অগ্নি পাণ্ডে: কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক তথা বিজেপি যে তাদের আইএসএলে খেলার জন্য সাহায্যের প্রস্তাব পাঠিয়েছে, বুধবার তা প্রকারান্তরে মেনে নিলেন ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। এদিন তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রস্তাবের খবর নেই। তবে আমাদের ক্লাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কাছে কোনও সাহায্যের প্রস্তাব এলেই আমরা রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তাঁর মতামত জানতে চাইব। তারপর তাঁর মতামতের প্রেক্ষিতে বাকি আলোচনা হবে। পরিস্থিতি বুঝে ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা হবে।’ পাশাপাশিই দেবব্রতর বক্তব্য, ‘বহুবছর ধরেই এমন কোনও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করি। যেমন বামফ্রন্টের আমলে ক্রীড়ামন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর সঙ্গে আলোচনা করতাম। প্রয়োজনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর কাছেও যেতাম। এটাই আমাদের রেওয়াজ। এক্ষেত্রেও আমরা রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। কারণ, রাজ্যে ওঁর অধীনেই যাবতীয় খেলাধুলো হয়। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবও তাঁরই অধীন। সেক্ষেত্রে তিনি কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য তা–ও আমরা দেখি না। আমরা ক্রীড়ামন্ত্রীর পদকে সম্মান জানাতে চাই। এ ক্ষেত্রেও সেটাই করব আমরা। এটাই আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটির সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।’
প্রসঙ্গত, মাঝে রাজ্য সরকারের অজ্ঞাতসারে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের এক কর্তা মোহনবাগানের দুই কর্তার সঙ্গে বিজেিপ–র অন্যতম নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে দেখা করে আইএসএলে খেলার বিষয়ে ‘সাহায্য’ চান। সেই সাক্ষাৎ ঠিক করে দিয়েছিলেন এক প্রাক্তন ফুটবলার। যিনি এখন বিজেপি–তে। ওই সাক্ষাৎ নিয়ে বেশ তোলপাড় হয়েছিল। এদিন দেবব্রতর কথায় স্পষ্ট যে, ওই ‘ভুল’ আর করতে চায় না ইস্টবেঙ্গল। রাজ্য সরকার তথা ক্রীড়ামন্ত্রীকে অন্ধকারে রেখে তারা কোনও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এগোতে চায় না। 
তবে ইস্টবেঙ্গলকে আইএসএলে খেলার জন্য স্পনসর ঠিক করে দেওয়ার বিষয়ে বিজেপি সাহায্যের হাত বাড়ানোয় শোরগোল পড়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল এবং ময়দানে। মোহনবাগান থেকেও বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়া শুরু হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের বিভিন্ন ফ্যান ক্লাবগুলো আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে যে, কেন বিজেপি? বিজেপি–র হাত ধরার থেকে ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল না খেলে কলকাতা লিগ খেলা ভাল! 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top