শ্যাম থাপা: পরিস্থিতি যা ছিল, তাতে অ্যাডভান্টেজ মিনার্ভা আমরা সবাই জানতাম। কিন্তু তা–‌ও ক্ষীণ আশা ছিল। যদি ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগানের মধ্যে কেউ আই লিগটা জিততে পারে। আসলে আমি বড় হয়েছি বাংলার ক্লাবে খেলেই। ফুটবল মানে আমার কাছে এখনও ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান। এই ক্লাবগুলো না থাকলে আমিও এই জায়গায় থাকতাম না। শ্যাম থাপাকে কেউ চিনত না।
জানি শেষ ম্যাচটার আগে অনেকেই বলছিলেন, ‘‌না না বাংলায় আসবে না আই লিগটা। ওই মিনার্ভাই নিয়ে যাবে।’‌ কথাটা যে রাগে, দুঃখে বলছেন, বুঝতে অসুবিধে হয় না। এঁরা যে মনে মনে আসলে চান, ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগান জিতুক, সেই সত্যিটা অস্বীকার করা যাবে না। 
শেষ ম্যাচে আই লিগের ফয়সালা। এই পরিস্থিতিতে একটা ক্ষীণ আশা যেমন ছিল, তেমনই ছিল একটা ভয়ও। শেষ ম্যাচটা মিনার্ভা বনাম ইস্টবেঙ্গল বা মিনার্ভা বনাম মোহনবাগান হলে, নিঃসন্দেহে আরও বেশি টেনশনে থাকতাম। তবে ছিলাম এক্ষেত্রেও। আমি তো বলব, ইস্টবেঙ্গলের শেষ ম্যাচটা ছিল সবচেয়ে বেশি কড়া। আর মিনার্ভার ম্যাচটা ছিল সবচেয়ে সহজ। মিনার্ভা কোনও ভুল করেনি। তবে দুঃখের ব্যাপার হল ঘরের মাঠে নেরোকার বিরুদ্ধে জিততে পারল না ইস্টবেঙ্গল। জিততে যেন ভুলেই গেছে ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান!‌ তাগিদটাই নেই!‌ 
এই যে একটা সুযোগ এসেও হাতছাড়া হয়ে গেল, তারপরই তো নড়েচড়ে বসা দরকার পরের বারের জন্য। ঐতিহ্যের ক্লাব ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের নামটা নষ্ট হচ্ছে। সেটা কি এরপরও বুঝতে পারছে না?‌ আই লিগ নিয়ে এবার তো অন্তত ভাবুক। দূরের পরিকল্পনাটা আর কবে করবে?‌ কোনও প্রস্তুতি নেই, কোনও ভাবনা নেই, শেষ মুহূর্তে একজন বিদেশি এনে দলের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে!‌ পেশাদারিত্ব শব্দের অর্থটা কি বোঝে?‌ আকাদেমির প্লেয়ার আনুক। বাইরের প্লেয়ার এনে কাজ চালানো!‌ নিজের দলের প্লেয়ার কোথায়?‌ কোনও মাঠ নেই!‌ আকাদেমি গড়ার ইচ্ছে নেই!‌ গড়লেও তা থেকে প্লেয়ার তুলে আনতে ব্যর্থ!‌ নতুন প্লেয়ার উঠছে না কেন?‌ এই প্রশ্নটা ক্লাবকর্তাদের মনে একবারও জাগে না?‌ রোগটা সারানোর কোনও চেষ্টা কি করেছে?‌ দুই ক্লাব কর্তাদেরই অনুরোধ করছি, দয়া করে এবার ভাবুন। টেকনিক্যাল টিম গড়ে অনেক কিছু বলা হয়। কিন্তু কোচিংয়ের কোনও ধারণাই নেই, ফুটবল বোঝে না যারা, তাদেরকে নিয়োগ করা হচ্ছে!‌ যারা ফুটবল বোঝে, তাদের তো দায়িত্বে আনুন? 
খুব ভাল লাগছে, মিনার্ভার উঠে আসা দেখে। ভারতীয় ফুটবলের জন্য আদর্শ খবর। তরুণদের নিয়ে দল গড়ে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল!‌ যে পাঞ্জাব হকি ও কুস্তির জন্য বিখ্যাত, সেখানকার ফুটবল দল আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল!‌ 
আমাদের কর্তাদের বড় বড় কথা। ইউথ ডেভেলপমেন্ট নিয়ে নেট ঘেঁটে বুলি আওড়ান অনেকে। কিন্তু সেটা বাস্তবায়িত করার তাগিদ নেই। আকাদেমির বাচ্চাদের সময় না দিলে কী করে উঠে আসবে প্লেয়ার?‌ আমাদের বাংলার ফুটবল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে খেপ খেলে খেলে। তরুণ ফুটবলারদের দিয়ে এই খেপ খেলিয়েই তাদের নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। এই যে মোহনবাগান আকাদেমির এত দিন হয়ে গেল, একটা ভাল প্লেয়ার তুলে আনতে পেরেছে?‌ আকাদেমি থেকে পরপর প্লেয়ার উঠে এলে তাদের মধ্যে বোঝাপড়াটাও ভাল হয়। ঝটতি–পড়তি বিদেশি না নিয়ে ভাল বিদেশি এনে তাদের আকাদেমির তরুণ প্লেয়ারদের সঙ্গে প্র‌্যাকটিস করিয়ে টিমটা গোছানো যায়। কিন্তু না, এগুলো কিছুই করবেন না!‌ আসলে প্রখর ফুটবল বুদ্ধির কোনও লোক নেই। সমস্যাটা এখানেই। অনেকদিন এভাবে চলেছে। আর দেখা যাচ্ছে না। এবার অন্তত বাংলার ফুটবলে তাগিদের মতো তাগিদ হোক। চোখ খোলার সময় হয়ে গেছে। আর কতদিন ঘুমিয়ে থাকবে?‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top