনায় কুলদীপকে বোঝা বেশি কঠিন। ওর গুগলি অনেক ব্যাটসম্যানই বুঝতে পারে না।’‌ প্রথম দুই ম্যাচে রোহিত শর্মা রান পাননি। দুই ইনিংসে সংগ্রহ ৩৫। দলের এই ওপেনারের ব্যাডপ্যাচ প্রসঙ্গে শিখর বলেন, ‘‌আমি মনে করি রোহিত ভালোই খেলছে। ব্যাট–বলে টাইমিংও ভাল হচ্ছে। দুর্ভাগ্যবশত আউট হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে এখনও পর্যন্ত ভাল ফর্মেই রয়েছে। কখনও কখনও রান আসে না, এটা হতেই পারে। সবথেকে বড় কথা হল, টাইমিং ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা। সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ওর একটা ভাল ইনিংস প্রয়োজন। ওর ফর্ম নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।’‌ দলের মধ্যে দুর্দান্ত ভারসাম্য রয়েছে বলেই সাফল্য আসছে বলে জানিয়েছেন শিখর। তিনি বলেন, ‘‌আমাদের দলে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার দারুণ ভারসাম্য রয়েছে। তরুণরা বেশ পরিণতবোধের পরিচয় দিয়েছে।’‌ 
এদিকে, তৃতীয় একদিনের ম্যাচে মাঠে নামার আগে বেশ ছন্নছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যান চোটের জন্য ছিটকে গেছেন। তার ওপর পরপর দু’‌ম্যাচে হার। সঙ্গে রয়েছে ভারতের দুই রিস্ট স্পিনারের আতঙ্ক। তাতেও প্যানিক হচ্ছে না দক্ষিণ আফ্রিকা শিবির। রাবাদা বলেন, ‘‌সমস্যা কিছু রয়েছে, তবে সেটা বড় কিছু নয়। যখন খারাপ কিছু ঘটে, তখন ভুলগুলো সামনে চলে আসে এবং বারবার ঘটে।’‌ সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকার অপশনাল প্র‌্যাকটিস ছিল। তা সত্ত্বেও সব ব্যাটসম্যানই প্র‌্যাকটিসে হাজির ছিলেন। চাহাল ও কুলদীপের কথা মাথায় রেখে ডুমিনিরা বেশি জোর দিয়েছিলেন নেটে রিস্ট স্পিনার খেলার দিকে। চোটের জন্য কুইন্টন ডি’‌কক ছিটকে যাওয়ায় তৃতীয় একদিনের ম্যাচে অভিষেক হতে চলেছে হেনরিচ ক্লাসেনের। ‌সিরিজে প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে আশাবাদী দক্ষিণ আফ্রিকা শিবির। স্মৃতিতে ভেসে উঠছে ২ বছর আগে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের কথা। প্রথম দু’‌ম্যাচে হেরে গিয়েও বাকি তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ পকেটে ভরে নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।‌‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top