মুনাল চট্টোপাধ্যায়: ‌ডোনা জ্যাকবের বয়স ২৯। মুম্বইয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। ক্লিফিন ফ্রান্সিসেরও বয়স ২৯। কোচির স্কুল শিক্ষক। হাসিব আশানের বয়স ৩২। অ্াডভেঞ্চারের নেশায় বেঙ্গালুরুর আমাজন ইন্ডিয়ার চাকরি ছেড়েছেন। তিন বন্ধু। যাঁরা ‘‌স্নেল্‌স অন হুইল্‌স’‌ নামে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। কোচিতে বাড়ি। স্কুলও একসঙ্গে। কর্মসূত্রে তিন বন্ধু ভিন্ন শহরে চলে গেলেও যোগাযোগ নষ্ট হয়নি। বরং সুযোগ পেলেই তিন জন অ্যাডভেঞ্চারে বেরিয়ে পড়েন। সাইকেলে চেপে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত যান ভিন্ন ভিন্ন বার্তা নিয়ে। 
এবার ৮ মাসের অভিনব ও কষ্টসাধ্য সফরে বেরিয়েছেন। কোচি থেকে টোকিও পৌঁছবেন। উদ্দেশ্য ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে যাওয়া ‘‌চিয়ার ইন্ডিয়া’‌ স্লোগান সামনে রেখে। অভিযান শুরু করেছেন ১৫ ডিসেম্বর। ২২০ দিনে ১০,০০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে টোকিও পৌঁছানোর পরিকল্পনা ২৪ জুলাই। তিন সাইক্লিস্ট এখন কলকাতায়। তাঁদের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন রাজ্যের সাইক্লিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। তিন জন শহরে থাকবেন ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পরদিন বেনাপোল সীমান্ত হয়ে ঢুকবেন বাংলাদেশে। তারপর মায়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম, চীন হয়ে জাপান। গোটা অভিযান স্থলপথে সাইকেলে হলেও চীন থেকে জাপানে ঢুকতে অল্প পথ জাহাজে পেরোতে হবে। 
হাসিব বলছেন, ‘‌আমার এটা প্রথম বড় অভিযান। ডোনা ও ক্লিফিনের এই ধরনের অভিজ্ঞতা আছে। ক্লিফিন ২০১৮ সালে সাইকেলে দুবাই থেকে মস্কো গিয়েছিল রাশিয়া বিশ্বকাপে। রাশিয়ায় এক শহর থেকে অন্য শহরে গিয়েছিল সাইকেলেই। ডোনা মেক্সিকোয় ভারতীয় সফটওয়্যার কোম্পানির হয়ে কাজ করার সময় সাইকেলে ২৮ দিনে ১,০০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছিল কিউবার গ্রাম ও টোবাকো ফিল্ডে।’ তিন বন্ধু এই অভিযানে বিভিন্ন শহর থেকে টোকিও অলিম্পিকে ভারতীয় অ্যাথলিটদের জন্য শুভেচ্ছা সংগ্রহ করছেন। তা গেমস ভিলেজে ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার কর্তাদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। অভিযানের সময় ভারতীয় দলের গোলকিপার শ্রীজেসের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তিনি অভিযানের সাফল্য কামনা করেছেন। টোকিওতে দেখাও করতে বলেছেন। তাঁদের ইচ্ছা আছে, অভিযানে তোলা ছবি ও ভিডিও নিয়ে অলিম্পিক চলাকালীন প্রদর্শনী আয়োজনের।
অভিযানের খরচ কীভাবে উঠছে?‌ রোজ কত ঘন্টা সাইকেল চালাতে হয়?‌ হাসিবের জবাব, ‘বড় স্পনসর দরকার।‌ বার্গামন্ট নামে এক সাইকেল প্রস্তুতকারক কোম্পানির আংশিক সাহায্য মিলেছে। তবে থাকা–খাওয়া ও পথের অন্যান্য খরচ সামলাতে হচ্ছে পকেট থেকে। পিঠে ৩০ কেজি ওজনের ব্যাগ নিয়ে দিনে ৬ ঘন্টা সাইকেল চালাই ২০০ কিমি পেরোনার টার্গেট নিয়ে। শুকনো খাবার, হাল্কা বাসনপত্র, ফোল্ডিং টেবিল, জামাকাপড় ও সাইকেল সারানোর সরঞ্জাম থাকে। খরচ বাঁচাতে স্থানীয় গির্জা বা মঠে রাত কাটাই। বন্ধু, শুভাকাঙ্খীরাও রাতে ঠাঁই দেন।’ সমস্যা পানীয় জলের। প্লাস্টিক বর্জনের অঙ্গীকারও অভিযানের অঙ্গ হওয়ায় পথে বিভিন্ন জায়গায় টিউবওয়েল বা কলের জল খেয়ে ডায়েরিয়া হয়েছে। তবে ওষুধ ধরেছে। এখন তাঁদের চিন্তা চীনে করোনা ভাইরাস। আশা, জুনে চীনে পৌঁছনোর সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসে যাবে। নইলে শেষ পর্যায়ের রুট কিছুটা বদলাতে হবে।‌ 

তিন বন্ধু ক্লিফিন ফ্রান্সিস, ডোনা জ্যাকব এবং হাসিব আশান। ছবি: আজকাল

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top