বিশ্বজিৎ দাস: শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে টুর্নামেন্ট। অথচ সেই ‘নিদাহাস কাপ’–এর শুরুতেই হোঁচট খেতে হচ্ছিল আয়োজক দেশকে। কলম্বোয় জরুরি অবস্থা জারি। টুর্নামেন্ট নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয়, যে শেষপর্যন্ত আসরে নেমে বিবৃতি দিতে হয় দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে। যাবতীয় সংশয় উড়িয়ে ম্যাচ অবশ্য নির্ধারিত সময়েই শুরু হয়।
প্রেমদাসা স্টেডিয়ামের ২২ গজে ঘাসের চিহ্নমাত্র নেই। পিচ রিপোর্ট দেওয়ার সময় ব্রেট লি পর্যন্ত বলে দিয়েছিলেন, ‘পাটা ব্যাটিং উইকেট। যা দেখে একজন ব্যাটসম্যানের লোভ হওয়া উচিত। হয়তো সেজন্যই টস জিতে শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক দীনেশ চন্ডিমাল যখন ভারতকে ব্যাট করতে পাঠানোর কথা বলছিলেন, চোখ যেন চিকচিক করে উঠছিল রোহিতের। বলেও দিয়েছিলেন, ‘এখানে প্রথমে ব্যাট করতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।’ 
টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়টা যদি প্রতীকি ধরে নেওয়া হয়, তাহলে ম্যাচে ভারতীয় শিবিরের অবস্থাও শুরুতে একইরকম হয়েছিল। আধ ঘণ্টা আগে টসের সময় যে রোহিত বলেছিলেন, শুরুতে ব্যাট করতে সমস্যা নেই, তিনিই সাজঘরে ফিরলেন ইনিংসের চতুর্থ বলে। কোনও রান না করে। অবশ্য রোহিতের উইকেটটার জন্য বোলার চামিরার থেকে ফিল্ডার জীবন মেন্ডিসের বেশি কৃতিত্ব প্রাপ্য। মিড অফ থেকে দৌড় লাগিয়ে বাউন্ডারির কাছাকাছি গিয়ে শরীর ছুঁড়ে ক্যাচটা ধরলেন। পরের ওভারে রায়নাও আউট। রোহিত ফেরার পর যখন ধাওয়ানের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলের রান বাড়ানোর দায়িত্ব নেওয়া উচিত, সেই সময় রায়নার দায়িত্বজ্ঞানহীন শট বাছাই। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই নুয়ান প্রদীপের বলে যেভাবে স্টাম্প ছেড়ে শট মারতে গিয়ে বোল্ড হলেন, তাতে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে এই বাঁ-হাতিকে। 
দলের সহ–অধিনায়ক। ম্যাচে ভারতের স্কোর যখন ৯/২, তখন তাঁকে যে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। শিখর সেটাই করে গেলেন। শুরুতে মণীশ পান্ডে, পরে ঋষভ পন্থকে সঙ্গে নিয়ে। মণীশকে নিয়ে ৯৫ রানের পার্টনারশিপ। ঋষভের সঙ্গে ৪৯ রানের জুটিতে ইতি পড়ল, ১৮ ওভারের মাথায় শিখর নিজে আউট হওয়ায়। ৪৯ বলে ৯০ রানের ইনিংসে নজিরও গড়ে গেলেন শিখর। এতদিন টি ২০ ক্রিকেটে তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ছিল ৮০ রান। এদিন সেটা ছাপিয়ে গেলেন। তাৎপর্যের বিষয়, কুড়ি–বিশের ক্রিকেটে শিখরের সর্বোচ্চ রানের তিন ইনিংস খেলেছেন শেষ সাত ম্যাচে। শিখর ফেরার পর ভারতীয় ইনিংসের শেষবেলায় দু’ওভারে ২১ রান যোগ করলেন দীনেশ কার্তিক–ঋষভ পন্থ। শর্ট বলকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ইনিংসের শেষ বলে ডিপ ফাইন লেগে ধরা পড়লেন ঋষভ (২৩ বলে ২৩)। ৬ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন দীনেশ। স্কোরবোর্ড বলছে, ২০ ওভারে ভারত ১৭৪/৫। যার মধ্যে শিখরের ৪৯ বলে ৯০ বাদ দিলে, দেখা যাচ্ছে বাকিরা মিলে ৭১ বলে ৭৪ রান তুলেছেন। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ পেলেন না তামিলনাড়ুর অলরাউন্ডার বিজয় শঙ্কর।
হোক না ঘরের মাঠ। ২০ ওভারে ১৭৪ রান তাড়া করার কাজ যে মোটেই সহজ নয়, তা বিলক্ষণ জানত শ্রীলঙ্কা শিবির। সেজন্যই প্রথম ৬ ওভারের পাওয়ার প্লে–তে ৩০ গজ বৃত্তের ভিতরে ফিল্ডার থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। করলেনও। দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক টি ২০ ম্যাচ খেলতে নামা ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে কুশল মেন্ডিস (৬ বলে ১১) আউট হলেও, নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি শ্রীলঙ্কা। পরের ওভারেই আক্রমণে আসা শার্দূল ঠাকুরের ওভারে ২৭ রান নিলেন কুশল পেরেরা। পরপর তিনটি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি হওয়ায় পর মাথা ঠিক রাখতে না পেরে নো–বলও করে ফেললেন তিনি। যা দেখে একসময় রোহিতের কাছে এগিয়ে গিয়ে পরামর্শ দিতেও দেখা গেল শিখর ধাওয়ানকে। তাতে অবশ্য লাভ হয়নি। ৩৭ বলে ৬৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে যখন কুশল পেরেরা আউট বলেন, তখন ম্যাচ শ্রীলঙ্কার পকেটে৷ শেষপর্যন্ত পাঁচ উইকেট হাতে থাকতেই ম্যাচ জিতে যান চন্ডীমলরা৷

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top