আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ একদিকে বিরাট কোহলি, অন্যদিকে ভারতীয় স্পিনারেরা, দোনলা বন্দুকের সামনে দাঁড়াতেই পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। নিজের দেশেই ভারতীয় একাদশের কাছে ধুয়ে মুছে গেল মারাক্রাম শিবির। তৃতীয় একদিনেও ম্যাচেও রীতিমত পর্যদস্তু হল। ম্যাচের আগেই শিখর ধাওয়ান বলেছিলেন, 'পৃথিবীর যে কোনও দেশকে তাঁদের মাটিতে গিয়ে হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ভারত'। সেই কথাটাই ফলে গেল অক্ষরে অক্ষরে। প্রমাণ করে দিল বিরাট বাহিনী। ১২৪ রানে মাঠের বাইরে ফেলে দিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে।  আজকের ম্যাচের পর প্রথম পর্বের পরেই একটা প্রশ্ন ঘুরছিল ক্রিকেট প্রেমীদের মাথায়, যে কোথায় থামবেন বিরাট কোহলি?‌ তাহলে কি খুব দ্রুতই ভাঙতে চলেছে শচীন তেন্ডুলকারের রেকর্ড?‌ এই প্রশ্নগুলি উঠছে কারণ ফের একবার দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে শতরান করলেন ভারত অধিনায়ক। তৃতীয় ওয়ানডেতে অপরাজিত রইলেন ১৬০ রানে। মূলত তাঁর এবং শিখর ধাওয়ানের ব্যাটে ভর করে ৫০ ওভার শেষে ভারতের রান দাঁড়াল ৬ উইকেটে ৩০৩ রান। এদিন টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক মারক্রাম। আর শুরুতেই ভারতকে ধাক্কা দেন কাগিসো রাবাদা। শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রোহিত শর্মা। এরপর ভারতীয় দলের ‘‌গব্বর’ এবং অধিনায়ক মিলে দলের রানকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন। দ্বিতীয় ওয়ানডে–র মতোই এই ম্যাচেও দু’‌জনের বোঝাপড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম ম্যাচে কোহলির কারণে  শিখর ধাওয়ান রান আউট হওয়ার পর যে বিতর্কের মেঘ দেখা দিয়েছিল, তা যেন কর্পূরের মতো উবে গিয়েছে। দু’‌জনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ১৪০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। শিখর ৭৮ রান করে আউট হয়ে গেলেও কোহলি নিজের ৩৪ তম সেঞ্চুরিটি করেন। এটি চলতি ওয়ানডে সিরিজে ভারত অধিনায়কের দ্বিতীয় শতরান। এছাড়া টেস্ট সিরিজেও রানের মধ্যেই ছিলেন তিনি। একদিকে যখন রাহানে, ধোনি, পাণ্ডিয়া এবং কেদার যাদব দ্রুত আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরছেন, অপরদিকে তখন একার কাঁধে দলের রানকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কোহলি। শেষপর্যন্ত ১৬০ রানে অপরাজিত থাকলেন তিনি।  তাঁর সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার (‌১৬)‌। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস প্রথম থেকেই নড়বড় করছিল।  বুমরাহ–র বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে প্রথমেই ফিরে যান হাসিম আমলা (১‌)‌। কিন্তু এই ১২৪ রানের বিপুল ব্যবধানে হারতে হবে, সেটা মারাক্রামও বোধহয় ভাবেননি। প্রথম উইকেট পরার পরে অবশ্য লড়াই করতে শুরু করেন মারাক্রাম ও ডুমিনি। দ্বিতীয় উইকেটে ৭৮ রান যোগ করেন তাঁরা। কিন্তু তখনও ভারতীয় স্পিনারদের জাদু শুরু হয়নি। এরপরেই বল করতে আসেন কুলদীপ যাদব। সঙ্গে সঙ্গে ফিরে যান মারাক্রাম। মারাক্রামকে স্টাম্প করে একদিনের ক্রিকেটে ৪০০ স্টাম্প করার রেকর্ড করে ফেলেন ধোনি। এরপর থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৭ ওভারে ৭৯ রানে ১ উইকেট থেকে ৩৩ ওভারের মাথায় ১২৯ রানে ৫ উইকেট খুইয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাকি পাঁচ উইকেটে আর মাত্র ৫০ রান যোগ করেই শেষ হয়ে যায় তাঁদের ইনিংস। ভারতের দুই স্পিনার চাহাল ও কুলদীপ যাদব ৪টি করে উইকেট দখল করেন। বুমরা তুলে নেন ২টি উইকেট। এই ম্যাচে জয়ের ফলে একদিনের সিরিজে ৩-০ তে এগিয়ে গেল ভারত। 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top