মুনাল চট্টোপাধ্যায়: যেহেতু কোয়েসের সঙ্গে বিচ্ছেদ এখনও হয়নি, তাই এএফসি ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের ফর্ম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গলকে ২৪ জুলাইয়ের পরিবর্তে ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়তি সময় দিল ফেডারেশন। 
ফেডারেশন সচিব কুশল দাস জানালেন, ‘ইস্টবেঙ্গলেরই অনুরোধে ওদের সময়সীমায় কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ওরা ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় পাবে। ইনভেস্টারের সঙ্গে বিচ্ছেদ মেটাতে ওরা বাড়তি সময় চেয়েছে।’‌ ৩১ জুলাইয়ের মধ্যেও সমাধান না হলে কী হবে?‌ কুশলের জবাব, ‘তখন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগস্টের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সেরে ফেলার চেষ্টা থাকবে। চাই ইস্টবেঙ্গল দ্রুত সমস্যা মিটিয়ে ক্লাব লাইসেন্সিংয়ে অংশ নিক, এবং আইএসএল বা আই লিগ যেখানেই হোক খেলুক।’‌
এতেই ইস্টবেঙ্গলের সমস্যা মিটছে না। এএফসি–‌র শর্ত অনুযায়ী ইস্টবেঙ্গলকে নিজের পুরনো নাম বা পরিচয়েই আইএসএলে খেলতে হবে। আইএসএলের অন্য দলগুলোর মতো ইস্টবেঙ্গলও কোনও বাণিজ্যিক সংস্থার নাম বসাতে পারবে না। এরকম শর্তে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে কেউ গাঁটছড়া বাঁধতে রাজি হবে কিনা, সেটা দেখার বিষয়। প্রশ্ন উঠতে পারে, এটিকে মোহনবাগান নামে তাহলে কীভাবে খেলা সম্ভব?‌ আসলে শর্তে বলা হয়েছে, এটিকে মোহনবাগানের ক্ষেত্রে দুটো ক্লাবের মধ্যে সংযুক্তিকরণ হয়েছে, কোনও বাণিজ্যিক সংস্থার মধ্যে নয়। ইস্টবেঙ্গলেরও মিনার্ভার মতো ক্লাবের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ ঘটলে সমস্যা মিটবে।  
আই লিগের মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ফেডারেশন এখনও পর্যন্ত বাণিজ্যিক সংস্থার নাম ব্যবহারে আপত্তি করেনি। যদিও ২০১৭ থেকে আই লিগের দলগুলোর ক্ষেত্রেও এএফসি নিয়ম করেছে, তাদের টুর্নামেন্টে খেলতে গেলে পুরনো নাম বা পরিচয়েই খেলতে হবে, বা এএফসি টুর্নামেন্টে আগে যে নামে খেলেছে, সেটা ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ ‘‌কিংফিশার ইস্টবেঙ্গল’‌ নামে খেলা যেতে পারে। কারণ ওই নামে তারা আগে এএফসি–‌তে খেলছে। এবার এএফসি–‌র নিয়ম যদি এআইএফএফ ঘরোয়া লিগেও চালু করে তাহলে নতুন স্পনসরের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেও ইস্টবেঙ্গল সমস্যায় পড়তে পারে। 
সমস্যা আরও আছে। ইস্টবেঙ্গল নতুন কোম্পানি গঠন করলে এক মরশুমে দ্বিতীয়বার আর নিজেদের পরিচয় বদলাতে পারবে না। যে নামে এএফসি শর্তপূরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে, সেটাই রাখতে হবে। মাঝপথে স্পনসর পাওয়া গেলেও নতুন কোম্পানি গড়া যাবে না। শুধু শেয়ার হস্তান্তরিত করা যেতে পারে। নতুন কোম্পানি গড়তে ফেডারেশন ও এএফসি–‌র অনুমোদন লাগবে। 
অর্থাৎ যত সময় যাবে, তত ইস্টবেঙ্গলের জটিলতা বাড়বে।‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top