আজকালের প্রতিবেদন: কান্না-‌হাসির দোলদোলানোর পর্ব মিটিয়ে ইস্টবেঙ্গল কোচ এখন আগের তুলনায় বেশি স্বাভাবিক। এমনকী কর্তা ও মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে যাবতীয় মনোমালিন্য মিটে গেছে, এমনই বললেন খালিদ শুক্রবার প্রচামাধ্যমকে যেচে এগিয়ে এসে। কথাবার্তায় মনে হল তাঁর আচরণে ক্ষুব্ধ ভাস্কর গাঙ্গুলি আবার রাগ ঝেরে ফেলে ক্লাবের কোনও দায়িত্বে ফিরলে তাঁর কথা শুনতে এখন আর কোনও আপত্তি নেই। এই বোধোদয় হতে এত দেরি হল কেন, সেটা অবশ্য দুর্বোধ্য?‌ এদিন সুবোধ বালকের মতো খালিদ বললেন, ‘আর কোনও সমস্যা নেই। একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। সেটা আলোচনাতেই ঠিক হয়ে গেছে। আমি মনোরঞ্জনের পরামর্শ নিচ্ছি। আসলে এখন আর এ সব নিয়ে ভাবার সময় নেই। সামনের মিনার্ভা ম্যাচটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওই ম্যাচটা জিততেই হবে চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে থাকতে। হৃদয় দিয়ে খেলতে হবে। ঘাম ঝরাতে হবে।’‌ এক সপ্তাহ আগে মনোরঞ্জনকেও বারাসতের মাঠে অনুশীলন করাতে দেননি কোচ খালিদ। মনোরঞ্জন এতে যথেষ্ট অপমানিত বোধ করেছিলেন। ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে বলে পরিচিত সেই মনোরঞ্জনই এখন পরিস্থিতির গুরুত্ব মাথায় রেখে সব মান–অভিমান ভুলে খালিদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। বললেন, ‘এই পরিস্থিতি নতুন নয়। ক্লাবে এর আগেও এসেছে। আমার খেলোয়াড় জীবনে ফেস করেছি। সমর্থকরা ভাল খেললে মাথায় তোলে, খারাপ খেললে দুঃখে বিক্ষোভ দেখায়। এর মধ্যে অল্প কিছু লোক আছে, যারা প্রকৃত সমর্থক নয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ক্লাবের দু’‌একজনকে টার্গেট করে। এটা সমর্থনযোগ্য নয়। আমি চাই ক্লাবের দুঃসময়ে সকলে পাশে থাকুক। এমনকী যে প্রাক্তনদের ক্লাব সম্পর্কে অভিযোগ আছে, চাই তারা বাইরে থেকে কথা না বলে, ক্লাবে এসে কথা বলুক, পরামর্শ দিক। প্রয়োজনে আমি মাধ্যম হিসেবে কাজ করব। আমি খেলার টেকনিকাল দিক নিয়ে কোনও কথা বলব না। তবে এটা বলতে পারি, এ সব পরিস্থিতিতে কোচের একার পক্ষে দলকে সাফল্যের পথে টেনে তোলা সম্ভব নয়। কোচ তো আর মাঠে নেমে খেলে না। মাঠে সেরা দিতে হবে ফুটবলারদের। ম্যাচ জিততে খেলা চলাকালীন ভুলত্রুটি ঠিক করতে বাড়তি ভূমিকা নিতে হবে এ ব্যাপারে। আমরা যখন খেলতাম, তখন নিজেদের মধ্যে আলাদা করে কথা বলতাম। চাগাতাম। জুনিয়রদের সঙ্গে কথা বলে উজ্জীবিত করতাম। মিনার্ভা ম্যাচের আগে ফুটবলাররা এটা করলে কোচের কাজটা কিছুটা হলেও সহজ হবে। চাপ কমবে।’‌ 
মনোরঞ্জন মান–অভিমান সরিয়ে রেখেছেন। কিন্তু তিনি কি পারবেন?‌ তাঁকে ডাকলে কি যাবেন?‌ প্রশ্ন করতেই ভাস্কর গাঙ্গুলি সাফ জানালেন, ‘‌মান–সম্মান অনেক খুইয়েছি। আর রাজি নই। যে কোচ প্লেয়ারদের বিশ্বাস করে না, তার কিছু হবে না। খালিদ টিমের বারোটা বাজিয়েছে।’‌ 
এই পরিস্থিতিতে মনোরঞ্জনের মাথায় অবশ্য ঘুরছে মিনার্ভা ম্যাচ। বলেন, ‘‌মিনার্ভা দলটা শুরু থেকেই ভাল খেলছে। অ্যাটাকে ও ডিফেন্সে ভাল বিদেশি আছে। তবে ওদের হারানো যাবে না এমন নয়। বাকি সব ম্যাচ ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে লড়তে হবে চ্যাম্পিয়ন হতে।’‌ এদিকে, আমনা ফিট হয়ে পুরোদমে প্র‌্যাকটিস করলেন দলের সঙ্গে। প্রস্তুতি ম্যাচে খেললেনও। আমনাকে মাঝমাঠে রেখেই মিনার্ভা বধের ছক কষছেন কোচ খালিদ। গোলে উবেদ। চার ব্যাকে শুরুতে মেহতাব, এডু, সালাম, চুলোভা। পরে মেহতাবের জায়গায় সামাদ। মাঝমাঠে রালতে, আমনা, লোবো, কাৎসুমি। বদলি হিসেবে আসতে পারেন রফিক। আক্রমণে ক্রোমা, ডুডু। আমনা মুখিয়ে আছেন মিনার্ভা ম্যাচে খেলতে। বলেন, ‘চোটের জন্য দলকে সাহায্য করতে না পারায় রীতিমতো খারাপ লাগছিল। এখন ফিট হয়ে খেলার জন্য ছটফট করছি। প্রতিপক্ষ দলে চেঞ্চোর মতো ভাল গোলগেটার আছে। ওকে যেমন খেয়াল রাখতে হবে, তেমন বাকিদেরও। নিজেদের শেপ ঠিক রেখে আক্রমণ শানিয়ে মিনার্ভাকে কাত করা জরুরি।’‌ গত মরশুমে আইজলের মাঠে মোহনবাগান-‌আইজল ম্যাচের ডু অর ডাই পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করতে নারাজ খালিদ ও আমনা। বলেন, ‘মিনার্ভা ম্যাচটা কার্যত ফাইনাল। তবে এটাকে শেষ ম্যাচ ভেবে খেলতে নেমে নিজেদের ওপর চাপ বাড়ালে ভুল হবে। গতবার আইজলের পর আর একটাই ম্যাচ ছিল। এখানে আরও চার ম্যাচ বাকি থাকবে। লড়াই চলবে শেষদিন পর্যন্ত।’‌ অন্যদিকে, উজবেকিস্তান মিডফিল্ডার দিলশদের আসা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কর্তা দেবব্রত সরকার জানান, ‘দিলশদের ভিসা পেতে এক মাস লাগতে পারে। এমন হলে ওকে আনার উদ্দেশ্যটাই নষ্ট হবে। চেষ্টা করছি ভিসা সমস্যা মিটিয়ে ওকে আনতে। সম্ভব না হলে বিকল্প ফুটবলারের কথা ভাবতে হবে।’‌‌‌‌‌

হঠাৎ দেখা। কেরলের অনুশীলনের শেষে সন্দীপ, ইস্টবেঙ্গলের অনুশীলনের শুরুতে অর্ণব। ছবি:‌ রাজকুমার মণ্ডল‌
 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top