সৌমিত্র কুমার রায়: আই লিগের চূড়ান্ত খেতাবি লড়াইয়ের চব্বিশ ঘণ্টা আগে মিনার্ভা এফসি–র গুরুতর অভিযোগে তোলপাড় ভারতীয় ফুটবল।
একেবারে বাজার গরম করা অভিযোগ। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ম্যাচ গড়াপেটা এবং চেন্নাই, মিনার্ভার কোচকে টাকার টোপ দেওয়ার অভিযোগ আনল পাঞ্জাবের দলটি। যা নিয়ে হইচই হওয়াটাই স্বাভাবিক।
মিনার্ভার মালিক রঞ্জিত বাজাজ ফেডারেশনের ইন্টিগ্রিটি অফিসার জাভেদ সিরাজকে চিঠি দিয়ে সরকারি অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগ, চেন্নাই–মিনার্ভা ম্যাচের আগে চেন্নাই কোচ সৌন্দররাজনকে ইস্টবেঙ্গল কর্তা আলভিটো ডিকুনহার তরফে বড় আর্থিক অঙ্কের প্রস্তাব দেওয়া হয়। আলভিটো ফোন করার কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ‘‌কোচ নয়, ওদের ম্যানেজারে ইনগুলাবের সঙ্গে আমার ভাল সম্পর্ক। তাই ওঁকে ফোন করে ভাল খেলার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। ওঁকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম, রঞ্জিত সুবিধের লোক নন। আমরা যখন পাঁচকুলায় খেলতে গিয়েছিলাম, তখন আমাদের বাস দেয়নি। আরও নানা অসভ্যতা করেছিল।’‌ আলভিটোর আরও বক্তব্য, ‘‌গোকুলাম আমাদের হারিয়েছিল। সেই কারনে এরপর গোকুলাম যখন ওঁদের ওখানে খেলতে গিয়েছিল, তখন উনি গোকুলামের ড্রেসিংরুমে গিয়ে নাচানাচি করেছিলেন। এসব বলে চেন্নাইয়ের ম্যানেজারকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম। এখন তো শুনছি চার্চিলকেও বড় টাকার প্রস্তাব দিয়েছে মিনার্ভা।’‌ 
দ্বিতীয় অভিযোগ, মিনার্ভা কোচ খোগেন সিংকে ফোন করে ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার কোচ আবদুল সিদ্দিকি বলেন, বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। িমনার্ভার তরফে দাবি করা হয়, খোগেন সিংকে সামনের মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের কোচ করে দেওয়ার প্রলোভনও দেখানো হয়। বলা হয়, মিনার্ভাতে কোচিং করিয়ে কোনও ভবিষ্যৎ নেই। ওখানে সামনের মরশুমে খোগেনকে সরিয়ে নতুন কোচ আনা হবে। চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পাল্টা বক্তব্য রাখার আগে ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার কোচ সিদ্দিকি এদিন বিকেলে ফোনে গোটা বিষয়টা শুনলেন। তারপর খুব ঠান্ডা গলায় জবাব দিলেন, ‘প্রফেশনাল টিমে আমরা কাজ করি। আমরা পেশাদার। অন্যরা অনেকে অনেক কথা বলবে, সব কথায় কান দেওয়া চলবে না। কাল নেরোকার বিরুদ্ধে ভাইটাল ম্যাচ। আমাদের টিমকে ঘেঁটে দেওয়ার চাল ছাড়া এটা কিছুই নয়। কে কী বলল ওসব নিয়ে ভাবছি না। কালকের ম্যাচটা জিততেই হবে।’ 
প্রসঙ্গত, ইস্টবেঙ্গলের আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে মিনার্ভার পয়েন্ট হারানো দরকার। পাশাপাশি এটাও উল্লেখ করা জরুরি যে, চলতি মরশুমে এ ধরনের অভিযোগ রঞ্জিত প্রথমবার নয়, এর আগেও করেছিলেন। তখন টুইট করে বলেছিলেন, তঁার দলের দুই ফুটবলারকে নাকি ম্যাচ গড়াপেটার জন্য ৩০ লক্ষ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
লাল–হলুদের পক্ষ থেকে মিনার্ভার অভিযোগকে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে ‘ভিত্তিহীন’ বলেও দাবি করা হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, ‘যে কারও বিরুদ্ধে যে কেউ অভিযোগ করতেই পারে। সত্যিটা আগে প্রমাণ হোক, তারপর তো শাস্তির প্রশ্ন উঠবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনও একটা নির্দিষ্ট টিমের থেকেই বারবার অভিযোগ করা হচ্ছে। খেতাব নির্ধারক ম্যাচের আগে আমাদের চাপে ফেলার স্ট্র্যাটেজি হলেও হতে পারে। দেশের ফুটবলে এমন সংস্কৃতি আগে ছিল না। কিন্তু তাতে আমাদের টিমকে খুব একটা চাপে ফেলা যাবে না। ফুটবলাররা শুধুমাত্র নেরোকা ম্যাচে ফোকাস করছে। মিনার্ভার মালিক এরকম অভিযোগ তুলে আসলে ফুটবলেরই ক্ষতি করছেন।’ খবরটা যখন জানাজানি হয়, তখন দেবব্রত সরকার সল্টলেকে দলের প্র্যাকটিসে হাজির ছিলেন। 
বিস্ফোরক অভিযোগ হলেও যতক্ষণ না সত্যি উদঘাটন হচ্ছে, ফেডারেশন ততক্ষণ তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ। এআইএফএফের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত দত্তর কথায়, ‘ফেডারেশনের ইন্টিগ্রিটি অফিসার পুরো বিষয়টা দেখাশোনা করছেন। তিনি প্রয়োজনীয় তদন্ত করবেন। তদন্তের পর অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে তারপর শাস্তি নিয়ে আলোচনা হবে।’
গোটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফুটবল বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, কোনও দলকে হেরে যাওয়ার জন্য অন্য কেউ আর্থিক প্রলোভন দেখাতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে চেন্নাইকে জেতার জন্য টাকার টোপ? এ কী করে সম্ভব? কোনও একটি দলের ম্যাচ জেতা তো বিপক্ষ টিমের খারাপ খেলার ওপর নির্ভর করে। সেখানে মিনার্ভার বিরুদ্ধে চেন্নাইয়ের কোচকে টাকার টোপ দেখিয়ে লাভটা কী? মিনার্ভা মালিকের বারবার এ হেন অভিযোগের পর এরকম নানান প্রশ্ন উঠছে। উত্তর পেতে মিনার্ভা কোচ এবং মিনার্ভা মালিককে ফোনে ধরার চেষ্টা করা হয়। খোগেনের ফোন বন্ধ। বহু চেষ্টার পর রঞ্জিতের জবাব পাওয়া গেল, ‘‌আলভিটো কাকে ফোন করে কী বলেছিলেন, সব আমাদের জানা। সুনন্দ ধরও (‌আই লিগ সিইও)‌ সব জানেন। ওঁকে সব তথ্য প্রমান দিয়েছি।’‌‌‌‌‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top