বিশ্বজিৎ দাস,কটক: খানিক অপ্রত্যাশিতভাবে বৃহস্পতিবার সকালে গোটা কটক শহরটাই কুয়াশায় চাদরে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। মহানদী ব্রিজ থেকে দু’‌পাশটা তখন যেন দৃশ্যমানতা হারিয়ে ফেলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এমন ঘটনায় যারপরনাই হতবম্ব। তবে সময় যত এগিয়েছে রোদের তেজ বেড়েছে। কুয়াশার চাদর সরিয়ে আকাশ ক্রমশ ঝকঝকে হয়েছে।
নিছকই কাকতালীয়। শহরের এদিনের পরিবেশের সঙ্গে ড্রিমস ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলা শিবিরের ছবিটা হবহু মিলে যাচ্ছে। সকালে টস হেরে ব্যাট করতে নামা। ম্যাচের প্রথম ঘণ্টাতেই প্রথম সারির পাঁচ ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে ফেলা। বাংলা শিবির তখন যেন কুয়াশাছন্ন। সেখান থেকে প্রথমে শ্রীবৎস গোস্বামী, পরে শাহবাজ আহমেদকে নিয়ে অনুষ্টুপ মজুমদারের লড়াই। দিনের শেষে তাতেই বাংলার আকাশ ঝলমলে।
সকালে বাংলার স্কোর ৪৬/‌৫। সেখান থেকে দিনের শেষে ৩০৮/‌৬। যা নিয়ে দিনের খেলা শেষে বাংলার কোচ অরুণলাল তো মজা করে বলেই দিলেন, ‘‌পরেরবার আমি আর কোনওভাবেই এই দলের দায়িত্বে থাকব না। ওরে বাবা, এই বয়সে এত টেনশেন নেওয়া যায়!‌ আজ তো হার্ট অ্যাটার্ক হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।’‌ ক্রিকেট জীবনের ডাকাবুকো মানসিকতা এই বয়সে এসেও জারি রয়েছে। কিন্তু রনজি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে দিনের প্রথম সেশনেই দলের স্কোর ৪৬/‌৫ হয়ে গেলে যে কারোরই চাপে পড়াটাই যে স্বাভাবিক।
ড্রিমস ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটে অবশ্য তেমন কোনও জুজু ছিল না। দুর্ভেদ্য ছিল না ওডিশা পেস আক্রমণও। বাংলার হারানো ছয় উইকেটের মধ্যে প্রথম তিন ব্যাটসম্যান অভিমন্যু ঈশ্বরণ, কৌশিক ঘোষ, অভিষেক রামন তো নিজেদের উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন। এখানেও চার নম্বরে নামা অর্ণব নন্দী খানিকটা চকিত বাউন্সে উইকেট খুঁইয়েছেন। পাঁচে নামা মনোজ তেওয়ারি, সেই অর্থে দিনের সেরা ডেলিভারিতে এলবিডব্লু হন। আর শ্রীবৎস গোস্বামীর আউটটা নিয়ে তো বিতর্ক, অসন্তোষ জারি। আম্পায়ারের কট বিহাইন্ড সিদ্ধান্তের ক্ষোভ দেখানোয় শাস্তি এড়াতে খেলা শেষে ম্যাচ রেফারির ঘরে গিয়ে ক্ষমাও চেয়ে আসতে হয় তাঁকে।
বাংলার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কেঁপে যাওয়ায় ঘটনায় বসন্ত মোহান্তি, সূর্যকান্ত প্রধানদের কোনও কৃতিত্ব নেই। বরং টস জিতে বাংলা শুরুতে বল করলে ওডিশা শিবিরের ছবিটা আরও করুণ হত বলে দাবি করলেন, ওডিশা ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত সাংবাদিককুল। সকালে অভিমন্যু, রামনকে ফিরিয়ে দেওয়া সূর্যকান্ত সারাদিনে ২২ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৯৬ রান খরচ করেছেন। সবুজ উইকেটেক কথা মাথায় রেখে ওডিশার কিংবদন্তি স্পিনার গুরমীত সিংয়ের পুত্র প্রীত সিং চৌহানকে এদিন অভিষেক ম্যাচে নামিয়ে দেওয়া হয়। নবাগত পেসারের নামের পাশে দুটো উইকেট আছে ঠিকই, কিন্তু যেভাবে দিনভর ফুলটস, হাফভলি বল করে গেলেন, তা কলকাতায় দ্বিতীয় ডিভিশন ক্রিকেটেও অচল। ওডিশার হয়ে শততম রনজিতে নামা দলের সেরা পেসার বসন্ত মোহান্তিও অর্ধশতরানের দোরগড়ায়। ৪৮ রান দিয়ে বসে আছেন।
বিপক্ষ বোলিংয়ের কঙ্কালসার চেহারাটা বের করে আনলেন অনুষ্টুপই। বসন্তের লেট সুইং অকেজো করে দিতে ক্রিজ থেকে দু’‌পা এগিয়ে দাঁড়ালেন। তাতেই সব জারিজুরি শেষ। সূর্যকান্তকে ফ্লিক করে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে হাফ–সেঞ্চুরি এবং গোবিন্দ পোদ্দারকে সুইপ করে মিড উইকেট দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে সেঞ্চুরি করে অনুষ্টুপ দেখিয়ে গেলেন কীভাবে ব্যাট করতে হয়। এদিন চার পেসারে দল সাজিয়েছিল ওডিশা। কোনও স্পিনার রাখেনি। সেটাই দিনের শেষে বুমেরাং।
স্কোর
বাংলা প্রথম ইনিংস:‌ কৌশিক ক পোদ্দার ব মোহান্তি ৯, অভিমন্যু ক ধুপের ব প্রধান ৭, রামন এলবিডব্লু ব প্রধান ১, অর্ণব ক মিশ্র ব কানওয়ার ২৪, মনোজ এলবিডব্লু ব দেবব্রত ৪, অনুষ্টুপ অপরাজিত ১৩৬, শ্রীবৎস ক ধুপের ব কানওয়ার ৩৪, শাহবাজ অপরাজিত ৮২, অতিরিক্ত ১১, মোট (‌৮৬ ওভারে, ৬ উইকেটে)‌ ৩০৮। উইকেট পতন:‌ ১/‌১৭, ২/‌১৭, ৩/‌২৫, ৪/‌৪৬, ৫/‌৪৬, ৬/‌১৪১। বোলিং:‌ মোহান্তি ২০–৬–৪৮–১, প্রধান ২২–৪–৯৬–২, কানওয়ার ১৫–৩–৫২–২, দেবব্রত ১৪–০–৫৪–১, পোদ্দার ১০–০–৩৬–০, মিশ্র ৫–০–১৫–০‌।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top