আজকালের প্রতিবেদন: কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিযুক্ত ট্রেনারের ওপর ভরসা নেই। রিহ্যাবের জন্য জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতেও যাওয়াতেও অনীহা। নিজেকে ফিট করে তুলতে আপাতত সেই কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের বাতিল ট্রেনারেরই শরণাপন্ন যশপ্রীত বুমরা। দিল্লি ক্যাপিটালসের ট্রেনার রজনীকান্ত শিবাঙ্গনমের কাছেই ফিরে আসার লড়াই চালাচ্ছেন ভারতের এই জোরে বোলার।
চলতি বছরের আগস্টে ভারতীয় দলের সাপোর্ট স্টাফ টিমের খোলনলচে পাল্টে ফেলেছে কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। স্ট্রেংথ ও কন্ডিশনিং কোচের জন্য আবেদন করেছিলেন রজনীকান্ত। তিনি জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তাঁকে সরিয়ে কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর দায়িত্ব তুলে দেয় নিক ওয়েবের হাতে। প্র‌্যাকটিক্যাল পরীক্ষার জন্য যে প্যানেল তৈরি করা হয়েছিল তাতে জাতীয় নির্বাচকরা ছাড়াও ছিলেন কলকাতার রণদীপ মৈত্র। ওই প্যানেল রজনীকান্তকে সরিয়ে নিক ওয়েব ও লুক উডহাউসের হাতে দায়িত্ব দেয়। 
কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের সাপোর্ট স্টাফ নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বোর্ডের এক শীর্ষকর্তা। তিনি বলেন, ‌‘‌রজনীর কাছে ওই নিয়োগ পদ্ধতি অন্যদের তুলনায় কঠিন ছিল। প্যানেলের এক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জেনেছিলাম, রজনীর সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছিল, তাতে সে অবাক হয়েছিল। রজনীকে জিমে কিছু করে দেখাতে বলা হয়েছিল যা অন্যদের বলা হয়নি। রজনী যে পর্যায়ে কাজ করেছে ওই সদস্য কখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছয়নি। অথচ প্র‌্যাকটিক্যাল পরীক্ষার প্যানেলে সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়ে গেল।’‌ 
বোর্ডের ওই শীর্ষকর্তা আরও বলেন, ‘‌বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল স্ট্রেংথ ও কন্ডিশনিং কোচের বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ট্রেনারের বয়স কেন ৩৫ বছরের কম হতে হবে?‌ এর থেকেই পরিষ্কার যে, কাকে ঢোকানোর আর কাকে বার করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ভারত যখন ২০১১–তে বিশ্বকাপ জিতেছিল তখনকার ট্রেনার রামজি শ্রীনিবাসনের বয়স ছিল ৪২। বোর্ড কেন ধোনি, শচীন, জাহিরদের সঙ্গে কথা বলল না। এখন ক্রিকেটাররা যেভাবে চোট পাচ্ছে, তাতেই সত্যটা বেরিয়ে আসছে।’‌ 
বুমরার ব্যাপারে ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। কারণ, সামনের বছরের শুরুতেই নিউজিল্যান্ড সফর। সেকথা মাথায় রেখে চোট সারানোর জন্য পরামর্শ নিতে তাঁকে ইংল্যান্ড পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। দেশে ফিরে বুমরা জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ট্রেনারের কাছে না গিয়ে হাজির হয়েছেন রজনীকান্তর কাছে। তঁার তত্ত্বাবধানেই দ্রুত ফিট হয়ে উঠছেন বুমরা। আগে অন্য ভারতীয় ক্রিকেটাররাও জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ওপর ভরসা করতে পারেননি। যেমন হার্দিক পান্ডিয়া চোট সারানোর জন্য জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ট্রেনারের কাছে যাননি। 
 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top