মুনাল চট্টোপাধ্যায়, শিলং: ‌শিলংয়ের মাঠে লাজংয়ের সঙ্গে ড্র–‌টা কিছুতেই মানতে পারছেন না ইস্টবেঙ্গল কোচ–‌‌কর্তা–‌‌ফুটবলাররা। দীর্ঘদিন পর আই লিগ জেতার সুযোগ হাতের মুঠোয় চলে এসেছিল। শেষ দুটো ম্যাচ জিতলে কারও দিকে তাকাতে হত না ১৪ বছরের খরা কাটাতে। সেটা হাতছাড়া হওয়ায় স্বপ্নভঙ্গের বেদনা ইস্টবেঙ্গল শিবির জুড়ে। কোচ খালিদ এতটাই মুষড়ে পড়েছিলেন যে মাঠ থেকে হোটেলে ফিরে খেতে বেরোননি ঘর ছেড়ে। আমনা, ডুডু, কাৎসুমি–‌সহ দলের অনেক ফুটবলার সারারাত ঘুমোতে পারেননি এমন সুবর্ণ সুযোগ কীভাবে হাতছাড়া করলেন ভেবে। হোটেলের করিডরে অস্থিরভাবে সারারাত পায়চারি করেছেন দলের কর্তা মণীশ ব্যানার্জি, রজত গুহরা। ম্যানেজার মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যর অবস্থাও একইরকম। তাঁকে দেখলে মনে হবে, জীবনে বড়রকম বিপর্যয় ঘটে গেছে। এর মাঝে বৃহস্পতিবার কলকাতার মাঠে নেরোকার বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ খেলার জন্য মানসিকভাবে তৈরি হতে চেষ্টা করছেন ফুটবলাররা লাজং ম্যাচের ফল ভেবে। এই বলে নিজেদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন, লাজং ম্যাচ জিতলেই তো কাজ শেষ হত না। নেরোকার বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে তো জিততেই হত। ওই ম্যাচে ড্র করলেও তো চ্যাম্পিয়ন হওয়া যেত না। অতএব একটা শেষ চেষ্টা করাই যাক নেরোকা ম্যাচে। অনেক জটিল অঙ্ক পেরিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতেও পারে ইস্টবেঙ্গল। সোমবার সকাল পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল শিবিরে একটা চনমনে ভাব। ফুরফুরে মেজাজ। ফুটবলাররা পরস্পরের সঙ্গে হাসিঠাট্টায় মেতেছিলেন। সেই ছবিটা বদলে গেছে লাজং ম্যাচের পর। সকালে শিলং ছেড়ে গুয়াহাটি হয়ে কলকাতা রওনা হওয়ার মুখে ফুটবলারদের পাওয়া গেল বিষণ্ণ চেহারায়। একরাতে সকলে যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো হয়ে গেছেন। মুখে কোনও হাসি নেই। প্রাতরাশের টেবিলে কেউ এলেন। কেউ এলেনই না। সোজা ব্যাগ হাতে উঠে পড়লেন গুয়াহাটিগামী গাড়িতে। কথা বলার মতো মেজাজে নেই কেউই। তার মাঝেই আপশোসের সুরে ডুডু বললেন, ‘‌হার্টব্রেকিং। এভাবে ম্যাচটা হাত থেকে বেরিয়ে যাবে ভাবিনি। চেন্নাই ম্যাচের মতো আগাগোড়া দাপট দেখিয়ে খেলতে পারলাম না আমরা। এর আগে স্ট্রাইকাররা গোল পাচ্ছে না বলে সমালোচনার মুখে পড়তে হত। গোল তো হচ্ছে। দুগোল পেলাম এই ম্যাচে। কিন্তু সেটা ধরতে রাখতে পারা গেল না বলে খুব খারাপ লাগছে। তবে এর আগেও একটা সময় মনে হয়েছিল মিনার্ভা চ্যাম্পিয়ন হচ্ছেই। তারপর বারবার ছবিটা বদলেছে। অনেকেই ভাবেননি চেন্নাই হারাবে মিনার্ভাকে। তাই শেষ রাউন্ডের ম্যাচগুলোয় এমন অনেক ফল হতে পারে, যা আমাদের অনুকূলে যাবে। তবে আমাদের লাজং ম্যাচের ড্র ভুলে নেরোকা ম্যাচ জিততে ঝাঁপাতে হবে এক হয়ে।’‌ কাৎসুমি, আমনাদের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, লাজং ম্যাচ যে কঠিন হবে, এটা আগেই বলেছিলাম। এটাও জানতাম পরিস্থিতি কিছু্ই বদল হয়নি। নিজেরা ম্যাচ না জিতলে অন্যরা কী করল ভেবে লাভ নেই। এখন নেরোকা ম্যাচের আগে মানসিকভাবে নিজেদের চাঙ্গা করলেই শুধু হবে না। শারীরিক ক্লান্তি কাটাতে হবে একদিনের মধ্যে নেরোকা ম্যাচের জন্য। কোচ খালিদ এখনও মানতে পারছেন না, এক গোলে এগিয়ে গিয়েও সেটা ফুটবলাররা ধরে রাখতে না পারায়। সিলি মিস্টেকে গোল খাওয়াটাও তাঁকে অখুশি করেছে। কোথাও যেন অমনযোগিতা ধরা পড়েছে খেলায়। তাতেই এই জয় ফসকে যাওয়া। নিজেও বুঝতে পারছেন না, ফুটবলাররা কেন আক্রমণাত্মক খেলা থেকে সরে এল?‌ এদিন আর কথা বলার সুযোগ নেই ফুটবলারদের সঙ্গে। কারণ সকালে বেরিয়ে ফুটবলারদের কলকাতা পৌঁছতেই বিকেল গড়িয়ে যাবে। একেবারে বুধবার সকালে ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলবেন। নেরোকা ম্যাচ জিতে আই লিগ শেষ করতে চান খালিদ। আশা ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে শুভ কিছু ঘটবে। সেই আশায় ভাঙা মন নিয়ে অপেক্ষায় ম্যানেজার মনোরঞ্জনও। লাজং ম্যাচের হঠাৎ খেলা থেকে হারিয়ে যাওয়াটা আর মাথায় রাখতে চান না। নেরোকা ম্যাচে ফুটবলাররা সেরা দেবেন এটাই ভাবছেন। তবে ইস্টবেঙ্গল শিবির ও সমর্থকদের মাঝে এক অন্য উদ্বেগ। শেষ রাউন্ডের নানা অঙ্কে মোহনবাগান যেন চ্যাম্পিয়ন না হয়ে যায়। তাহলে মুখ পড়বে। ‌‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top