সুনীল গাভাসকার: দক্ষিণ আফ্রিকায় ওরকম কঠিন একটা সফরের পর বেশ কিছু ক্রিকেটারকে যে বিশ্রাম দেওয়া হবে, এটা বোঝাই গেছিল। এবার দেখতে হবে যে তরুণ তারকাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তারা সেটা কতটা কাজে লাগাতে পেরেছে। সাধারণত, টি২০ ফরম্যাট দেখে একজন ক্রিকেটারের প্রতিভা বোঝা যায় না। কিন্তু এই ফরম্যাটে চাপের মুখে তারা কীরকম পারফর্ম করতে পারছে, কীরকম টেম্পারামেন্ট দেখাচ্ছে সেদিকে কিন্তু নজর রাখতে হবে।
মহম্মদ সিরাজ, ঋষভ পন্থ, দীপক হুডা দারুণ প্রতিভাবান এবং টেম্পারামেন্ট রয়েছে। ওদের কাছে কিন্তু এটা দারুণ সুযোগ। এছাড়া সুরেশ রায়না এবং দীনেশ কার্তিকদের দেখানো দরকার যে ওদের দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটা ভুল নয়।
যে–কোনও দল নির্বাচন মানেই সেই দলে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কোনও ক্রিকেটার সুযোগ পাবে না। মায়াঙ্ক আগরওয়াল এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনটে ফরম্যাটেই ভাল খেলেছে। কিন্তু তাও সুযোগ পেল না। এর আগেও অনেক খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে এরকম হয়েছে। কারণ যারা দলে প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার, তাদের কোনওভাবেই দল থেকে সরানো হয়নি। ’‌৭০ এবং ’‌৮০–এর দশকে অনেক প্রতিভাবান স্পিনার সুযোগ পায়নি, কারণ ভারতীয় দলে ওই সময় রাজ করছে স্পিন–চতুর্ভুজ। আবার সেভাবেই ’‌৯০–এর দশক থেকে ২০১০ পর্যন্ত অনেক মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান দলে আসতে পারেনি। কারণ সে–সময় দলে ছিল দ্রাবিড়, তেন্ডুলকার, লক্ষ্মণ এবং সৌরভ।
আসলে তারকাদের সঙ্গে একই সময়ে জন্মগ্রহণ করাই ওদের কাল হয়েছে। পরের পর বড় বড় সেঞ্চুরি করে ওরা নির্বাচকদের দরজায় কড়াই নাড়ছে, সেটাকে একসময় ভেঙেও ফেলছে। রান করলে সহজে নির্বাচকদের নজরেও পড়া যাচ্ছে। মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
যাকে বাদ দিয়ে, বা বিশ্রাম দিয়ে ওকে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছিল, সেই নামটা এই আলোচনায় সবথেকে আকর্ষণীয়। বরাবরের মতো এবারও এই তালিকায় সবার আগে ছিল শিখর ধাওয়ানের নাম। ফর্মের বিচারে তো ওকে বাদ দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। তাই যারা মায়াঙ্ককে দলে দেখতে চেয়েছিল, তারা যুক্তি দিয়েছিল ধাওয়ানকে বিশ্রাম দেওয়া হোক। বিশ্রামের প্রশ্নই যদি ওঠে, তা হলে কেন ধাওয়ান, কেন রোহিত শর্মা নয়?‌ 
দক্ষিণ আফ্রিকায় কিন্তু ধাওয়ানের থেকে বেশি ম্যাচ খেলেছে রোহিত। একবারও এটা বলা হয়নি রোহিতকে বাদ দেওয়া হোক। কিন্তু যখনই দল থেকে কাউকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ আসে, তখনই সেই তালিকায় সবার ওপরে থাকে ধাওয়ানের নাম। তাই ওকে কিন্তু মনে রাখতে হবে, ৭০ বা ৮০ রান করে ও কিন্তু নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারবে না। সেঞ্চুরি করতে হবে। কোহলি যেভাবে উঁচু, ঝুঁকিপূর্ণ শট না খেলেও সেঞ্চুরি করতে পারে, ধাওয়ানকেও তেমনই ওই শট খেলা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সেঞ্চুরি করতে হবে। ওর রান করার গতি অবশ্য ভালই। তাই সেটা নামা চলবে না। কিন্তু সেঞ্চুরি আরও বেশি করে করতে হবে, যাতে ওকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ আর উঠতেই না পারে।
দু’‌বছর আগে যেরকম ছিল, তার থেকে এখন অনেকটাই বদলে গেছে মায়াঙ্ক। এর জন্যে বড় কৃতিত্ব প্রাপ্য রাহুল দ্রাবিড়ের। যেভাবে ভারত ‘‌এ’‌ সফরের সময় ওকে গাইড করেছে তাতে মায়াঙ্ক আগের থেকে এখন অনেক বেশি ধারাবাহিক হয়ে উঠেছে।
আধুনিক যুগের তরুণরা কিন্তু ধৈর্য শব্দটাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয় না। সামনে যেহেতু ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া সফর আসছে, তাই মায়াঙ্ক আরও সুযোগ পাবে দলে ঢোকার। তখন কিন্তু সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলে নিজের আসন পাকা করতে হবে।‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top