দেবাশিস দত্ত, লন্ডন:‌‌ যে পরিমাণ টেনশনের চোরাস্রোতে ডুবেছিল ওভাল, তাতে মহেন্দর সিং ধোনি বিতর্কিত কিপিং গ্লাভস না ব্যবহার করায় স্বস্তি ফিরেছে। 
ভারতীয় সৈনিকদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ধোনি ভুল করেননি। কিন্তু আইসিসি–র আইন বলে, এটা আইনসিদ্ধ নয়। তাই ওভালে সবথেকে বেশি চর্চা ছিল ধোনি গ্লাভস নিয়ে। উত্তর আসছিল একবার ‘‌হ্যঁা’‌। পরের বার ‘‌না’‌। এটা আসলে আইসিসি বনাম ভারতীয় বোর্ডের লড়াই নয়, লড়াই ছিল শশাঙ্ক মনোহর বনাম নারায়ণ স্বামী শ্রীনিবাসনের। বোর্ডের একটি সূত্র জানাচ্ছে, আইসিসি–র নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করতে গত ৩৬ ঘণ্টায় শ্রীনিবাসন সমানতালে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যাতে ধোনি ওই লোগো ব্যবহার করেন। চাপানউতোর চলছিল। বোর্ডের সিইও রাহুল জোহরি এখানে এসে ব্যক্তিগতভাবে ধোনি এবং টিম ম্যানেজমেন্টকে ওই লোগো ব্যবহার না করার অনুরোধ করেন।
খেলা শুরুর আগের মুহূর্তেও প্রশ্ন ছিল। ভারতীয় দল যখন ফিল্ডিং করতে নামছিল তখনও পর্যন্ত প্রচার চালানো হয়েছে, ধোনির গ্লাভসে বিতর্কিত লোগো থাকবে!‌ থাকলে কী কী হতে পারত?‌ আইসিসি–র নিয়মানুযায়ী, প্রথম ভুলের জন্য তঁাকে সতর্ক করা হত। আবার ভুল করলে তঁার ম্যাচ ফি–র ২৫ শতাংশ কাটা যেত। তৃতীয়বার করলে ম্যাচ ফি–র ৫০ শতাংশ কাটা যেত। চতুর্থবার করলে কাটা হত ৭৫ শতাংশ। তারপরে কী হত, তা আইনে বলা নেই।
সকাল থেকেই আইসিসি–র কর্তারা ধোনির সিদ্ধান্ত জানতে চাইছিলেন। জানা গেল, নিজের ব্যাটে ক্রিস গেল একটি লোগো লাগানোর অনুমতি চেয়েছিলেন। লোগোতে থাকত দু‌টি শব্দ— ‘‌ইউনিভার্স বস’‌। আইসিসি অনুমতি দেয়নি। বলেছে, ‘‌আমাদের একটা নিয়মানুযায়ী ক্রিকেট চালাতে হয়। এই টুর্নামেন্টে ১৫০ জন ক্রিকেটার খেলছে। সবারই ব্যক্তিগত দাবি মানতে হলে সমস্যার একশেষ হবে।’ তাদের বক্তব্য, ১৪৯ ক্রিকেটারের জন্য এক নিয়ম আর ধোনির জন্য অন্য নিয়ম হতে পারে না।‌ 
প্রেসবক্সে বসেছিলেন আইসিসি–র কয়েকজন কর্তা। অধৈর্য হয়ে সবাই অপেক্ষা করছিলেন, কতক্ষণে ধোনি ফিল্ডিং করতে মাঠে নামবেন। ভারতীয় দলের মিডিয়া ম্যানেজার মৌলিন পারেখ বলছিলেন, ‘‌আমরা এ ব্যাপারে কিছু জানি না। সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন একা ধোনি। অ্যালেক বেডসার স্ট্যান্ডে বসতে পারতেন। ড্রেসিংরুম থেকে ধোনি বেরলেই দেখতে পারতেন!’

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top