আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ চূড়ান্ত নাটক। আজ রাতেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। তার আগেই অধিনায়ক বদল হয়ে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। দীনেশ কার্তিককে ‘‌ছাঁটাই’‌ করে অধিনায়ক করা হল ইংল্যান্ডের তারকা ইওন মর্গ্যানকে। নাইট শিবিরের তরফ থেকে আবার দাবি করা হয়েছে, কার্তিক নিজেই মর্গ্যানের হাতে অধিনায়কের ব্যাটন তুলে দিয়েছেন। তবে আইপিএলের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির ছাঁটাইয়ের যা অতীত ইতিহাস, তাতে এটা স্পষ্ট যে, দীনেশকে ‘বাধ্য’ই করা হয়েছে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিতে। 
টুর্নামেন্টের মাঝপথে অধিনায়ক বদলের উদাহরণ আইপিএলে আরও আছে। ২০১৮ সালে দিল্লির অধিনায়কত্ব থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছিল গৌতম গম্ভীরকে। সেই গম্ভীর, যিনি দু’বার কলকাতাকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। তাঁর জায়গায় দিল্লির অধিনায়ক করা হয়েছিল শ্রেয়স আইয়ারকে। গম্ভীরকে তারপর টিমেই রাখা হয়নি। আবার ২০১৭ সালে আইপিএল শুরু হওয়ার মাত্র একমাস আগে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে সরিয়ে রাইজিং পুণে সুপারজায়ান্টসের অধিনায়ক করা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথকে।
ব্যাটিংয়ে আরও মন দিতে চান। দলের সাফল্যে আবদান রাখতে চান। এই জন্যই নাকি অধিনায়কত্ব থেকে সরে গেছেন কার্তিক। এমনটাই বলা হয়েছে কেকেআরের তরফে। নাইট ম্যানেজমেন্ট আড়াই বছর ধরে অধিনায়কত্বের দায়িত্বে থাকা কার্তিকের অবদানকে কুর্নিশ করেছে। মর্গ্যানকে আগামীদিনের শুভেচ্ছাও জানানো হয়েছে। কেকেআর সিইও ভেঙ্কি মাইসোর বলেছেন, ‘‌আমরা ভাগ্যবান যে ডিকের মতো একজন নেতা পেয়েছি। যে সবসময় দলের কথা আগে ভাবে। এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সাহস লাগে। আমরা ওর সিদ্ধান্তে অবাক। তবে কার্তিকের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানাই। আমরা অবশ্যই ভাগ্যবান যে এখন আমাদের দলের দায়িত্বে ২০১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইওন মর্গ্যান।’‌ এরপরই কেকেআরের তরফে বলা হয়েছে, ‘‌এই টুর্নামেন্টে ডিকে ও মর্গ্যান একসঙ্গে খুব ভাল কাজ করেছে। এখন মর্গ্যান অধিনায়কত্ব করবে। আশা করব গোটা প্রক্রিয়াটা ঠিকভাবেই এগোবে।’‌ 
মরশুমের প্রথম সাত ম্যাচের মধ্যে ৪ ম্যাচে জয়, ৩টি হার। খাতায় কলমে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল হাতে থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত সাফল্য পাচ্ছিল না কেকেআর। সম্ভবত সেজন্যই সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরাল দাবি উঠছিল কার্তিকের অপসারণের। মর্গ্যানকে অধিনায়ক করার দাবি জোরালো হচ্ছিল। মর্গ্যান এই বছরেই আবার কেকেআরে ফিরেছেন। এর আগে তিনি ২০১০ সালে খেলেছিলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দলে। ২০১১ থেকে ২০১৩ খেলেছিলেন কেকেআরে। ২০১৪ সালে তিনি আইপিএল খেলেননি। ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে খেলেছিলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে। ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে খেলেছিলেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে। ২০১৯ সালে তিনি আইপিএল খেলেননি। কিন্তু অধিনায়কত্ব করবেন এই প্রথম।
অন্যদিকে কার্তিক কেকেআরের অধিনায়ক হয়েছিলেন ২০১৮ সালে। সেবার তাঁর নেতৃত্বে কেকেআর প্লে–অফ খেলেছিল। ২০১৯ সালে কেকেআর আইপিএলে পঞ্চম স্থানে শেষ করে। এবছর প্রথম থেকেই কার্তিকের নিজের ফর্ম এবং তাঁর অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গতবছর দলের তারকা ব্যাটসম্যান আন্দ্রে রাসেলকে ব্যাটিং অর্ডারে পরে নামানো নিয়ে নাইটদের সংসারে যথেষ্ট অশান্তিও হয়েছিল। ক্ষুব্ধ রাসেল নিজেই ওই বিষয়ে মুখ খুলেছিলেন। এ বারেও সুনীল নারাইনকে দেরিতে বল করতে আনা বা রাহুল ত্রিপাঠির ব্যাটিং অর্ডার ক্রমাগত বদলানো নিয়ে সমালোচনায় পড়েছেন কার্তিক। এবার ব্যাটে তাঁর ফর্মও তেমন আহামরি নয়। এখনও পর্যন্ত ৭টি ম্যাচের ৬টিতে তিনি ব্যাট করেছেন। তার মধ্যে ৫টিতেই ব্যর্থ। একমাত্র পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচে তিনি ৫৮ রান করেছিলেন। সেটিই আপাতত তাঁর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, মর্গ্যান এখনও পর্যন্ত করেছেন ১৭৫ রান। 
অধিনায়কত্বের সাফল্যেও মর্গান কিন্তু কার্তিকের চেয়ে কয়েক যোজন এগিয়ে। গতবছর তিনি ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন করেছেন। টি–২০ ক্রিকেটেও তিনি ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করেছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালেও তুলেছিলেন। যদিও ইডেনে সে ম্যাচে ওযেস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে গিয়েছিল মর্গ্যানের দল। তবুও সবদিক দিয়ে বিচার করলে তিনি ধারে এবং ভারে কার্তিকের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। এখন দেখার, কেকেআরের দায়িত্ব নিয়ে মর্গ্যান কতটা সফল হন। আজ মুম্বই ম্যাচই অধিনায়ক মর্গ্যানের অগ্নিপরীক্ষা। 
 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top