সংবাদ সংস্থা,দিল্লি: ২০০০ সালে ম্যাচ গড়াপেটা কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত কুখ্যাত জুয়াড়ি সঞ্জীব চাওলাকে ব্রিটেন থেকে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছিল ভারত। সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে ভারতে আনা হল। দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্টে হাজির করানো হলে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে ১২ দিন হেফাজত রাখার নির্দেশ দেন। দু’‌দশক আগে এই গড়াপেটা মামলায় জড়িয়ে নির্বাসিত হয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়াত প্রাক্তন অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রোনিয়ে। 
চাওলার প্রত্যর্পণের পর দিল্লি পুলিশের আর কে পুরম থানা এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের দুই কনস্টেবল ওমপ্রকাশ ও অজিত সিংয়ের মুখে হাসি ফুটেছে। কারণ, তাঁরাই চাওলা–ক্রোনিয়ে ফোনে কথোপকথন আড়ি পেতে শুনেছিলেন (পাশে দেওয়া হল)। 
চাওলার প্রত্যর্পণ কি আবার তুলে আনবে কোনও অপ্রিয় সত্য?‌ গড়াপেটা কেলেঙ্কারিতে যেসব ভারতীয় ক্রিকেটারের নাম জড়িয়েছিল, তাঁদের জন্য চাওলার প্রত্যর্পণ কি অশনিসঙ্কেত?‌ গড়াপেটা কেলেঙ্কারির অস্থির পরিস্থিতি থেকে ভারতীয় দলকে টেনে তুলেছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। ঘটনাচক্রে, এখন তিনিই ভারতের বোর্ড প্রেসিডেন্ট। 
চাওলার প্রত্যর্পণের জন্য ২০১৩ সালে চার্জশিট ফাইল করে দিল্লি পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ (‌প্রতারণা)‌ এবং ১২০বি (‌ফৌজদারি ষড়যন্ত্র)‌ ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়। চার্জশিটে আরও ৫ জনের নাম ছিল। যাঁদের মধ্যে ছিলেন ক্রোনিয়েও। বাকিরা রাজেশ কালরা, কৃষাণ কুমার, সুনীল দারা (‌‌এঁরা তিনজনেই ভারতে আছেন)‌‌ এবং মনমোহন খাট্টর (‌‌তিনি সম্ভবত দেশের বাইরে)‌‌। ২,৫০০ পাতার চার্জশিটে ৬৫ জন সাক্ষীর উল্লেখ রয়েছে। তদন্তের বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে ৮০টি পাতায়। 
কিং কমিশনের তদন্তে ২০০০ সালেই ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকার একদিনের ম্যাচে গড়াপেটা করার কথা স্বীকার করেন ক্রোনিয়ে। তখন থেকেই চাওলার প্রত্যর্পণের আবেদন করছিল দিল্লি পুলিশ। ২০১৬ সালে একই আবেদন করে ভারত সরকারও। ওই বছরই জুন মাসে লন্ডনে চাওলা গ্রেপ্তার হন। ভারত সরকার চাওলাকে ফেরানোর আবেদন করলেও দেশের জেলের নিরাপত্তার ত্রুটি উল্লেখ করে আপত্তি জানান চাওলা। দাবি মেনে জেলের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেয় ব্রিটিশ পুলিশ। ২০১৭ সালে ভারতের আবেদন খারিজ করেন ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টের ডিস্ট্রিক্ট জজ রেবেকা ক্রেন। তিনি বলেন, চাওলার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলেও তিহার জেলের সুযোগ–সুবিধার কথা জানিয়ে ভারত যে দুটি আবেদন করেছে, তা যথেষ্ট নয়। ২০১৮–তে ভারত তৃতীয়বার আবেদন করে জেলের পরিস্থিতি বিশদে জানিয়ে। আবেদনে সই করেন ভারত সরকারের যুগ্ম সচিব। 
২০১৯–এর ২৭ ফেব্রুয়ারি‌ সব তথ্য খতিয়ে দেখে প্রত্যর্পণের আদেশে সই করেন ব্রিটেনের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব সাজিদ জাভিদ। গত জানুয়ারিতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে মানবিকতার দোহাই দিয়ে চাওলা আবেদন করেন লন্ডনের র‌য়্যাল কোর্ট অফ জাস্টিসে। সে আবেদন খারিজ হয়ে যায়। চাওলা ফের আবেদন করেন ইওরোপের মানবাধিকার আদালতে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ সরকার সেই আবেদন খারিজ করে। বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি‌ চাওলাকে হেফাজতে নেওয়ার অধিকার পায় দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে চাওলা দিল্লি ফেরেন দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের টিমের সঙ্গেই।
২০০০ সালে গুলশন কুমারের ভাই কৃষাণ কুমারের ফোন ট্যাপ করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশ ইঙ্গিত পায় ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ গড়াপেটা হচ্ছে। তাদের হাতে আসে চাওলা–ক্রোনিয়ের কথোপকথনের রেকর্ডিং নিয়ে কনস্টেবল ওমপ্রকাশ যান ডিসিপি প্রদীপ শ্রীবাস্তবের কাছে। রেকর্ডিংয়ের কণ্ঠস্বর মন দিয়ে শোনেন ওই অফিসার। দিনকয়েক পরে টিভিতে ক্রোনিয়েকে ধারাভাষ্যকারদের বক্সে কথা বলতে শুনতে চমকে ওঠেন তিনি। দূরদর্শন থেকে রেকর্ডিং আনিয়ে ক্রোনিয়ের গলা মিলিয়ে দেখেন ইনস্পেক্টর ঈশ্বর সিং। ২০০০ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহেই দিল্লি পুলিশ এফআইআর করে। যা ঝড় তোলে ক্রিকেট বিশ্বে। ‌

দিল্লি পুলিশের হেফাজতে সঞ্জীব চাওলা 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top