ডাঃ পল্লব বসুমল্লিক: ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের জন্য সতেরো বছর আগের কুম্বলে–‌স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন অ্যালেক্স ক্যারি।‌‌ তাঁর ইনিংস সবে গড়িয়েছে পঞ্চম বল অবধি। ম্যাচের সেটা অষ্টম ওভারের শেষ বল। আর্চারের ১৩৮ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় ছুটে আসা বল আছড়ে পড়ে হেলমেটে। প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব। উড়ে যাওয়া হেলমেট নিখুঁত দক্ষতায় ক্যারি লুফে নেন ভাগ্যিস। সেটা কোনওভাবে স্টাম্পে আঘাত করলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি আউট হতেন। হেলমেট গ্রিলে বল লেগে তারপর ছিটকে ওঠে মুখে। না, অনিল কুম্বলের মতো ক্যারির চোয়ালের হাড় (‌ম্যান্ডিবল)‌ ভাঙেনি। এখনও যা খবর, চিবুকে গভীর সফট টিস্যু ইনজুরি রয়েছে। ডিপ কাট, মাংস খুবলে বেরিয়ে এসেছে। গোটা মুখে ছড়িয়ে পড়ছে ফোলা ভাব। প্রচণ্ড চেপে বাঁধা স্ট্র‌্যাপিং ব্যান্ডেজ খুলে প্রয়োজনে কয়েকটা সেলাই করতে হতে পারে। প্রধান উদ্দেশ্য, রক্তক্ষরণ বন্ধ করা।
অ্যান্টিগুয়ায় ২০০২ সিরিজে সেটা ছিল চতুর্থ টেস্ট। মার্ভ ডিলনের হঠাৎ লাফানো বলে মুখে চোট পান অনিল কুম্বলে। চোয়ালের হাড় (‌ম্যান্ডিবল) ভেঙে‌ দু’‌টুকরো হয়ে যায়। পরদিনই অস্ত্রোপচারের জন্য বেঙ্গালুরু ফিরে আসার কথা ছিল। ‘‌প্যাভেলিয়নে শুধু শুধু বসে থেকে কী করব?’‌‌ কুম্বলে নিজে জানিয়েছেন, ‘‌জয়ের জন্য কয়েকটা উইকেট দ্রুত প্রয়োজন ছিল। তাই ব্যান্ডেজ বেঁধে নেমে পড়ি’‌। সেদিন টানা ১৪ ওভার বোলিং করেন। তুলে নেন ব্রায়ান লারার মূল্যবান উইকেট। স্যর ভিভ রিচার্ডস পরবর্তী সময়ে বলেন, ‘‌ক্রিকেট মাঠে এর চেয়ে দুঃসাহসী ঘটনা আমি জীবনে কখনও দেখিনি’‌। কুম্বলে প্রচণ্ড যন্ত্রণার হাত থেকে রেহাই পেতে পর পর দু’‌বার ব্যথানাশক ইঞ্জেকশন নিয়ে বোলিং করেছিলেন। আজ স্পোর্টস সায়েন্স অনেক বেশি আধুনিক। সুতরাং ক্যারি সেরা পরিষেবাই পাবেন। এমনকী প্লাস্টিক সার্জারি করা হলে তাঁর মুখে ভবিষ্যতে কোনও ক্ষত বা দাগই থাকবে না।
ক্রিকেট মাঠে এমন কীর্তি আরও রয়েছে যা ইতিমধ্যে ঢুকে গেছে অমর বীরগাথায়। ১৯৬৩ সালে কলিন কাউড্রে ভাঙা হাতেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ব্যাট করতে নামেন। টেস্ট ম্যাচটা বাঁচানোর জন্য দেওয়ালে পিঠ দিয়ে লড়ছিল ইংল্যান্ড। সঙ্গী ব্যাটসম্যান প্রতি ওভারের শেষ বলগুলোয় রান নিয়ে এত ভাল কভার দেন যে কাউড্রে‌কে একটা বলেরও মুখোমুখি হতে হয়নি!‌ ভাঙা চোয়াল নিয়ে দশ নম্বরে ব্যাটিং করা আরেক অস্ট্রেলীয় রিক ম্যাকস্কারের অবদান কে ভুলবে? সেটা ছিল শতবার্ষিকী টেস্ট, যা জিততে মাঠে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। কুম্বলে, কাউড্রে বা ‌ম্যাকস্কারের মতোই ক্রিকেট দুনিয়া ইতিমধ্যে ক্যারির দুঃসাহস, অকুতোভয় মনোভাব এবং না–‌হারার জেদের প্রশংসা শুরু করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধন্য ধন্য বার্তা উপচে পড়ছে।‌‌

১৭ বছর আগের স্মৃতি। কুম্বলের মতো চোয়ালে ব্যান্ডেজ নিয়ে খেললেন ক্যারি। ছবি: এএফপি

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top