আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বোমা ফাটালেন দিলীপ বেঙ্গসরকার। কীভাবে তাঁকে নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে যেতে হয়েছিল সে কথাই এতদিন পর সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে আনলেন দেশের প্রাক্তন অধিনায়ক।  বেঙ্গসরকারের কথায় সমস্যাটা শুরু হয়েছিল বিরাটকে দলে নেওয়া নিয়েই। বাদ যেতে হয়েছিল বদ্রীনাথকে। যা মেনে নিতে পারেননি শ্রীনিবাসন থেকে শুরু করে তৎকালীন ভারতীয় অধিনায়ক ধোনি ও কোচ গ্যারি কার্স্টেন। 
২০০৬ সালের অক্টোবরে বিসিসিআইয়ের নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছিলেন বেঙ্গসরকার। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকে সরিয়ে দায়িত্বে আনা হয়েছিল কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তকে। বেঙ্গসরকার বলেছেন, ‘‌অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল এমার্জিং প্লেয়ার্সরা। নির্বাচক কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অনূর্ধ্ব ২৩ ক্রিকেটারদেরই ওই সফরে পাঠানো হবে। ওই বছরই বিরাটের নেতৃত্বে আমরা অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। বিরাটকে ওই সফরে দলে নেওয়া হয়েছিল। ব্রিসবেনে আমি গিয়েছিলাম খেলা দেখতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওপেন করেছিল বিরাট। ক্যারিবিয়ান দলে বেশ কিছু টেস্ট ক্রিকেটার ছিল। আমাদের দলে কিন্তু কোনও টেস্ট ক্রিকেটার ছিল না। বিরাট ওই ম্যাচে ১২৩ রানে অপরাজিত ছিল। আমার মনে হয়েছিল ভারতীয় দলে এখনই সুযোগ পাওয়া উচিত বিরাটের।’‌ এরপরেই ভারতের সিনিয়র দলের শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার কথা ছিল। দল নির্বাচনী সভায় বেঙ্গসরকার বিরাটকে দলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বাকি চার নির্বাচকও সম্মতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বেঁকে বসেছিলেন ধোনি ও কার্স্টেন। বেঙ্গসরকারের কথায়, ‘‌ধোনি ও কার্স্টেন বলেছিল বিরাটকে ওঁরা দেখেনি। আমি ওদের বুঝিয়েছিলাম ট্যালেন্ট রয়েছে ওঁর মধ্যে। তাই দলে নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বিরাটের ব্যাটিং আমি নিজে দেখেছি। ধোনি ও কার্স্টেনের আপত্তির কারণ ছিল অন্য জায়গায়। ওঁরা বদ্রীনাথকে খেলাতে চেয়েছিল। চেন্নাই সুপার কিংসে খেলত বদ্রীনাথ। বিরাট সুযোগ পেলে বদ্রীনাথকে বাদ যেতে হবে। তাই আপত্তি তোলা হয়েছিল। তখন এন শ্রীনিবাসন ছিলেন বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ। বদ্রীনাথ বাদ যাওয়ায় বিরক্ত হয়েছিলেন শ্রীনিবাসন। কারণ বদ্রীনাথ ছিল তামিলনাড়ুর ক্রিকেটার। সেই সঙ্গে শ্রীনিবাসনের চেন্নাই সুপার কিংসের ক্রিকেটার।’‌ এই ঘটনার পর শ্রীনিবাসন চুপ করে থাকেননি। তিনি বোর্ডে প্রভাব খাটিয়েছিলেন। বেঙ্গসরকার বলেছেন, ‘‌আমাকে সরাসরি শ্রীনিবাসন জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে কেন বদ্রীনাথকে বাদ দেওয়া হল?‌ আমি বলেছিলাম বিরাট অস্ট্রেলিয়ায় এমার্জিং ক্রিকেটে দুর্দান্ত খেলেছে। অসাধারণ ক্রিকেটার। তাই ওকে দলে নেওয়া হয়েছে। শ্রীনিবাসন আমার সঙ্গে তর্ক জুড়ে দিলেন। বললেন, বদ্রীনাথ তামিলনাড়ুর হয়ে মরশুমে ৮০০–র বেশি রান করেছে। আমি বলেছিলাম, পারফর্ম করে গেলে বদ্রীনাথ আবার দলে সুযোগ পাবে। শ্রীনিবাসন তখন বলেছিলেন, আর কবে সুযোগ পাবে। ওঁর ২৯ বছর বয়স। আমি বলেছিলাম, কথা দিতে পারছি না। কিন্তু সুযোগ দেওয়া হবে। শ্রীনিবাসন ঠিক তার পরেরদিনই শ্রীকান্তকে সঙ্গে নিয়ে তৎকালীন বোর্ড প্রেসিডেন্ট শরদ পাওয়ারের কাছে হাজির হন। আর ওইদিনই আমার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।’‌ ‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top