আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বিশ্ব ফুটবলে নক্ষত্রপতন। মারা গেলেন ১৯৬৬–র বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক গর্ডন ব্যাঙ্কস। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। দেশের হয়ে ৭৩ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা গোলরক্ষকের মৃত্যুর খবর পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। চলছিল কেমোথেরাপি। বহু প্রাক্তন সতীর্থ অসুস্থ ব্যাঙ্কসকে দেখতে এসেছেন সাম্প্রতিক অতীতে। এবার সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন ব্যাঙ্কস। রেখে গেলেন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে। 
১৯৬৬–র বিশ্বকাপ ফাইনাল। যা বিতর্কিত হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে আছে। মাত্র ১২ মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি। কিন্তু ১৯ মিনিটেই ওয়েম্বলিতে দলকে সমতায় ফেরান ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট। প্রথমার্ধে খেলার ফল ছিল ১–১। ৭৭ মিনিটে ফের এগোয় ইংল্যান্ড। কিন্তু ৮৯ মিনিটে জার্মানি আবার সমতায় ফেরে। নির্ধারিত সময় ২–২ থাকার পর শুরু হয় অতিরিক্ত সময়ের খেলা। অতিরিক্ত সময়ের ১১ মিনিটের মাথায় হার্স্টের সেই বিতর্কিত গোল। তারপর আবার হার্স্ট গোল করেন। হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন। সেই ম্যাচে একাধিকবার পশ্চিম জার্মানি আটকে গিয়েছিল ব্যাঙ্কসের বিশ্বস্ত হাতের কাছে। 
ব্যাঙ্কসের পরিবারের তরফে স্টোক সিটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘‌দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি। গর্ডন ব্যাঙ্কস সোমবার রাতে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। দেশকে অনেক গর্বের মুহূর্ত এনে দিয়েছিলেন ব্যাঙ্কস।’‌ স্টোক সিটির তরফে বলা হয়েছে, ‘‌ব্যাঙ্কসের পরিবারের জন্য রইল সমবেদনা।’‌ লেস্টার সিটিও নিজস্ব ওয়েবসাইটে লিখেছে, ‘‌খুবই দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমাদের ক্লাবের প্রাক্তন গোলরক্ষক গর্ডন ব্যাঙ্কস এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।’‌ 
ব্যাঙ্কসের হাত ধরেই দু’‌বার স্টোক সিটি এফ এ কাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল।

ব্যাঙ্কসের নেতৃত্বে তারা লিগ কাপ পায় ১৯৭২ সালে। ২০০০ সালে স্টোক সিটির সভাপতি হয়েছিলেন ব্যাঙ্কস। 
ব্যাঙ্কসের ফুটবল কেরিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে, ৭০ বিশ্বকাপও রয়েছে। মেক্সিকো বিশ্বকাপে পেলের দুরন্ত শট আটকে বিখ্যাত হয়ে যান ব্যাঙ্কস। যাকে বলা হয় ‘‌সেভ অফ দ্য সেঞ্চুরি’‌। কিন্তু ভাগ্যের কী পরিহাস!‌ ১৯৭২ সালে পথ দুর্ঘটনায় ডান চোখের দৃষ্টি হারান ব্যাঙ্কস। মাত্র ৩৪ বছরেই থেমে যায় এক বিরল প্রতিভার ফুটবল কেরিয়ার।   
একবার–দু’‌বার নয়। ছ’‌বার পেয়েছিলেন ফিফার বর্ষসেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার। ১৯৬৬ সালে ফিফার বর্ষসেরা দলেও ছিলেন তিনি। 
১৯৩৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর শেফিল্ডে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ব্যাঙ্কস। কেরিয়ারের বেশিরভাগ সময়টাই কাটিয়েছেন লেস্টার সিটি ও স্টোক সিটিতে। দুই ক্লাবের হয়েই একাধিক ট্রফি জিতেছেন। আর জাতীয় দলে অভিষেক ১৯৬৩ সালে। টানা খেলেছেন ৭২ অবধি। খেলা ছাড়ার পর কোচিংয়েও এসেছিলেন। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। 
তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া ইংল্যান্ড ফুটবল জগতে। ব্যাঙ্কসের উত্তরসূরী পিটার শিলটন, ডেভিড সিম্যানরা শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন পল গ্যাসকোয়েন। শোকবার্তা পাঠিয়েছেন তাঁর বিশ্বকাপ জয়ী সতীর্থ জিওফ হার্স্ট থেকে গ্যারি লিনেকার, মাইকেল ওয়েনরা। 
লোকে বলে ইতিহাস থেকে যায়। ঐতিহাসিক নয়। কিন্তু গর্ডন ব্যাঙ্কসের মতো ব্যক্তিত্বদের জন্যই লিখতে হয়, ‘‌ইতিহাস ও ঐতিহাসিক একইসঙ্গে থাকতে পারে। যদি তার মধ্যে থাকে সজীবতা। প্রাণের ছোঁয়া।’‌ 
‘‌সেভ অফ দ্য সেঞ্চুরি’‌–র নায়ক‌ ইতিহাসের পাতাতেই থেকে গেলেন। মৃত্যুর পরেও। ‌‌

গর্ডন ব্যাঙ্কস। ফাইল ছবি। 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top