মুনাল চট্টোপাধ্যায়,শিলং: মেঘালয়ের নির্বাচনী ফল নিয়ে শনিবার সকাল থেকেই শিলং শহর জুড়ে একটা উত্তেজনা। শিলং শহরের প্রাণকেন্দ্র পুলিস বাজার চত্বরে যে হোটেলে ইস্টবেঙ্গল রয়েছে, তার তলাতেও দেখলাম গন্ডগোলের আশঙ্কায় নিরাপত্তারক্ষীর দল মেশিনগান হাতে সজাগ। তবে বিজয়ী প্রার্থীর দলের রাস্তা দিয়ে গাড়ি ছুটিয়ে গান বাজিয়ে যাওয়া ছাড়া তেমন কোনও অশান্তি চোখে পড়েনি। বড়জোর জেতার আনন্দে বাজি ফেটেছে কোথাও কোথাও। বিকেলে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের মূল মাঠে অনুশীলনে লাল–‌হলুদ ব্রিগেডের যেতে কোনও অসুবিধাই হয়নি। শিলংয়ের জ্যামে অল্পসময় আটকানো ছাড়া। পাহাড়, পাহাড় আর চারদিকে দেখো পাহাড়। তার মাঝে নেহরু স্পোর্টস কমপ্লেক্স। একধারে আর্টিফিসিয়াল টার্ফের ফুটবল স্টেডিয়াম। লাজংয়ের হোম গ্রাউন্ড। কোচ খালিদ যখন ফুটবলারদের নিয়ে সেখানে অনুশীলনে গেলেন, তখন আকাশে আলো ছিল। তাতেই পাহাড়ের ঢালে ছবির মতো সাজানো বাড়িগুলো মন কাড়ছিল। তবে আমনা, অর্ণব, কাৎসুমি, ডুডুরা অনুশীলনে নেমে পড়লেও মাঠের কর্মীরা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় গোলপোস্টের নেট টাঙাতে দেরি হয়। তাতে অবশ্য অনুশীলন থামেনি। নৈশালোকে একঘণ্টা অনুশীলনের ব্যবস্থা আগে থেকেই বলে রেখেছিলেন দলের কর্তা মণীশ ব্যানার্জি ও আলভিটো। সেই আলো জ্বলে ওঠার আগেই পাহাড়ের নিকষ কালো অন্ধকার চিরে জ্বলে ওঠা আলোয় এক অদ্ভুত দৃষ্টিসুখের তৃপ্তি দিয়েছে। এই মাঠ অল্পবিস্তর সকলের চেনা, এমনকী কোচ খালিদেরও। তিনি এই মাঠেই আইজলের কোচ হিসেবে খেতাব জয়ের সুখ পেয়েছেন। তাই মাঠ কোনও সমস্যা হবে মনে করছেন না কেউই, তবে দিনের তুলনায় বিকেলের পর তাপমাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটা নেমে যাচ্ছে। সঙ্গে যোগ হচ্ছে কাঁপুনি ধরা হাওয়া। লাজংকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট পেতে ফুটবলাররা এতটাই তেতে আছেন, ঠান্ডাকেও পাত্তা দিচ্ছেন না। কোচ খালিদের নাকেও চ্যাম্পিয়নশিপের গন্ধ ঠেকছে। তাই বলেই দিলেন, ‘‌এখন জয়ের পথে কোনও কিছুই বাধা হবে না।’‌ এক ঘণ্টা অনুশীলনে আর্টিফিসিয়াল টার্ফের সঙ্গে সড়গড় হওয়ার পাশাপাশি বোঝাপড়া বাড়ানো ও সেটপিসের অভ্যাসটা সারলেন খালিদ। এডু কার্ড সমস্যায় সোমবারের ম্যাচে নেই। তাই কখনও গুরবিন্দারের সঙ্গে স্টপারে সালাম, কখনও অর্ণবকে রেখে ডিফেন্সের জমাট ভাবটা পরীক্ষা করলেন খালিদ। গুরবিন্দারের প্রতিক্রিয়া, ‘‌আমাদের কাছে ম্যাচগুলো ফাইনাল। লাজংকে হারাতে কোনও গোল হজম করা চলবে না। আমাদের স্ট্রাইকাররা ঠিক গোল করে দেবে। লাজংয়ের বিদেশিরা ভাল। ঘরের ছেলেরাও খুব দৌড়য়। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এই সুযোগ হাতছাড়া করলে সারাজীবন আপশোস যাবে না।’‌ আমনা, অর্ণব, ডুডু, কাৎসুমিরা ম্যাচের গুরুত্ব বুঝে নিজেদের মধ্যে ঘন ঘন আলোচনায় বসছেন। নতুন ও নবীনদের বোঝাচ্ছেন। এদিন ছিল গোলকিপার উবেদের জন্মদিন। শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি কাটা হল কেক। ইস্টবেঙ্গল এখন যে সুখী পরিবার।‌‌‌‌

অনুশীলনে নামার আগে আমনা, ডুডু। ছবি:‌ মুনাল চট্টোপাধ্যায়

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top