বিশ্বজিৎ দাস: টুর্নামেন্টের শুরুতে হোঁচট খাওয়া সত্ত্বেও বোলারদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অধিনায়ক। রোহিত কথাগুলো, যে নিছকই কথার কথা ছিল না, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টসের সময়েই তা প্রমাণ হয়ে গেল। লোকেশ রাহুল, অক্ষর প্যাটেলকে প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। শ্রীলঙ্কার কাছে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে হারের পর, এমন একটা সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছিল। বাস্তবে কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি। দল অপরিবর্তিত রেখেই বাংলাদেশ–বধের নীল নকশা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন রোহিত।
টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত রোহিতের। ইদানীং রান তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ভারতীয় দলের একটা সুনাম রয়েছে। এখানে অবশ্য সিদ্ধান্ত প্রেমদাসা স্টেডিয়ামের ২২ গজের কথা মাথায় রেখে। রোহিত কেন, এই উইকেটে টস জিতলে তিনিও যে শুরুতে বিপক্ষকে ব্যাট করতে পাঠাতেন, সেকথা স্বীকার করেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাও। 
গত এক মাস ধরে সময়টা ভাল যাচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেটে। বৃহস্পতিবারের প্রেমদাসাতেও তার ব্যতিক্রম হল না। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিেয় শেষপর্যন্ত ১৩৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি। অথচ দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার শুরুটা ছন্দেই করেছিলেন। আগের ম্যাচের পাওয়ার প্লে–র ছয় ওভারেই ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে আক্রমণে ঝড় তোলার রণকৌশল নিয়ে সফল হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু এই বাংলাদেশ দলটায় যে কোনও কুশল পেরেরা নেই। তাই প্রত্যাশিতভাবে সাফল্যও আসেনি। তৃতীয় ওভারেই জয়দেব উনাদকাটের বলে চাহালের হাতে ধরা দিয়ে ফিরলেন সৌম্য (১৪)। পঞ্চম ওভারে শার্দূল ঠাকুরের বলেও প্রায় একইরকমভাবে শর্ট ফাইন লেগে উনাদকাটের হাতে ধরা দিলেন তামিম (১৫)। স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ৩৫ রান। পাঁচ ওভারের মধ্যেই দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়েই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। বহু চেষ্টাতেও আর ঘুরে দাঁড়াতে পােরনি তারা।
শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ১৭৪ রানের পুঁজি নিয়েও হারতে হয়েছিল। মূলত বোলারদের অভিজ্ঞতার অভাবেই। ম্যাচের পর থেকে ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল ভারতীয় শিবিরে। কিছুটা হলেও যে ভুল শুধরে নেমেছিল বোলাররা, সেটার প্রমাণ পাওয় গেল। ভারতীয় শিবিরে নবাগত বিজয় শঙ্কর এদিন ফেরালেন মুশফিকুর রহিম (১৮), মাহমুদুল্লাকে (১)। অভিষেকে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গত ম্যাচে সেভাবে সুযোগ পাননি এই অলরাউন্ডার। নিজের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচে মঞ্চ পেয়েই বুঝিয়ে দিলেন, পঞ্চম বোলার হিসেবে তাঁর ওপর ভরসা করাই যায়। কিছুটা চাপের মুখে পড়ে নিজের শেষ ওভার ১০ বলে শেষ করলেও, ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ২ উইকেট বিজয় শঙ্করের নামের পাশে। অন্যপ্রান্ত থেকে উইকেট পড়তে থাকলেও ক্রিজের একদিক আটকে রেখে দলকে টানছিলেন লিটন দাস। পরবর্তী সময়ে তাঁকে যোগ্য সহায়তা করছিলেন সাব্বির রহমান। বাংলাদেশ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান এই দু’জনেরই। কিন্তু ডেথ ওভারে চালিয়ে খেলে রান বাড়ানোর রাস্তায় হাঁটতেই বিপত্তি। চাহালের ফ্লাইটে বোকা বনে সাজঘরে ফিরলেন লিটন (৩৪)। সাব্বিরকে (৩০) ফেরান উনাদকাট। এদিন তিন উইকেট পেলেও এবারের আইপিএলে সাড়ে এগারো কোটি টাকা দর পাওয়া উনাদকাট, ভারতীয় শিবিরের সবচেয়ে বেশি রান খরচ করেছেন। ৪ ওভারে ৩৮। চাহাল, ওয়াশিংটন সুন্দর অবশ্য সেটা ঢেকে দিয়েছেন। তবে ইনিংসে ১১টি ওয়াইড বল করেছেন ভারতীয় বোলাররা। যা নিঃসন্দেহে চিন্তার বিষয় টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে।
হোক না দ্বিতীয় সারির দল। জয়ের জন্য ১৩৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা এই ভারতীয় ব্যাটিংকে চাপে ফেলার জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। খেলা যত গড়িয়েছে, সেটা বিলক্ষণ টের পেয়েছেন মাহমদুল্লারা। ধাওয়ানকে নিেয় মেজাজে শুরু করলেও বড় রান করতে পারেননি রোহিত (১৩ বলে ১৭)। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই মুস্তাফিজুরের বলে উইকেট ভেঙে যায় অধিনায়কের। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪ ওভারে ভারতের স্কোর ৩১/১। ক্রিজে ধাওয়ানের (৮ বলে ১০) সঙ্গে ঋষভ পন্থ (৩ বলে ৫)।‌
স্কোর
বাংলাদেশ:‌ তামিম ক উনাদকাট ব শার্দুল ১৫ (‌১৬)‌, সৌম্য ক চাহাল ব উনাদকাট ১৪ (‌১২)‌, লিটন ক রায়না ব চাহাল ৩৪ (৩০)‌, মুশফিকুর ক কার্তিক ব শঙ্কর ১৮ (‌১৪)‌, মাহমুদুল্লা ক শার্দুল ব শঙ্কর ১ (‌৮)‌, সাব্বির ক কার্তিক ব উনাদকাট ৩০ (২৬)‌, মিরাজ ক মণীশ ব উনাদকাট ৩ (৪)‌, তাসকিন অপরাজিত ৮ (৯)‌, রুবেল রান আউট ০ (‌১)‌, মুস্তাফিজুর অপরাজিত ১ (‌২)‌, অতিরিক্ত ১৫, মোট (‌২০ ওভারে, ৮ উইকেটে) ১৩৯। উইকেট পতন:‌ ১/‌২০, ২/‌৩৫, ৩/‌৬৬, ৪/‌৭২, ৫/‌১০৭, ৬/‌১১৮, ৭/‌১৩৪, ৮/‌১৩৫। বোলিং:‌ উনাদকাট ৪–‌০–‌৩৮–‌৩, ওয়াশিংটন ৪–‌০–‌২৩–‌০, শার্দুল ৪–‌০–‌২৫–‌১, চাহাল ৪–‌০–‌১৯–‌১, শঙ্কর ৪–‌০–‌৩২–‌২। (‌স্কোর অসম্পূর্ণ)‌

মেহেদিকে ফিরিয়ে রোহিতের সঙ্গে উচ্ছ্বাস উনাদকাটের। ছবি:‌ এএফপি

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top