আই লিগে এবার প্রথম ৪ দল এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে, তাতে প্রত্যেকেরই সম্ভাবনা রয়েছে। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের সম্ভাবনা ক্ষীণ। মিনার্ভা আর নেরোকার বেশি। মিনার্ভা শেষ ম্যাচ খেলবে নিজের মাঠে। এখনই পয়েন্ট ৩২। ড্র করলেও চলে যাবে। চান্স অনেক বেশি চার দলের মধ্যে। কলকাতার দুটো দল ৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে। বাকি একটা করে খেলা। মোহনবাগান খেলবে গোকুলামের সঙ্গে আর ইস্টবেঙ্গল খেলবে নেরোকার বিরুদ্ধে। জিতলে দু’‌দলের পয়েন্ট হবে ৩৩। চ্যাম্পিয়ন সহজে হতে পারবে না। কারণ, আগেই বলেছি মিনার্ভার চান্স বেশি। ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান দু‌জনের পয়েন্ট ৩৩ হলে, হেড টু হেডে এগিয়ে থাকবে মোহনবাগান। তবে মিনার্ভার শেষ ম্যাচে জেতা চলবে না। ড্র হলে ওরাও থাকবে ৩৩–এ। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও মিনার্ভার মধ্যে খেলা ম্যাচগুলো থেকে পাওয়া পয়েন্টের হিসেবে মোহনবাগান হবে চ্যাম্পিয়ন। এতক্ষণ ধরে এই অঙ্ক নিয়ে বললাম কেন?‌ কারণ, ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান— দু’‌দলের সমর্থকরাই এই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সে অর্থে সত্যিই জটিল জায়গায় দাঁড়িয়ে আই লিগ। কলকাতার দুটো ক্লাবের সম্ভাবনা যেহেতু কম, তাই একটা প্রশ্ন জাগছেই। আমরা কি তবে দিনের পর দিন আই লিগ থেকে দূরেই থাকব?‌ ইস্টবেঙ্গলের সামনে একটা সুযোগ এসেছিল। কিন্তু নিজেদের মূর্খতায় হেলায় হারাল সে সুযোগ লাজংয়ের বিরুদ্ধে। জেতার জায়গা থেকে ম্যাচ ড্র করে এল!‌ মোদ্দা কথা, সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ ইস্টবেঙ্গল। 
তুলনায় আগের ম্যাচটা জিতে মোহনবাগান একটু ভালভাবে ৩০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। 
আসলে বাংলার দলগুলো আই লিগে সাপ–লুডোর খেলা খেলছে!‌ ধারাবাহিক ব্যাপারটাই নেই!‌ দুটো দলই বিদেশি–স্বদেশি মিলিয়ে গড়া। অথচ দুটো দলেই একটা লক্ষণ স্পষ্ট। আই লিগে হারলে, পারফরমেন্স খারাপ হলে সরাসরি সব দোষ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে কোচের ঘাড়ে!‌ মানছি, জিতলে কোচকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়, তাঁর পরিকল্পনার বাহবা দেওয়া হয়। তাই হারলে তার দায় কোচের কাঁধে পড়বেই। কিন্তু এই যে এত, এত টাকা দিয়ে ফুটবলারদের সই করানো হচ্ছে, কর্তারা অনেক কষ্ট করে টাকা জোগাড় করছেন, তার পরও কি প্লেয়ারদের কোনও দায় নেই?‌ ধারাবাহিকতার এই যে অভাব, তার দায়িত্ব শুধুই কোচের?‌ কেন পারছে না, সেটা কি ফুটবলাররা ভেবে দেখেছে?‌ গভীরে গিয়ে কারণটা খুঁজে বের করে তা সমাধানের চেষ্টা করেছে?‌ ফুটবলারদের দেখছি পরমানন্দে ঘুরছে!‌ বলার কিছু নেই!‌ কেউ নেই!‌ আর সত্যিই তো বলারই বা কী আছে?‌ বাংলার দুই প্রধানে এখন যে ফুটবলাররা খেলছে, তারা অত্যন্ত গড়পড়তার!‌ একা ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা নেই কারও!‌ কেন যে বিদেশিদের পেছনে টাকা খরচ করছে দুই ক্লাব?‌ 
শুনেছি ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের ইয়ুথ ডেভলোপমেন্ট প্রোগ্রামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জুনিয়র টিম আছে। অনূর্ধ্ব ১৭, অনূর্ধ্ব ১৯ দলও আছে। মাঝে মাঝে কাগজে তাদের খেলার খবরও বেরোয়। বুঝতে পারি না, কেন এই প্লেয়ারদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না!‌ এত টাকা খরচ করে বিদেশি এনে এই হাল হচ্ছে, সুযোগ পেয়েও আই লিগের কাছে পৌঁছতে পারছে না!‌ এটাকে দুরবস্থা বলব না তো কী বলব?‌ 
বিদেশ থেকে, দেশের নানা প্রান্ত থেকে ফুটবলার এনে লাভ নেই। সেই আই লিগে পিছিয়ে!‌ তা হলে কেন নিজের জুনিয়র টিমের প্লেয়ারদের গুরুত্ব দেব না?‌ দু’‌দল যদি নিজেদের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের যত্ন নেয়, ভাল কোচ নিয়োগ করে, তা হলে হয়ত এরা ভাল খেলে আই লিগ জিততে দলকে সাহায্য করতে পারে। 
আই লিগ অধরা, এটা আর কতদিন দেখব?‌ ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে দুই প্রধান আর কতদিন চলবে?‌ দুটো ক্লাবেরই ভাবনাচিন্তা করার সময় হয়েছে। আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে এই প্রস্তাবটাই মাথায় আসছে। অনূর্ধ্ব ১৯ দলের পেছনে দুই ক্লাব অর্থ, পরিশ্রম দিক। তারপর রেজাল্ট পাচ্ছি কি না, একবার অন্তত দেখা যাক। 
ভারতীয় দলে বাংলার ফুটবলাররা আগে সুযোগ পেত। এখন আর পায় না। কারণটা সঙ্গত। আমরা চাই, বাংলার ফুটবলাররা আরও বেশি ভারতীয় দলে খেলুক। কিন্তু বলার মতো যুক্তি যে খুঁজে পাই না। কীভাবে দাবি জানাব?‌ বাংলার দুই প্রধান দিন দিন সাধারণ থেকে আরও সাধারণ হচ্ছে!‌ ২০১৪–১৫–তে মোহনবাগান আই লিগ জিতেছিল। সেই সময় সাধুবাদ বলা হয়েছিল। তারপর দেখলাম মোহনবাগান ক্রমশই নর্ডি নির্ভর হয়ে গেল!‌ নর্ডি না খেললে, ঠিকঠাক খেলতেই পারছে না। সেই বিদেশি–‌নির্ভর রোগ!‌ নর্ডির মতো আবার কোনও বিদেশি এলে হয়ত দলকে কিছুটা নির্ভরতা দিতে পারে। তবে ২০১৪–১৫–তে যেবার আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হল, সেবার কিন্তু দলটা শুধু নর্ডির ওপর ভর করে জেতেনি। অন্যরাও দায়িত্ব নিয়েছিল। মোহনবাগানের যখন এই হাল, তখন ইস্টবেঙ্গলে তো আই লিগ নেই দীর্ঘ দিন!‌ কেন হল না, কেন পারছে না— জল্পনা তো অনেক হল। আর কতদিন?‌ আলোচনার ঝড় চায়ের দোকানে উঠবে। চলবে। কলকাতা লিগের মান তো সবাই মিলে দায়িত্ব নিয়ে নামিয়েছে। সে আইএফএ, এআইএফএফ— সবাই। পড়ে আছে আই লিগ। সেটাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সাধারণ মানের বিদেশি নিয়ে দল তৈরি করে কী করবে?‌ বাংলার কোনও দল কারও থেকে এগিয়ে নেই। সেখানে মিনার্ভা তরুণদের নিয়ে ফুটবল খেলার চেষ্টা করছে। এটা দেখেও যদি বাংলার দুই প্রধান মন দেয় অনূর্ধ্ব ১৭, অনূর্ধ্ব ১৯ দলে। এই দলটার পেছনে খেটে, সেই সঙ্গে উপযুক্ত বিদেশি এনে যদি ঠিকভাবে গড়া যায়, তা হলে আই লিগ পাওয়ার সম্ভবনা বাড়লেও বাড়তে পারে। ‌‌‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top