Argentina-Netherlands: স্বপ্ন দেখাচ্ছেন মেসি, টাইব্রেকারে ডাচদের হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা - (২) (মোলিনো, মেসি-পেনাল্টি)

নেদারল্যান্ডস - (২) (উইঘার্স্ট-২)

আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপে টিকে থাকলেন লিওনেল মেসি, বেঁচে থাকল আর্জেন্টিনা। মার্টিনেজ শেষ পেনাল্টি মারা মাত্র দু'হাত মুঠো করে মাঠে দৌড়ে গেলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। ভাসলেন আবেগের লাভাস্রোতে। মাঠেই উচ্ছ্বাসে মাতলেন সতীর্থদের সঙ্গে। কাতার বিশ্বকাপ কি তাহলে লিওনেল মেসির? ঘটনাপ্রবাহ সেদিকেই এগোচ্ছে। শুক্রবার রাতে লুসেইল স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ চারে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময় ম্যাচ ২-২ শেষ হয়। নীল-সাদার গোলদাতা মোলিনা এবং মেসি। ডাচদের জোড়া গোল উইঘার্স্টের। অতিরিক্ত সময় রেজাল্ট একই। একাধিক আক্রমণ করলেও স্কোরলাইন বদলাতে পারেনি অ্যালবিসিলেস্তেরা।‌ শেষমেষ টাইব্রেকারে নিজেদের সুনাম বজায় রাখল স্কালোনির দল। আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন মেসি, পারেদেজ, মন্টিয়েল এবং মার্টিনেজ। একমাত্র বাইরে মারেন এনজো ফার্নান্দেজ। অন্যদিকে শুরুতেই মিস করেন ভার্জিল ভ্যান ডাইক। ডাচদের প্রথম শট বাঁচিয়ে দেন মার্টিনেজ। বারগুইসের দ্বিতীয় শটও সেভ করেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার। পরের তিনটে পেনাল্টিতে কুপমেইনার্স, উইঘার্স্ট, ডি জং গোল করলেও ডাচ কিপার নোপার্ট বিপক্ষের কোনও শট রুখতে পারেননি। ২০১৪ বিশ্বকাপের বদলা নিতে চেয়েছিলেন লুই ভ্যান গাল। ব্রাজিলে সেবারও টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। এবারও তার পুনরাবৃত্তি। বাঙালিদের বিশ্বকাপ বাঁচিয়ে রাখলেন মেসি। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া ফেভারিটদের হারালেও তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে ব্যর্থ ডাচরা। নেইমার না পারলেও পারলেন মেসি। প্রায় একক কৃতিত্বে দলকে সেমিফাইনালে তুললেন। প্রথমে গোল করালেন, তারপর পেনাল্টি থেকে গোল করলেন। টাইব্রেকারেও গোল পান মেসি। বিশ্বকাপে গোল সংখ্যায় ছুঁয়ে ফেললেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে। দু'জনেরই ১০ গোল। বক্সের মধ্যে আকুনাকে ফাউল করেন ডেমফ্রিস। পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। এবার আর কোনও ভুল করেননি মেসি। গোলকিপারের বাঁ দিক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। দর্শকের ভূমিকায় গোল দেখা ছাড়া কিছু করার ছিল না নোপার্টের। লুসেইল আচ্ছন্ন মেসি ম্যানিয়ায়। কিন্তু ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে জোড়া গোল শোধ দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ডাচরা।‌‌ নেইমারের পর আরও একটি নক্ষত্রপতনের আশঙ্কায় ছিল ফুটবলবিশ্ব। কিন্তু এবার মেসির ওপর প্রসন্ন ফুটবল দেবতা। আরও একজনের কথা না বললেই নয়, তিনি এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। টাইব্রেকারে জোড়া সেভ করে দলকে জেতান আর্জেন্টাইন কিপার। সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যান বলছে, নীল-সাদা জার্সিধারীরা এই পর্যায়ে গেলে ফাইনালেও ওঠে। 

বাঙালির অর্ধেক বিশ্বকাপ ব্রাজিলের হারের সঙ্গেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।

অর্ধেকটা বাকি ছিল। নির্ভর করছিল আর্জেন্টিনার ওপর, বিশেষ করে মেসির ওপর। নিরাশ করেননি আধুনিক ফুটবলের রাজপুত্র। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে মেসির ম্যাজিকাল পাস। প্রায় ৩০ গজ দূরে বল ধরেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ঘাড়ে দু'তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কোনাকুনি নিখুঁত পাস বাড়ান মোলিনাকে। বল রিসিভ করে আগুয়ান ডাচ গোলকিপারকে কাটিয়ে বল জালে রাখেন মোলিনা। প্রথম পজিটিভ সুযোগ থেকেই গোল আর্জেন্টিনার। নয়তো প্রথম ৩০ মিনিট বল মূলত মাঝমাঠেই ঘোরাফেরা করে। গোল লক্ষ্য করে কোনও পজিটিভ সুযোগ ছিল না দুই দলেরই। এদিনও ডি মারিয়াকে ছাড়া মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠ ভারী করে ৩-৫-২ ফরমেশনে দল সাজায় দুই কোচই। প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় বল নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করে দু'দলই। প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যে দু'বার আর্জেন্টিনার বক্সে ঢুকে পড়েন ডিপে, ডেমফ্রিস, গাকপোরা। কিন্তু বিপদ সৃষ্টি হয়নি। ম্যাচের আগে মেসিকে আটকানোর কৌশল নিজেই বাতলে দিয়েছিলেন ভ্যান গাল। সেই অনুযায়ী কড়া মার্কিংয়ে রাখা হয় আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে। তারকা ফুটবলার পায়ে বল পেলেই তাঁকে তিনদিন থেকে ছেকে ধরছিল ভার্জিল ভ্যান ডাইক, ফ্র্যাঙ্কি ডি জংরা।‌ তারমধ্যে থেকে একবার ছিটকে বেরিয়েই সতীর্থ মোলিনাকে দিয়ে গোল করালেন। কাতার বিশ্বকাপে এই প্রথম আগে গোল হজম করে ডাচরা।‌

আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার পর খেলায় প্রাণ ফেরে। সাবধানী ফুটবলের খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে আসার চেষ্টা করে দুই দলই। ব্যবধান বাড়ানোর একটা হাফ চান্স এসেছিল মেসির সামনে। কিন্তু তাঁর ডান পায়ের শট গোলকিপার আটকে দেয়। ম্যাচের ৬২ মিনিটে গোল পেতে পারতেন মেসি। কিন্তু তাঁর ফ্রিকিক ক্রসপিস ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। অবশ্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে কাতার বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোল তুলে নেন মেসি। আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হয়েছিল শেষ চার নিশ্চিত। কিন্তু ফুটবলে আগাম ভবিষ্যদ্বাণী চলে না। অবিশ্বাস্য কামব্যাক নেদারল্যান্ডসের।‌ জোড়া গোল করেন পরিবর্ত ফুটবলার ওয়াউট উইঘার্স্ট। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে হেডে ২-১ করেন ডাচ স্ট্রাইকার। বারঘুইসের ক্রস থেকে ফ্লিকে গোল করেন উইঘার্স্ট। এটাই নেদারল্যান্ডসের গোল লক্ষ্য করে প্রথম শট। ব্যবধান কমানোর পর আর্জেন্টিনা রক্ষণে চাপ বাড়ায় ডাচরা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে বক্সের ঠিক মাথায় ডাচদের ফ্রিকিক দিয়ে বসে আর্জেন্টিনা। বল হওয়ায় না ভাসিয়ে মানব প্রাচীরের দিকে বাড়ান কুপমেইনার্স। ম্যাচের ৯০+১১ মিনিটে ডান পায়ে রিসিভ করে বাঁ পায়ের গড়ানো শটে ২-২ করেন উইঘার্স্ট। এক্সট্রা টাইমের শেষ পাঁচ মিনিট ডাচদের সাঁড়াশির মতো চেপে ধরেন মেসিরা। কিন্তু ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায় ভ্যান গালের দল। একেবারে অন্তিমলগ্নে মার্টিনেজের শট পোস্টে লাগে। তবে শেষপর্যন্ত শেষ হাসি হাসলেন মেসিরা। আরও একবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় রুদ গুলিট, মার্কো ভ্যান বাস্তেনের দেশের। 

আকর্ষণীয় খবর