France-England: এমবাপেই কোচ দেশঁর সেরা বাজি

মুনাল চট্টোপাধ্যায়, দোহা

আ টেল অফ টু সিটিজ।

চার্লস ডিকেন্সের অমরসৃষ্টি। বিপ্লব ঘিরে দু’‌দেশ ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মর্মগাথা উঠে এসেছিল ডিকেন্সের শক্তিশালী লেখনীতে। আজ কাতারের মাটিতে আল বায়াত স্টেডিয়ামের মাঠে কোয়ার্টার ফাইনালে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের লড়াইয়ে নয়া ফুটবল মহাকাব্য রচনা হতে চলেছে। মাঠে মুখোমুখি হওয়ার আগেই বাকযুদ্ধে একে–অপরকে হারানোর প্রতিযোগিতা চলছে দু’‌দলের ফুটবলারদের মধ্যে। রাশিয়া বিশ্বকাপে একটা সময় পর্যন্ত মনে হয়েছিল ফাইনাল হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে। সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ইংল্যান্ড না হারলে সেটাই হত। তবে এবার কাতারে দু’‌দল সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পরস্পরের সামনে। আর্সেন ওয়েঙ্গারের মতো ফুটবল বিশেষজ্ঞর মতে, ‘‌দু’‌দলের এত তাড়াতাড়ি দেখা হয়ে গেল। অকাল ফাইনাল বললে ভুল হবে না।’‌

একদিকে, যখন মেসি, নেইমার, রোনাল্ডোকে নিয়ে বিশ্বকাপের বাজার সরগরম, তখন ফ্রান্স–ইংল্যান্ডের মহারণের কেন্দ্রবিন্দুতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে। ফ্রান্সের গত বিশ্বকাপ জয়ে যাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। এবারও প্রথম ম্যাচ থেকে দুরন্ত ছন্দে ও গোলের মাঝে রয়েছেন তিনি। এতেই ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশঁ আত্মবিশ্বাসী। ইংল্যান্ডের এক সাংবাদিক ঘুরিয়ে দেশঁর কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন, ‘‌আপনার ও দলের ফুটবলারদের কথা শুনলে মনে হচ্ছে, ফ্রান্সের সাফল্য অনেকটাই এমবাপে নির্ভরশীল। এমবাপে আটকে গেলে কী করবেন?‌ প্ল্যান বি তৈরি আছে?‌’‌ দেশঁর জবাব, ‘কিলিয়ান হল কিলিয়ানই। অপেক্ষা করুন কিলিয়ান ভেলকির জন্য। মাঠে নেমে পার্থক্য গড়ে দেবে, দলকে জেতাবেও।’‌ 

ইংল্যান্ডের কেলি ওয়াকার হুঙ্কার ছেড়েছেন এমবাপেকে বোতলবন্দি করে রাখবেন বলে। তা শুনে হেসেছেন ফ্রান্সের ফোফানা। বলেছেন, ‘‌এমবাপেকে রোখার উপায় খুঁজে চলেছেন বিভিন্ন ক্লাবের কোচ ও ফুটবলাররা। এখনও পাননি। শেষ হাসিটা এমবাপেই হাসবে, কেলি কাঁদবে।’‌ 

দেশঁকে খোঁচা দিতে এক সাংবাদিক বলেছিলেন, ‘আপনার দলের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হল গোলকিপার হুগো লরিস। সেটপিসেও আপনাদের ঝামেলা আছে। এনিয়ে কী বলবেন?‌’‌ দেশঁর উত্তর, ‘‌তাই, তাহলে খুব ভয়ের ব্যাপার বলুন?‌ আচ্ছা, ইংল্যান্ড দলে কোনও দুর্বলতা নেই বলছেন?‌ সবকিছু মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিয়েছি। আমার ফুটবলাররা জানে মাঠে নেমে কী করতে হবে। ইংল্যান্ড বরং ভাবুক আমাদের এমবাপে, জিরু, গ্রিজম্যানদের কীভাবে আটকাবে।‌’‌ 

ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে এমবাপে বিতর্কে বা আলোচনা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। ফ্রান্সের ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকদের শুধু বলেছেন, গোল্ডেন বুট, বিশ্বকাপ জয়, সেমিফাইনাল ম্যাচের প্রতিপক্ষ এসব কিছু নিয়েই ভাবছেন না। তাঁর এই মুহূর্তে লক্ষ্য শুধুই ইংল্যান্ডের বাধা টপকানো।‌ 

ইংল্যান্ডের কোচ গ্যারেথ সাউথগেট সম্পর্কে দেশঁর গলায় শ্রদ্ধার সুর। বলেছেন, ‘‌গ্যারেথ বড় মাপের কোচ। ও নিজেকে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রমাণ করেছে। গত বিশ্বকাপের মতো এবার কাতারেও ওর কোচিংয়ে দল ভাল খেলছে।’‌ 

কোচ দেশঁর কথায় পূর্ণ সমর্থন জানালেন গোলকিপার লরিসও। বলেন, ‘‌এমবাপের ওপর দলের ও দেশবাসীর প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। তাই বলে এমবাপে চাপে আছে, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। ইংল্যান্ডের সঙ্গে একটা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে ফ্রান্সের। তার জন্য বাড়তি চাপ অবশ্য এমবাপে কেন, দলের কেউ অনুভব করছে না। গত বিশ্বকাপের তুলনায় ইংল্যান্ড দল আরও উন্নতি করেছে। কোচ সাউথগেট ও অধিনায়ক হ্যারি কেনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভাল। তবে মাঠের লড়াই অন্যরকম।’

আকর্ষণীয় খবর