দেবাশিস দত্ত: খুব একটা নিশ্চিত নন যে, বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডকে তঁার দল হারাতে পারবে। তবে মনেপ্রাণে চাইছিলেন ভারত–অস্ট্রেলিয়া যেন লর্ডসে ফাইনাল খেলে। ‘ফ্যানাটিক্‌স’–এর প্রোগ্রামে এসে ভারতীয় সমর্থকদের সঙ্গে যথেচ্ছ সেলফি তোলার পর হাতে তুলে নিলেন রেড ওয়াইনের গ্লাস। মাইকেল ক্লার্ককে বিন্দাস মেজাজে পাওয়া গেল। 
• দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়াকে নড়বড়ে মনে হচ্ছে কেন?‌
মাইকেল ক্লার্ক:‌ আমি কথা বললাম দলের কয়েকজনের সঙ্গে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের ব্যাপারটা থেকে ওরা যেন বেরোতে পারছে না। এমনিতে কিছু বলছে না। তবে কথা বললেই বুঝতে পারা যাচ্ছে, ওই শকটা ওরা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। 
• মাঝের ক’দিনে গুছিয়ে নিতে পারবে না?‌ অস্ট্রেলিয়ার সমস্যাটা কোথায় কোথায়?‌
ক্লার্ক:‌ পারলে ভাল। ওদের জানা উচিত, ইংল্যান্ডকে হারালেই বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেটা অবশ্যই একটা বিগ মোটিভেশন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সমস্যা চোট। শন মার্শ দেশে ফিরে গেছে। খোয়াজার চোট। অনেকেই হয়তো জানে না, মিচেল স্টার্কের হঁাটুতে চোট আছে। ওটা নিয়েই ও খেলছে। মাঝেমধ্যে যে দুর্ধর্ষ ডেলিভারি করছে না, তা নয়। তবে সেমিফাইনাল–ফাইনাল জিততে হলে একস্ট্রা শার্প হতে হবে।
• ২০১৫ বিশ্বকাপে আপনি ক্যাপ্টেন। পিঠের ব্যথায় কাবু থাকা সত্ত্বেও সেঞ্চুরি করেন। নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
ক্লার্ক:‌ সেঞ্চুরিটা পেয়ে গিয়েছিলাম। নিউজিল্যান্ড খুব ভাল খেলছিল সেবার। ফাইনালে ওরাই ফেবারিট ছিল। আমি চেয়েছিলাম, আমার ক্যাপ্টেনসিতে যেন অস্ট্রেলিয়াকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারি। থ্যাঙ্ক গড, দেশকে চ্যাম্পিয়ন করতে ওইরকম একটা লম্বা ইনিংস দরকার ছিল। ফরচুনেটলি একটা বড় ভূমিকা রাখতে পেরেছিলাম।
• এবার কী হবে?‌
ক্লার্ক:‌ অস্ট্রেলিয়া একটু পিছিয়েই শুরু করবে। ইংল্যান্ড নিজেদের দেশে খেলবে। পরিচিত পরিবেশ। তিন ম্যাচ হারার পর যেভাবে ভারতকে হারিয়েছে, ইওয়িন মর্গানদের শিবিরে স্পিরিট থাকবে তুঙ্গে।
• আর কোনও কারণ?‌
ক্লার্ক:‌ ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডারটা খুব মজবুত। জেসন রয় দারুণ ফর্মে। বাটলার, স্টোকস মিডল অর্ডারে থাকায় টপ অর্ডার অনেকটা নিশ্চিন্ত মনে ব্যাট করতে পারে। নিউজিল্যান্ড আর ভারতের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা এবার এখানে ততটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারছে না। ইংল্যান্ড ইজ আ টপ সাইড। কোনও সন্দেহ নেই।
• ফাইনালে উঠবে ইংল্যান্ড?‌
ক্লার্ক:‌ বলা কঠিন। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড অবশ্যই ফেবারিট। ওদের ব্যাটিং গভীরতা বেশি। অলরাউন্ডাররা ভাল ফর্মে আছে। তবে আমাদের দলের বোলিং বিভাগ সামগ্রিকভাবে একটু এগিয়ে থাকবে।
• স্টার্কের তো চোট?‌ তবু অস্ট্রেলিয়ার বোলিংকে এগিয়ে রাখতে চান?‌
ক্লার্ক:‌ আমি জানি না নাথন লায়নকে খেলানো হবে কিনা। ওকে খেলালে ইট উড বি আ গুড মুভ। রান চেক করতে নাথন ওস্তাদ। খুব বুদ্ধিমান। বার্মিংহামে ওকে খেলানো উচিত। বরাবর আমরা জোরে বোলিং বিভাগকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছি। ২০১৯ সালেও তাই। তবে নাথন কিন্তু নিঃশব্দে নিজেকে প্রস্তুত রাখে বড় ম্যাচের জন্য। এক বছর আগে অস্ট্রেলিয়া দল সম্পর্কে এতটা আশাবাদী কেউ ছিল না। কিন্তু এখন ওয়ার্নার–স্মিথ ফিরে এসেছে। স্টার্কও প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছে। সব মিলিয়ে ভাল একটা ছন্দ তৈরি হয়েছে। এই বিশ্বকাপে চমৎকার শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। মাঝে একটু ভাটা পড়েছিল। বিশ্বাস করুন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হারটা এখনও আমি ব্যক্তিগতভাবে হজম করতে পারিনি।
• কে বলতে পারে, ওই হারটাই দলকে আবার তাতিয়ে দিতে পারে।
ক্লার্ক:‌ আই হোপ সো। আমি নিজেও তো চাই দলটা ঘুরে দঁাড়াক। ওয়ার্নারের মতো উদ্দীপ্ত ব্যাটিং আরও অন্তত দু’‌জন করতে পারলে দলটা অনেক ভাল হয়ে যাবে। তবেই ইংল্যান্ডের সঙ্গে লড়াইটা জমাতে পারবে। বৃহস্পতিবারের ম্যাচটা কিন্তু ফিফটি–ফিফটি।
• এই তো বললেন ইংল্যান্ড ফেবারিট?‌
ক্লার্ক:‌ আবারও একই কথা বলছি। তবে এই দু’‌দলের মধ্যে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে, সেটা মাথায় রাখলে প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি থাকে ফিফটি–ফিফটি। অ্যাশেজ শুরু হবে বিশ্বকাপের পরেই। তখনও বলব ফিফটি–ফিফটি সিচুয়েশনের কথা। মন চাইছে অস্ট্রেলিয়া জিতে ফাইনাল খেলুক। ইংল্যান্ড যে অপরাজেয় নয়, এটা তো এবারের বিশ্বকাপে তিনটে দল প্রমাণ করে দিয়েছে। এমনকী, শ্রীলঙ্কাও হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। এসব মাথায় রেখেই সেমিফাইনাল খেলতে নামুক অ্যারন ফিঞ্চরা। আমি একটা কথাই ওদের বলব, নার্ভাস হোয়ো না।
• এবারের বিশ্বকাপে সেরা ব্যাটসম্যান আর সেরা বোলার?
ক্লার্ক:‌ ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা। বোলার দু’‌জনকে বাছতে হবে। এই সম্মানটা পাওয়া উচিত যৌথভাবে যশপ্রীত বুমরা আর মিচেল স্টার্কের। স্টার্ক কিন্তু হঁাটুর চোট নিয়েই বিপজ্জনক বোলিং করে যাচ্ছে।‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top