Brazil-Serbia: অঘটনের মাঠে নামছে ব্রাজিল

মুনাল চট্টোপাধ্যায়, দোহা

লুসাইল স্টেডিয়ামে স্বপ্নের সন্ধানে নামবে ব্রাজিল।

দোহা থেকে দূরত্ব প্রায় ১৫ কিমি। সাবওয়ে ধরলে এক ঘণ্টাও লাগে না। যেদিকে চোখ যায় পরিপাটি করে সাজানো সব ইমারত। স্কেল মেপে তৈরি যেন সব। দশ বছর আগেও ছিল বালির পাহাড়। এখন সেখানেই চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়া অট্টালিকা।

দরাজ হস্তে ব্যয় করে স্বপ্ননগরী তৈরি করেছে কাতার। পারস্য উপসাগরের পাড়ে তৈরি এই শহরেই সাম্বা ঝলক দেখা যাবে। 
সেই স্বপ্ন ঘিরেই হেক্সা অভিযান শুরু হবে নেইমারদের। শেষ কুড়ি বছর বিশ্বকাপের স্বাদ পায়নি ব্রাজিল। তবুও পাঁচবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা অন্যতম ফেবারিট। বাছাই পর্বে অপরাজিত। তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশ্রণে তৈরি দল আগ্রাসী। শেষ দুই দশকের অধরা ইচ্ছা পূরণ করার জন্য আক্রমণ নির্ভর দল গড়েছেন প্রফেসর কোচ টিটে। আক্রমণভাগেই নয় ফুটবলার। আর এই দলের প্রাণভোমরা নেইমার। প্রস্তুতিতে যেমন প্রাণোচ্ছল, তেমনই নিখুঁত। জুনিয়রদের যেমন আগলে রাখছেন, বল পায়ে ভয়ঙ্কর। 

চার বছর আগেও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে গিয়েছিল ব্রাজিল। তারকাখচিত এই দলের ওপর তাই প্রত্যাশার চাপ তৈরি হচ্ছে। তবুও দিলখোলা এই শিবিরে ফুরফুরে মেজাজ। কোচ টিটে স্বীকার করে নিয়েছেন চাপ তো থাকবেই। তবুও শান্ত। সাংবাদিকদের সামনে স্বভাবসিদ্ধ শান্ত স্বরে বলছেন, ‘চাপ থাকা তো স্বাভাবিক। ব্রাজিলের যা ফুটবল ইতিহাস এবং সংস্কৃতি তাতে এই প্রত্যাশা থাকা অস্বাভাবিক নয়।’ আবার কুড়ি বছরের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়ার পক্ষপাতীও নন টিটে। সব সমালোচনার তুফান দূরে ঠেলে বলেন,  ‘রাশিয়ার আগে মাত্র আড়াই বছর সময় পেয়েছিলাম দল ঠিক করার। এখন পরিস্থিতি আলাদা। কারণ আমি দল গড়ার সময় পেয়েছি। আর আমার দল তৈরি। এখনও পর্যন্ত যা প্রস্তুতি হয়েছে তাতে আমি মোটেও চিন্তিত নই।’
প্রতিপক্ষ সার্বিয়াও খুব অচেনা নয় এই ব্রাজিলের। চার বছর আগেও গ্রুপ পর্বে সার্বিয়াকে দুই গোলে হারিয়েছিল সাম্বা দল। সুন্দর ফুটবল উপহার দেওয়ার সঙ্গেই ধোঁয়াশা তৈরি করেছেন নিজের দল নিয়েও। টিটের দলে ন'জন ফরোয়ার্ড। কিন্তু সার্বিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসী দল গড়বেন নাকি রক্ষণাত্মক তা এখনও স্পষ্ট করেননি। নেইমারের সঙ্গে যেমন ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে প্রথম একাদশে রেখে অনুশীলন করিয়েছেন। আবার ফ্রেডকেও খেলিয়ে দেখে নিয়েছেন। তবে প্রথম একাদশ কী হবে তা বলে বিপক্ষের সুবিধা করে দিতে রাজি নন। অনুশীলনে নামার আগে বলেন, ‘আমার দল তৈরি। তবে প্রথম একাদশ বলে আমি বিপক্ষ দলের সুবিধা করে দিতে চাই না।’

এই লুসাইল স্টেডিয়ামেই অঘটন ঘটিয়েছে সৌদি আরব। ফেবারিট আর্জেন্টিনাকে প্রথম ম্যাচে হারের স্বাদ দিয়েছে। সেই মাঠেই ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে খেলবেন নেইমাররা। যদিও নেইমারকে চাপমুক্ত রাখার চেষ্টাই করেছেন কোচ। ব্রাজিলের অধিনায়ক হিসাবে থিয়াগো সিলভাকে বেছে নিয়েছেন। চার বছর আগে রাশিয়ায় সার্বিয়ার বিরুদ্ধে অন্যতম গোলদাতা সিলভা। পারস্য উপসাগর তীরের এই স্টেডিয়ামে আশা ভঙ্গ হবে না, সেই নিশ্চয়তা দিয়েই মাঠে নামবে সাম্বা শিবির। 
লুসাইল প্লাজা কমপ্লেক্স, মেরিনা টুইন টাওয়ার, সেন্ট্রাল এরিয়া—চোখের সামনে দেখলে ভাষা হারিয়ে যেতে বাধ্য। বিশ্বকাপ চলাকালীন সমর্থকদের ভিড় জমছে কাটারা টাওয়ার ঘিরে। অবাক করার মতো স্থাপত্য। তেমনই চমক রয়েছে ব্রাজিল শিবিরেও। তাঁদের ঘিরেও উৎসাহ আর আবেগের আভাব নেই। মাঠে গোল করে উৎসব করার জন্য তৈরি জোগো বোনিতোর দেশ। 
‌‌

আকর্ষণীয় খবর