মুনাল চট্টপাধ্যায়- সোমবার সকালে রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলারদের নিয়ে মাঠের মাঝে অনুশীলনে ব্যস্ত কোচ খালিদ জামিল। তখনই মোহনবাগান মাঠে হাজির ৯৭-‌৯৮ মরশুমে বাগানকে প্রথমবার জাতীয় লিগ চ্যাম্পিয়ন করা কোচ টি কে চাটুনি। দীর্ঘদিন পর বদলে যাওয়া মোহনবাগান মাঠ , গ্যালারি ও পরিকাঠামো দেখে আবেহতাড়িত তিনি। ৭৫ বছর বয়সে এখনও টান টান চেহারা। হাসি মুখ। তাঁকে মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে স্বাগত জানান ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ-‌প্রাক্তন ফুটবলার সত্যজিৎ চ্যাটার্জি ও টেনিস সচিব সঞ্জয় ঘোষ। কেরলের মানুষ হলেও কলকাতার প্রতি আলাদা টান ও ভালবাসা আছে চাটুনির। এতই শ্রদ্ধা আছে বাগানের জন্য, মাঠে ঢুকে মাটি ছুঁয়ে প্রণাম করলেন তিনি। মাঠের ধারে বসে বেশ কিছুক্ষণ দেখলেন বাগানের অনুশীলন। চলল দীর্ঘক্ষণ আড্ডা। যার বেশিটাই মোহনবাগানে একবছর কোচিং করানোর সুখানুভূতির স্মৃতিচারণা। বাগানের লনে বর্তমান কোচ খালিদ ও সত্যজিৎ সবুজ মেরুন জার্সি তুলে দিয়ে চাটুনিকে বিশেষ সম্মান জানালেন। কলকাতায় , হঠাৎ করে মোহনবাগানে আসার পিছনে কারণ কী?‌ চাটুনি জানালেন, ‘‌ আমি কেরল পুলিশ, সালগাঁওকার, চার্চিল, মোহনবাগান সহ ভারতের বিভিন্ন ক্লাবে ৪০ বছর ধরে কোচিং করেছি খেলা ছাড়ার পর। সেই সব অভিজ্ঞতা আত্মজীবনীতে ধরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছি। আমার হয়ে সাংবাদিক জাফর খান এটা লিখছে। ইচ্ছা আছে ত্রিচুরে ১৯ আগস্ট আমার ৫০ তম বিবাহবার্ষিকীতে চুনী গোস্বামী, সত্যজিৎ চ্যাটার্জি, বিজয়ন সহ কলকাতা, কেরল ও ভিন রাজ্যের নামী ফুটবলারদের উপস্থিতিতে আত্মজীবনী প্রকাশের।’‌ বইয়ের নাম হতে পারে, ‘‌দ্য ট্রাভেলিং কোচ’‌। চাটুনি বলেন, আত্মজীবিনীর অনেকটা অংশ জুড়েই থাকবে মোহনবাগান ও কলকাতার ফুটবল। মোহনবাগানে একবছর কোচিং করালেও জাতীয় লিগ জেতার একটা অনুভূতি আছে। সেটা সম্ভব হয়েছিল আমার ডান হাত সত্যজিৎ আর বাঁ হাত চিমার জন্য। ওরা আমাকে সবসময় টেনশন মুক্ত রাখত ভাল খেলে, দলের বাকিদের উৎসাহ জুগিয়ে। চিমা আমার দেখা সেরা বিদেশি। ব্যারেটো বা অন্য অনেকেই পরে খেলেছে, কিন্তু আমার সময় চিমার পাওয়ার প্লে ও মনের জোর ছিল দেখার মতো। মনে আছে সালগাঁওকার ম্যাচটা নিয়ে আমি খুব টেনশনে ছিলাম। চিমার পায়ে চোট ছিল। তবু ঘরে এসে বলেছিল, কোচ চিন্তা করবেন না। আমি গোল করে ম্যাচ জেতাব। তাই করেছিল। চিমা আর দীপেন্দুর গোলে জিতেছিলাম। সেই কমিটমেন্ট এখন কোথায়?‌ কলকাতায় এসে পুরোন ফুটবলারদের ফোন পেয়ে,তাদের দেখা পেয়ে ভাল লাগছে।’‌ ইস্টবেঙ্গলে খেলা জবি জাস্টিনের প্রশংসা করে চাটুনি বলেন, ‘‌ জবি লম্বা রেসের ঘোড়া। ধারাবাহিকতা দেখালে অনেক ওপরে উঠবে।’‌ টিভিতে আই লিগের খেলা দেখেন নিয়মতি। মাঠে গিয়েও। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্যাপারে চেন্নাই সিটির থেকে ইস্টবেঙ্গলকেই বেশি এগিয়ে রাখছেন। এদিকে, বাগান কোচ খালিদ মঙ্গলবার থেকে আইজল মাঠের প্রস্তুতিতে পুরোদমে নামবেন। যেহেতু খেলা আইজলের কৃত্রিম ঘাসের মাঠে, তার সঙ্গে মানাতে আজ ও কাল বারাসতের টার্ফে অনুশীলন সারবেন তিনি। খালিদ বললেন, আইজল ম্যাচ জিতলে বাকি তিন ম্যাচে বাড়তি মনোবল পাবে ফুটবলাররা।‌

মোহনবাগানের প্রথম জাতীয় লিগ জয়ের দুই কারিগর। তৎকালীন কোচ চাটুনির হাতে জার্সি তুলে দিচ্ছেন সত্যজিৎ। রয়েছেন বর্তমান কোচ খালিদ জামিলও। ছবি:‌ রাজকুমার মণ্ডল
 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top