মুনাল চট্টোপাধ্যায়, শিলং: অমিত–‌লাবণ্যর প্রেমের শহর শিলং। রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতার’‌ পাতা থেকে উঠে আসা দুই কালজয়ী চরিত্র। নোবেল জয়ী কবির কলমে শিলংয়ের বিষ্ণুপুর অঞ্চলের বাড়িতে ‘‌শেষের কবিতা’‌র সৃষ্টি। সেই শহরে নতুন ইতিহাস রচনা করার থেকে এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল। খালিদ ব্রিগেডের সামনে আই লিগ জয়ের শেষ ধাপের দরজাটা খুলে যাবে, সোমবার সন্ধেয় এখানে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে লাজংকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট পকেটে ভরতে পারলেই। সেক্ষেত্রে ঘরের মাঠে নেরোকাকে হারালেই ১৪ বছরের খরা কাটিয়ে আই লিগ আসবে তাঁবুতে। সেটা বুঝেই শনিবার বিকেল থেকে শিলংয়ে আসা শুরু হয়েছে লাল–হলুদ সমর্থকদের। সোমবার ম্যাচের সময় গ্যালারিতে তাঁরাই হবেন লড়াইয়ের অন্যতম প্রেরণা। কোচ খালিদ থেকে ম্যানেজার মনোরঞ্জনের মুখে একটাই কথা, কোনওরকম বাড়তি চাপ না নিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা তুলে ধরতে হবে। চেন্নাই সিটির বিরুদ্ধে ৭–‌১ জেতার ফল এখন অতীত। কিন্তু ওই ম্যাচে দল হয়ে ভাল খেলাটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। খালিদের কথায়, ‘‌খোলা মনেই ম্যাচ খেলবে দল। এই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট লক্ষ্য, লিগ টেবিলের পজিশন নয়। প্রতিপক্ষ লাজং শক্তিশালী, ওদের বিদেশিরা ভাল। ঘরের ছেলেরাও দৌড়য়। ওদের হারানোর কিছু নেই। তাই কড়া চ্যালেঞ্জের প্রত্যাশা করছি। আমার কাজ মাঠের বাইরে থেকে গাইড করা, আসল খেলাটা খেলবে মাঠে ফুটবলাররা। একশো ভাগ দিতে তৈরি সকলে।’‌ ঠিকই, ফুটবলারদের নাকে চ্যাম্পিয়নশিপের গন্ধ আসতে বাড়তি চনমনে তাঁরা। ফুরফুরে মেজাজটা দেখা গেছে সকালের অনুশীলনে। গতদিন মূল স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছিল দল। তাই এদিন মশাল বাহিনীকে অনুশীলন করতে হল মূল স্টেডিয়ামের বাইরের আর্টিফিসিয়াল মাঠে। সকাল ১০ টাতে বইছিল উল্টোপাল্টা প্রবল বাতাস। অনেকটা সাগরপারের মতো। তাতেই রোদের তেজটা একেবারেই মালুম হয়নি। দল করে অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে ম্যাচের পাশাপাশি সেট পিস অভ্যাস সেরে নিলেন কোচ খালিদ। কার্ড সমস্যায় এডু নেই। খালিদের মতে, তাঁকে মিস করছেন। তবে বিশ্বাস রাখেন গুরুবিন্দার, অর্ণব, সালামরা সেই অভাব পূরণ করে দেবেন। অনুশীলনের ধরন দেখে মনে হয়েছে, গুরবিন্দারের পাশে স্টপারে সালামের খেলার সম্ভাবনা। বাকি দলে বদলের ইঙ্গিত তেমন নেই। লাজং ম্যাচ জিততেই হবে, তবে শুরুতে অল আউট আক্রমণে যেতে নারাজ কোচ খালিদ। রক্ষণ জমাট রেখে গোলের জন্য ঝাঁপানোর নির্দেশ দিয়েছেন ফুটবলারদের। ম্যানেজার মনোরঞ্জনও বললেন, ‘‌ফুটবলাররা জানে ওদের কাজটা কী। এই ম্যাচের গুরুত্বটাও। আমি যখনই সুযোগ পাই, তখনই ডিফেন্ডারদের সঙ্গে কথা বলি। আজও বলেছি। কেউ তো আর ইচ্ছে করে গোল খায় না। ভুল হয়ে যায়। সেই ভুলটা যাতে লাজং ম্যাচে না হয়, সতর্ক থাকতে হবে। এটা ঠিক যে শুরুতে গোল খেলে চাপ বাড়বে। তাই অ্যাওয়ে ম্যাচের নীতি মেনে ডিফেন্স মজবুত রেখেই গোলের চেষ্টা করা দরকার।’‌ কোচ–‌ম্যানেজারের এই ভাবনার সঙ্গে মিল কাৎসুমিরও। জাপানি মিডফিল্ডারের ভাল খেলার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে লাজং ম্যাচে জয়। আমনার সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দীও। কাৎসুমির চাঁচাছোলা বক্তব্য, ‘‌পরিস্থিতি আগে যা ছিল তাই আছে। চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছি, এমন একটা ভাবনা নিয়ে মাঠে খেলতে নামলে ভুগতে হবে। মিনার্ভা বা অন্যরা কী করল ভেবে লাভ নেই। আমাদের জিততে হবে। মনঃসংযোগ নষ্টের কারণে অকারণে গোল হজম করে খেসারত দিতে হয়েছে বারবার। সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’‌ কলকাতায় লাজংকে ৫–‌১ হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। আমনা সেটা মনে রাখতে চান না, ‘‌তার পর লাজং অনেক বদলে গেছে। নতুন বিদেশি নিয়ে শক্তি বাড়িয়েছে। এটা সম্পূর্ণ নতুন লড়াই। চ্যাম্পিয়নশিপের চাপ মাথা থেকে সরিয়ে সেরা দিতে হবে। চেন্নাই সিটি ম্যাচের মতো।’‌ আমনা মন্দ বলেননি। লাজংয়ের সহকারী কোচ আলিসন বলেই দিলেন, কলকাতার বড় ব্যবধানে হারের জ্বালাটা জুড়োতে এখানে জিততে মরিয়া হবে তাঁর ফুটবলাররা। একইসঙ্গে ৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের ৫ নম্বরে শেষ করে সুপার কাপে খেলা নিশ্চিত করতে চান। আইজলের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ জেতার আত্মবিশ্বাস শিবিরে রয়েছে। কাৎসুমি, আমনা, ডুডুদের বাড়তি নজরে রাখার কথাটা জানাতেও দ্বিধা করলেন না। গত মরশুমে মর্গানের কোচিংয়ে অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট নিয়েই ফিরেছিল ইস্টবেঙ্গল। এবার দেখা যাক খালিদের ভাগ্যে একই শিকে ছেঁড়ে কিনা।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top