‌আজকালের প্রতিবেদন: দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান এবি ডিভিলিয়ার্স জানালেন, ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলতে চেয়েছিলেন তিনিও। কিন্তু নিজের দেশে অদ্ভুত এক সমালোচনার কারণে নিজেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন ২০১৮ সালেই। ইউটিউবে ‘‌ব্রেকফাস্ট উইথ চ্যাম্পিয়ন্স’‌ শিরোনাম অনুষ্ঠানে খোলামেলা সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ডি‌ভিলিয়ার্স বলেছেন, ‘‌২০২৩–এ আমার বয়স হবে ৩৯। (‌হাসতে হাসতে) যদি ধোনি ২০২৩ বিশ্বকাপে খেলে, তাহলে আমিও খেলব। অবশ্য যদি সত্যিকারের ভাল ফর্মে থাকি। কে বলতে পারে আমি থাকব না?‌ আসলে, ওই যে বললাম, অদ্ভুত এক পরিস্থিতিতে আমাকে ক্রিকেট মাঠ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। অত্যন্ত স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত। ক্রিকেট জীবনের শেষ ৩ বছরে আমার সম্পর্কে বলা হচ্ছিল যে, আমি যখন খুশি খেলি, আবার যখন খুশি নিজেকে গুটিয়ে নিই। এই ধরনের সমালোচনা ভাল লাগছিল না। তাই, সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম খেলা ছাড়ার। বলতেই পারতাম, হ্যঁা, আমি বিশ্বকাপ খেলব। কিন্তু তখন আবার ওই সমালোচনার ঢেউ ফিরে আসত— যখন খুশি খেলি, যখন খুশি ছাড়ি। আসলে, একটি পাউরুটির টুকরোর দুদিকে তো আর মাখন লাগানো যায় না!‌ নিজেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়, পাউরুটির কোন অংশটা শুকনো থাকবে। এই সমালোচনার হাত থেকে বঁাচার জন্যই খেলা ছেড়ে দিলাম। এছাড়াও আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে। যখন খেলতাম, তখন কখনও নিজের কথা ভাবিনি। শুধুই দলের কথা ভেবেছিলাম। এই প্রথম নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হল।’‌ একই সঙ্গে ডি‌ভিলিয়ার্স বলেছেন, ‘‌টানা ১৫ বছর খেলেছি দেশের হয়ে। আন্তর্জাতিক জগতে ঘোরাফেরা করতে গিয়ে ক্লান্ত লাগছিল। ক্রিকেট জীবন ব্যস্ততার, যন্ত্রণারও বটে। সারাক্ষণ একজন ক্রিকেটারকে চাপের মধ্যে থাকতে হয়, যা কিনা ভেতরে ভেতরে ক্ষয়ের ক্ষত তৈরি করে। আর যদি কেউ অধিনায়ক হয়, তাহলে তাকে সারাক্ষণ অনেক বেশি যন্ত্রণা হজম করে খেলতে হয়। এর ফলে পারিবারিক জীবনে ঝড়ঝাপ্টা আসে। যে সব কারণে দুম করে খেলা ছেড়ে দিলাম, তার মধ্যে পরিবারের ব্যাপারটাও থাকবে।’‌
আরও কারণ আছে। ডি‌ভিলিয়ার্স হাসতে হাসতেই জানালেন, যখন বয়স হবে ৫০, তখন হয়তো আরও নানা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন, ‘‌মজা করতে খুব ভালবাসতাম। আমার মনে হয়, মজা করার মোড়কে যদি জীবনটা রাখা যায়, তাহলে অনেক কম যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। চেয়েছিলাম নিজের ক্রিকেট জীবনকে আরেকটু দীর্ঘায়িত করতে। ক্রিকেট মাঠের অনেক স্বপ্নই হয়তো অধরা থেকে গেল। এ কারণে মনখারাপ হওয়ারই কথা। তবে, সবার জীবনেই তো এই চড়াই–‌উতরাই থাকে। একই সঙ্গে বলে রাখি, দীর্ঘ ক্রিকেট জীবনের এমন অনেক মুহূর্ত আছে, যা সত্যি সত্যিই আনন্দের ঢেউ বইয়ে দিয়ে গেছে জীবনে।’‌
এবার প্রসঙ্গ বিরাট কোহলি। দুজনে মিলে শুধু বন্ধুত্ব নয়, একধরনের ভ্রাতৃত্ববোধও তৈরি হয়েছে, ‘‌ভারতীয় অধিনায়কের যোগ্যতা নিয়ে তো কোনও কথা হবে না। সারা ভারতবর্ষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সত্ত্বেও যেভাবে বিরাট ছোট ছোট ব্যাপার নিয়ে মজা করতে চায়, সেটাও কিন্তু আমি উপভোগ করেছি। আরও একটা কথা জানিয়ে রাখি, বিরাট কিন্তু পারলেই তার প্রিয়জনদের উপহার তুলে দেয়। একটা–‌দুটো নয়, বলতে পারেন, উপহারের বৃষ্টি যেন বর্ষিত হয় ওর ভাললাগার মানুষদের জন্য।‌ ভারতবর্ষের মতো বিশাল দেশে সত্যিকারের বড় মাপের ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও যেভাবে বিরাট চারিদিকের পরিবেশ মজা করতে করতে হালকা করে রাখে, আমি তো ওকে দেখে অবাক হয়ে যাই। বিরাটের সামনে এখন আর কোনও কিছুর প্রশংসা করি না। যদি বলি, তোমার জুতোটা তো বেশ। পরমুহূর্তেই ওই জুতো হাজির। সঙ্গে সঙ্গে বিরাটকে বলি, ভাই, এবার এসব বন্ধ কর। এরপর তো আর তোমার কোনও জিনিসের প্রশংসা করা যাবে না। সবার সমস্যা ও দূর করতে চায়। ক’‌দিন আগে বলেছিলাম, আমি কফি খেতে পছন্দ করি। শুনলে অবাক হবেন, অ্যামাজনের মাধ্যমে আমার জন্য বিরাট একটা আস্ত কফি মেশিন অর্ডার করেছে, যা আমি হাতে পেয়ে যাব শিগগিরই।’

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top