আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ একদিকে স্বপ্নভঙ্গ অন্যদিকে স্বপ্নের উড়ান। রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে ইংল্যান্ডের দৌড় যেমন শেষ হয়ে গেল, অন্যদিকে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথমবারের জন্য ফাইনালে গেল ক্রোয়েশিয়া। পরপর তিনটি ম্যাচই অতিরিক্ত সময় খেলল লুকা মদ্রিচের দল। এটাও নজির।
অথচ শুরুর আবহাওয়া ছিল ইংল্যান্ডের অনুকূলেই। ম্যাচের ৫ মিনিটের মাথায় ইংল্যান্ডের কায়রন ট্রিপিয়ার ফ্রি–কিকে যে গোলটা করে গেলেন, তারপরে যদি তাঁকে নতুন বেকহ্যাম বলে ডাকা হয়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এর আগে চলতি বিশ্বকাপে ১১টি গোলের ৮টি সেট পিস থেকে করেছিল ইংল্যান্ড। সেই ফর্মুলা মেনেই ক্রোটদের দুর্গে আক্রমণ হেনে যাচ্ছিলেন হ্যারি কেন–রা। তবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা হ্যারি বৃহস্পতিবার ছিলেন আশ্চর্য রকমের নিষ্প্রভ। ৩০ মিনিটে হ্যারি কেন যে সহজ সুযোগ মিস করেন, সেটা পাড়া ফুটবলেও সচারচর দেখা যাবে না। তবে অবিশ্বাস্য গতিতে, রাহিম স্টার্লিং উত্যক্ত করে যাচ্ছিলেন ক্রোয়েশিয়া ডিফেন্সকে। সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পড়ে ক্রমেই মেজাজ হারাচ্ছিলেন ক্রোটরা। ইভান রাকিতিচদের নিয়ে সাজানো ক্রোয়েশিয়ার সম্পর্কে বলা হচ্ছিল, তাঁরাই এই টুর্নামেন্টের সেরা মিডফিল্ড। কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছিল কই?‌ মারিও মাঞ্জুকিচদের কাছে আক্রমণের সাপ্লাই লাইনেরই তো টুঁটি চেপে ধরেছিলেন ব্রিটিশরা।
হ্যারি কেনের অবিশ্বাস্য মিসের পর থেকেই ক্রমশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে ক্রোয়েশিয়া। কখনও কাউন্টার অ্যাটাক, কখনও লম্বা উইং প্লে— রীতিমতো তেড়েফুঁড়ে ওঠেন পেরিসিচ–রেবিচরা। সুফলও মিলল। ভ্রালজিক্সোর পাস থেকে 
ম্যাচের ৬৮ মিনিটে ইংরেজ গোলকিপার ওয়াকারের মাথার উপর দিয়ে বাঁ–পায়ের শটে বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান পেরিসিচ। ঠিক এখান থেকেই আরও নাটকীয় হয়ে উঠল ম্যাচ।
ইংরেজ কোচ সাউথগেট ভাল বুঝতে পারছিলেন ক্রোয়েশিয়া–কে দমাতে গেলে পাল্টা আক্রমণে যাওয়া ছাড়া রাস্তা নেই। তাই ৭৪ মিনিটের মাথায় র্যাশফোর্ডকে নামিয়ে পাল্টা বার্তা দিতে চেয়েছিলেন তিনি। ৯৭ মিনিটে অবিশাস্য গোললাইন সেভ না হলে শেষ হাসি হাসতে পারতেন ইংরেজরাও। কিন্তু ভাগ্য ছিল ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে। এক্সট্রা টাইমে ক্রোয়েশিয়ার ত্রাতা হয়ে উঠলেন। ১০৯ পেরিসিচের ক্রস থেকে আলতো ছোঁয়ায় যে অবিশ্বাস্য গোল তিনি করে গেলেন, সেটা নিঃসন্দেহে এই বিশ্বকাপের সেরা গোলগুলোর একটা। পাশাপাশি এ–ও বোঝালেন, কেন তাঁকে ‘‌সুপার মারিও’‌ নামে ডাকেন ভক্তরা!‌
১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। প্রথমবারেই সেমিফাইনালে উঠে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছিল তারা। সোনার বুট পেয়ে রাতারাতি তারকা হয়ে উঠেছিলেন দাভর সুকের। কিন্তু শেষ চারে তাঁদের হারতে হয়েছিল ফ্রান্সের কাছেই। দিনটা ছিল ৮ জুলাই। ২০ বছর পরে ফাইনালে এবার ক্রোটদের সামনে ফের ফরাসিরা। সেই সুকের এখন ক্রোয়েশিয়া ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট।
২০ বছর আগের এক জুলাইয়ের সেমিফাইনালের বদলা কি এবার ফাইনালে নিতে পারবেন সুকেরের দেশের ফুটবলাররা?‌


 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top