অগ্নি পান্ডে: লক্ষ্য ১২ বলে ১৯ রান। হাতে তিনটি উইকেট। সহজ নিয়মে এখনকার সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এই রান হামেশাই হয়ে যায়। কিন্তু হল না! ২ বল বাকি থাকতেই অলআউট বাংলা! এবারের মতো বিজয় হাজারে ট্রফির অভিযান শেষ। শূন্য হাতেই থাকতে হল মনোজ তিওয়ারিকে গোটা মরশুম জুড়েই। ভাবা যায় না! এরকম পরিস্থিতি থেকেও ম্যাচ জিততে পারল না বাংলা! কী বলবেন এবার কোচ সাইরাজ বাহুতুলে? সুরেশ রায়নার উত্তরপ্রদেশের বিরুদ্ধে ৭ রানে হেরেই গেল বাংলা। চলতি মরশুমে বাংলার সবচেয়ে খারাপ পারফরমেন্স। রনজি ট্রফি হাতছাড়া। সৈয়দ মুস্তাক আলিতে তথৈবচ অবস্থা। এবার বিজয় হাজারেতে বিপর্যয়। এরপরও কি সামনের মরশুমে বাংলার কোচ হিসেবে দেখা যাবে সাইরাজ বাহুতুলেকে?
অধিনায়ক হিসেবে মনোজ তিওয়ারিকে নিয়ে চাপা অসন্তোষ বাংলা শিবিরে চলছিলই। শুক্রবারের পারফরমেন্সের পর হলফ করে বলেই দেওয়া যায়, সামনের মরশুমে অধিনায়ক হিসেবে মনোজ তিওয়ারির নাম সিএবি সভাপতির ঘরে আর উঠবে না। এখন দেখার, কোচ হিসেবে বাহুতুলেকেও আদৌ রাখতে ইচ্ছুক হবেন কিনা সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি? সিএবি–তে জানা গেল, সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
শুক্রবার হিমাচলের বিলাসপুরে উত্তরপ্রদেশ প্রথমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩২৯/৪ তোলে। বাংলার বোলারদের বিরুদ্ধে চুটিয়ে ব্যাট করেছেন উত্তরপ্রদেশের আকাশদীপ নাথ (অপরাজিত ১০৩), ওপেনার প্রশান্ত গুপ্ত (৬০), উমঙ্গ শর্মা (৫১), মহম্মদ সইফ (অপরাজিত ৫০) এবং অধিনায়ক সুরেশ রায়না (৩১)। বাংলার বোলাররা কেউই আশানুরূপ বোলিং করতে পারেননি, তা উত্তরপ্রদেশের রান দেখেই বোঝা সম্ভব।
৫০ ওভারে ৩৩০ লক্ষ্য খুব একটা কঠিন কাজ নয়। শুরুতেই বাংলার ওপেনাররা ফিরে যান। ওপেনাররা বিজয় হাজারেতে বারবার ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও এই ম্যাচেও কেন অভিষেক রামনকে খেলানো হল না, তা নিয়ে বাংলা শিবির থেকে কোনও সদুত্তর নেই। কিন্তু ময়নাতদন্তে যে ঝড় উঠবে সিএবি–তে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আন্তরিক চেষ্টা করলেন বাঁহাতি বিবেক সিং (১৪৭) এবং অনুষ্টুপ মজুমদার (৫১)। এই দুই ব্যাটসম্যানের চেষ্টা ছাড়া আর কোনও বাংলার ব্যাটসম্যান রান করতেই পারেননি। উত্তরপ্রদেশের বিরুদ্ধে ৫০তম ওভারে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করা উচিত ছিল বাংলার ব্যাটসম্যানদের। টেলএন্ডারদের নিয়ে বাংলার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সুমন্ত গুপ্ত পারলেন না। উত্তরপ্রদেশের জোরে বোলার অঙ্কিত রাজপুতের বোলিংয়ে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে সুমন্ত ফিরে যেতেই বাংলার সব আশা শেষ। বাংলা ৪৯.৪ ওভারে ৩২২ রানে স্তব্ধ হয়ে গেল। তীরে এসে তরী ডুবল। বিলাসপুরের বাইশগজ ছিল ব্যািটং সহায়ক। এমনকি উত্তরপ্রদেশ বোলাররাও আহামরি কিছু বোলিং করেননি। তা সত্ত্বেও পারলেন না বাংলার ব্যাটসম্যানরা।
বাংলার বিপর্যয় নিয়ে ব্যাপক ক্ষিপ্ত সিনিয়র এক নির্বাচক। শুক্রবার বিকেলে তিনি পরিষ্কার বলে দিলেন, ‘দল ফিরুক। আমরা সভাপতির সঙ্গে কথা বলব। গোটা মরশুম জুড়ে এত ধারাবাহিক ব্যর্থতা সাম্প্রতিককালে দেখা যায়নি। জঘন্য পারফরমেন্স। জানি না, কোচ এবং অধিনায়ক কী এগারো বেছেছে? ঠিকই তো অভিষেক রামনকে খেলানো উচিত ছিল। কেন খেলানো হল না, তা কলকাতায় বসে বলা সম্ভব নয়। তবে, খেলানো উচিত ছিল সেটা বলতে কোনও দ্বিধা নেই।’ কী বলছেন অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি? মোবাইলে উত্তর নেই। কী বলছেন বাহুতুলে? আমতা আমতা করে উত্তর দিলেন, ‘ভাল খেলেও হেরে যেতে হল। শেষ দিকে ছেলেরা পারল না। জানি না এখনও কোনও সম্ভাবনা রয়েছে কিনা!‌ এখন তিনটে ম্যাচ বাকি। সেই ম্যাচগুলো জেতার চেষ্টা করতে হবে।’ বুঝুন ঠেলা। প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গিয়েও এখনও চেষ্টা! হ্যাঁ, বাংলার এই কোচের পক্ষেই এমন কথা বলা সম্ভব। জ্বর থাকার কারণে বাকি তিনটি ম্যাচ খেলবেন না দিন্দা। তিনি কলকাতায় ফিরে আসছেন। দিন্দার বদলি হিসেবে হিমাচলে যাচ্ছেন বি অমিত এবং অলোকপ্রতাপ সিং। সিএবি যুগ্ম সচিব অভিষেক ডালমিয়া বাংলার শোচনীয় পারফরমেন্স প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘এখনও তিনটে ম্যাচ বাকি। দল কলকাতায় ফিরুক। তারপরই যা বলার বলব।’‌

‌বিবেকের ১৪৭ রানেও শেষরক্ষা হল না। মাথায় হাত মনোজের। 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top